বাড়ি বাংলাদেশ *সংসদে বিএনপি`র সমালোচনায় মুখর হলেন কেন প্রধানমন্ত্রী?*

*সংসদে বিএনপি`র সমালোচনায় মুখর হলেন কেন প্রধানমন্ত্রী?*

5
*সংসদে বিএনপি`র সমালোচনায় মুখর হলেন কেন প্রধানমন্ত্রী?*

*আজ ছিল জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের শেষ দিন। সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন কিন্তু তার মূল লক্ষ্য ছিল বিএনপির সমালোচনা। তীব্র ভাষায় তিনি বিএনপিকে আক্রমণ করেন। জিয়াউর রহমানের বিএনপি, খালেদা জিয়ার বিএনপি এবং বিএনপির রাজনীতির তুলোধুনো করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনি ছিল সেটি যেমন উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান খালেদা জিয়াকে সংসারে ঘরে নিতে চাননি, সে প্রসঙ্গটিও বাদ রাখেননি। জিয়াউর রহমান একাধারে সেনাপ্রধান এবং রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন, এটি ছিল সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একমাত্র স্বৈরাচারী আইয়ুব খান এরকম দুই দায়িত্ব নিয়েছিলেন উল্লেখ করে জিয়াউর রহমানের আমলে মুক্তিযোদ্ধা সেনাবাহিনীকে হত্যা করা, হাজার হাজার সৈনিককে হত্যা করার প্রসঙ্গটিও প্রধানমন্ত্রী নতুন করে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নতুন নামকরণ করেন। তিনি বলেন বিএনপি মানে হলো বাংলাদেশ না, পাকিস্তান হ্যাঁ পার্টি। এই সব তীব্র সমালোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপিকে তুলোধুনো করতে এতটুকু ছাড় দেননি। বেগম খালেদা জিয়ার আমলে ভোট চুরি, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পর যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য যেভাবে সংবিধান সংশোধন করে প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়ানো হয়েছে সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।*

*প্রশ্ন উঠেছে যখন দেশে করোনা চলছে, বাজেট অধিবেশন চলছে সর্বোপরি বিএনপি ক্ষীয়মাণ রাজনৈতিক জোট তখন প্রধানমন্ত্রী আকস্মিকভাবে কেন বিএনপিকে আক্রমণ করলেন, এটি কি কোন রাজনৈতিক ইঙ্গিতবাহী? এই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনেকগুলো কারণ উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়াকে কেন্দ্র করে কোন কোন মহল হয়তো জলঘোলা করতে চাইছেন এবং তারা এ ব্যাপারে মানবিক প্রসঙ্গটা আনতে চাইছেন। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী হয়তো বিএনপির রাজনীতির বিষয়টি উত্থাপন করলেন। দ্বিতীয়ত, রাজপথের আন্দোলনে না থাকলেও বিএনপি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে লন্ডন থেকে সরকার এবং দেশ বিরোধী একের পর এক বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র করছে দলটি। আর সে কারণেই হয়তো বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিএনপিকে টার্গেট করেছেন। তৃতীয়ত, বিএনপি এখন নতুন করে ডালপালা মেলতে চাইছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তীব্র ভাষায় সরকারকে সমালোচনা করছেন। এই প্রেক্ষাপটে হয়তো প্রধানমন্ত্রী বিএনপির এ সমস্ত সমালোচনার জবাব দিলেন।*

*তবে এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিষয় স্পষ্ট করলেন, তাহলো রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি। জাতীয় সংসদে তাদের আসন যতই স্বল্প থাকুক না কেন, দলটি যতই দ্বিধাবিভক্ত থাকুক না কেন এবং দলের নেতৃত্বে যতই শূন্যতা থাকুক না কেন বিএনপির একটি সমর্থক গোষ্ঠী আছে যারা আওয়ামী বিরোধী এবং বাংলাদেশ বিরোধী তারাই যে বিএনপির ভোট ব্যাংক এটি প্রধানমন্ত্রীর মাথায় ঠিকই আছে। আর এ কারণেই বিএনপির সম্পর্কে যে তথ্যগুলো আবার জাতীয় সংসদের রেকর্ডে তুলে প্রধানমন্ত্রী একটি বিষয়ে সুস্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতির মূল বিভাজনটা মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের। সেই বিভাজনে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ, আওয়ামী বিরোধী শক্তি এবং আওয়ামী বিরোধী শক্তির নেতৃত্বে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান এবং বিএনপি সম্পর্কে নতুন করে বক্তব্য রাজনীতিতে নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস কিনা, সেটা নিয়ে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করছে।*

পূর্ববর্তী নিবন্ধ*সহসাই মন্ত্রিসভায় রদবদল: অন্তর্ভূক্ত হচ্ছেন ৫ নেতা*
পরবর্তী নিবন্ধ*আওয়ামী লীগ আমলাদের আলোচনায় এনে ইস্যু বানাতে চায় না*