বাড়ি বাংলাদেশ *বাংলাদেশের জঙ্গিদের নতুন ঠিকানা আফগানিস্তান*

*বাংলাদেশের জঙ্গিদের নতুন ঠিকানা আফগানিস্তান*

33
*বাংলাদেশের জঙ্গিদের নতুন ঠিকানা আফগানিস্তান*

*আফগানিস্তানে তালেবান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া একটি সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি অঞ্চল এখন তালেবানরা দখল করে নিয়েছেন। আর এটি বাংলাদেশের জন্য আতঙ্কের কারণ সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন জঙ্গি তারা আফগানিস্তানে চলে গেছেন এমন তথ্য দিচ্ছেন একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। ধারণা করা হচ্ছে যে, নব্বইয়ের দশকে যখন আফগানিস্তানে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমানে রাশিয়া) বিরোধী তালেবানদের উত্থান ঘটে, সেই সময় বাংলাদেশে থেকে অনেক জঙ্গি, উগ্র মৌলবাদী আফগানিস্তানে গিয়েছিল জিহাদ করার জন্য। সেই সময় তালেবান নেতারা প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশী যোদ্ধারা তাদেরকে সহযোগিতা করছেন।*

*সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান থেকে সরে যাওয়ার পর টুইন টাওয়ারের হামলার পর মার্কিন অভিযান শুরু হয় এবং সেখানে মার্কিন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। সেসময় ব্যাপকভাবে তালেবানদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। আর এই অভিযানের সময় আফগানিস্তানের জিহাদী উগ্র, মৌলবাদী বাংলাদেশীরা আবার ফিরে আসে। বাংলাদেশে ফিরে এসে তারা চুপচাপ বসে থাকেনি। এরাই বাংলাদেশে ফিরে এসে বিভিন্ন উগ্রবাদী, জঙ্গি, সন্ত্রাসী সংগঠন তৈরি করেছে এবং তারা বাংলাদেশে একটি স্লোগান চালু করেছিল, আমরা সবাই তালেবান বাংলা হবে আফগান। এই স্লোগানকে ঘিরেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের নতুন নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয় এবং এই নেটওয়ার্কে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে পাকিস্তান। তালেবানদের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সবসময় সম্পর্ক ছিল। মার্কিন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, তালেবানদেরকে রক্ষা করা এবং তালেবানদেরকে অস্ত্র সরবরাহ সহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মদদ দিয়েছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা এবং পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। আর তারই অংশ হিসেবেই আফগান ফেরত জঙ্গিরা যখন বাংলাদেশে আসছে তখন তাদেরকে নিয়ে পাকিস্তানি জঙ্গিরা একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে এবং সেই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই বাংলাদেশে ভারতবিরোধী একটি শক্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় জামায়াত ইসলামও অংশগ্রহণ করেছিল এবং ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মদদ দেওয়া ছিল এই সমস্ত জঙ্গিদের অন্যতম কাজ।*

*কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভয়ারণ্য ছিল সেটি বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। আর এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে হোলি আর্টিজেন ঘটনার পর বাংলাদেশে জঙ্গি বিরোধী অভিযান জোরদার হয়। ফলে জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এখন আফগানিস্তানে আবার তালেবান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষিতে জঙ্গিদের নতুন ঠিকানা আফগানিস্তান হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, এখন আফগানিস্তানে তালেবানদের সঙ্গে নৈকট্য করার জন্য বিভিন্ন মহল গোপনে আফগানিস্তানকে অস্ত্র দিবে। তাছাড়া এখন তালেবানদেরকে চীনও সহযোগিতা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন গণমাধ্যম বলছে যে, জো বাইডেন আফগানিস্তানের সৈন্য প্রত্যাহার করে একটি বড় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেখানে এটাও দাবি করা হয়েছে যে, যেভাবে মিয়ানমারের সামরিক জান্তাদেরকে চীন সহযোগিতা করছে ঠিক একইভাবে আফগানিস্তানে তালেবানদেরকে তারা সহযোগিতা করবে। আর এটি যদি করা হয় তাহলে বাংলাদেশেও জঙ্গিবাদীরা তাদের নতুন ঠিকানা ঠিকানা পাবে। তারা আফগানিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং তাদের সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের নেটওয়ার্ক তৈরি করার একটা চেষ্টা করবে।*

পূর্ববর্তী নিবন্ধ*আওয়ামী লীগে পঞ্চপাণ্ডবের উত্থান বলা যাবে?*
পরবর্তী নিবন্ধ*অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন শিল্পা শেঠি পর্নোগ্রাফি কাণ্ডে*