বাড়ি বাংলাদেশ *এবার নানা প্রকৃতির বহুমুখী সংকটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ*

*এবার নানা প্রকৃতির বহুমুখী সংকটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ*

6
*এবার নানা প্রকৃতির বহুমুখী সংকটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ*

*বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি লাগামহীন হয়ে পড়ছে। ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরে বরং করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করছে এবং এটি মোকাবেলা করার মতো প্রস্তুতি, পরিকল্পনা কোনটাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেই। আর করোনার সঙ্কট বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নানামুখী সমস্যা ডালপালা মেলছে। টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম সংকটে সংকটে জর্জরিত এবং বহুমুখী সংকটে বাংলাদেশ যেন হাঁসফাঁস করছে। সাম্প্রতিক সময়ে যে সংকটগুলো প্রবল হয়ে উঠেছে এবং যে সংকটগুলোর কারণে মানুষের উৎকণ্ঠা, অস্থিরতা এবং অসন্তোষ বেড়েছে তার মধ্যে রয়েছে:*

*১. দরিদ্র-মধ্য আয়ের মানুষের বিপর্যয়: দেশে এখন লকডাউন চলছে। এই লকডাউন নিঃস্ব, দরিদ্র এবং মধ্য আয়ের মানুষকে বিপর্যস্ত অবস্থায় ফেলেছে। যে সময় লকডাউন করা হয়েছে তাতে অধিকাংশ নিম্ন আয়ের মানুষের আয় উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে, কেউ কেউ চাকরি হারিয়েছেন। যারা বেসরকারি চাকরি করেন, মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ তারা বেতন পাননি। এক অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদেরকে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় যে তাদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ইত্যাদিতে এখনই যদি এই ব্যাপারে নজর দেয়া না হয় তবে সেখান থেকে একটা অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে যেকোনো সময়।*

*২. ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের অস্তিত্বের সংকট: বারবার লকডাউন, দোকানপাট বন্ধ ইত্যাদির কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা একটা অস্তিত্বের সংকটে পড়েছেন। অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন, অনেক লোকসানের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি জুন মাসে শেষ হওয়ার পরে যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন তারা আরেকরকম সংকটে পড়েছেন। সবকিছু মিলিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন। এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাই হলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণভোমরা। তারা যদি অস্তিত্বের সংকটে পড়ে তাহলে আমাদের অর্থনীতি যেকোনো সময় মুখ থুবড়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।*

*৩. রাজনীতিবিদদের মেরুকরণ: সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতিবিদদের একটা মেরুকরণ ঘটেছে, আমলাদের বিরুদ্ধে রাজনীতিবিদরা সরব হয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের ঘরের মধ্যেই সরকারের বিভিন্ন নীতি-কৌশল সমালোচিত হচ্ছে। আর এটি আরেকটি বিভক্তি, বিভাজন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে। বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের অনাস্থা সরকারকে দুর্বল করে তুলবে। কারণ একটি রাজনৈতিক সরকার কখনো রাজনীতি বিবর্জিতভাবে এগিয়ে যেতে পারে না বলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করেন।*

*৪. শিক্ষার সংকট: শিক্ষার সংকট প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে উঠছে। শিক্ষামন্ত্রী বলে দিয়েছেন যে, কোন অবস্থাতেই করোনা নিয়ন্ত্রিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে না। কিন্তু বিকল্প কি ব্যবস্থা তিনি নিচ্ছেন সে সম্পর্কেও তিনি কোন কিছু বলেননি। বিশেষ করে অনলাইন ক্লাসে অনেকে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না, ড্রপ আউট বেড়েছে, বাল্যবিয়ে বেড়েছে এই সমস্ত বিষয়গুলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটা অনিশ্চয়তা এবং গভীর সঙ্কটের দিকে নিয়ে গেছে।*

*৫. অভিবাসীদের সংকট: বাংলাদেশের অভিবাসীরা এখন সবচেয়ে মারাত্মক সংকটে পড়েছেন। গতকাল এবং আজও অভিবাসীরা বিক্ষোভ করেছেন। যারা তাদের কর্মস্থল থেকে দেশে এসেছিলেন তারা এখন গ্রহণযোগ্য টিকা ছাড়া বিদেশে যেতে পারছেন না। আর টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলছে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা এবং অনিশ্চয়তা। গতকাল প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আজ থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে বলা হলেও আজ রেজিস্ট্রেশনে নানা রকম ঝামেলা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া ফাইজারের ২৫ লাখ টিকা দিয়ে প্রবাসীদের সমস্যা মিটবে কিনা সেটাও একটা দেখার বিষয়।*

*আর এই সমস্ত সংকটের পাশাপাশি করোনা নিয়ন্ত্রণ করার ব্যর্থতা, মৃত্যুর হার বৃদ্ধি, ঢাকার বাইরের অঞ্চলগুলোতে করোনার বৃদ্ধি ইত্যাদি নানা সমস্যা এক বিন্দুতে মিলিত হয়ে সরকারকে সত্যি সত্যি চাপে ফেলেছে। আর এইসব বহুমুখী সংকটে এখন বাংলাদেশই যেন অস্থির হয়ে উঠেছে।*

পূর্ববর্তী নিবন্ধ*গবেষণা: টিকা গ্রহণকারীদের জন্য আনন্দের সংবাদ*
পরবর্তী নিবন্ধ*সহসাই মন্ত্রিসভায় রদবদল: অন্তর্ভূক্ত হচ্ছেন ৫ নেতা*