বাড়ি বাংলাদেশ *করোনার সংক্রমণে অবরুদ্ধ ঢাকা, দিশেহারা বাংলাদেশ*

*করোনার সংক্রমণে অবরুদ্ধ ঢাকা, দিশেহারা বাংলাদেশ*

8
*করোনার সংক্রমণে অবরুদ্ধ ঢাকা, দিশেহারা বাংলাদেশ*

*বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আজ দেশে ৪ হাজারের উপরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যেটি শতকরা হার ২০ শতাংশের কাছাকাছি। কিন্তু রাজশাহী, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা শহরের কোথাও কোথাও করোনা সংক্রমণ ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। করোনা পরীক্ষার অভাবের কারণে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা এখন পর্যন্ত যাচাই করা সম্ভব হচ্ছেনা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বাংলাদেশে গত বছরের প্রথম ঢেউয়ের সময় যে সংক্রমণ হয়েছিল তার চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। আর এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ঢাকা শহরের সঙ্গে সংযুক্ত সাতটি জেলাকে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে। আগামীকাল সকাল ৬টা থেকে এই লকডাউন কার্যকর হবে। আপাতত ৯ দিনের জন্য এই লকডাউন ঘোষণা করা হলেও লকডাউনের সময়সীমা পরবর্তীতে বাড়তে পারে বলে সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।*

*কিন্তু প্রশ্ন হল যে এই লকডাউনের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ কমবে কিনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট যেটাকে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বলা হয় সেটির সামাজিক সংক্রমণ হয়ে গেছে। এখন আর সেটি শুধু সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে না, সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এখন করোনা মোকাবেলা করার জন্য একমাত্র উপায় হল পরীক্ষার মাত্রা বাড়ানো। কিন্তু বাংলাদেশে বারবার বলার পরও পরীক্ষার মাত্রা বাড়ানো হচ্ছে না। ন্যূনতম পরীক্ষার মাধ্যমে এই সংক্রমণের যেমন গতি-প্রকৃতি বোঝা অসম্ভব তেমনি সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে। আর এর ফলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় দিশেহারা অবস্থানে চলে গেছে বলে মনে করছেন।*

*বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, বাংলাদেশে করোনা মোকাবেলা যেন নিয়তির উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আপনা আপনি করোনা চলে যাবে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম দফা করোনা সংক্রমণের পরে যখন সংক্রমণ কমতে শুরু করলো তখন আমাদের মধ্যে যে স্বাস্থ্যবিধি মানা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, মাস্ক পরা ইত্যাদির ব্যাপারে যে অসচেতনতা তৈরি হয়েছিল সেটি এখনও বহাল আছে। কিন্তু এখন করোনার যে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এটিকে মোকাবেলার জন্য এর চেয়ে বেশি কিছু করা দরকার বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা মনে করছেন এখন প্রথমেই দরকার হলে প্রচুর পরিমাণে পরীক্ষা করা। যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন সেই কন্ট্রাক্ট ট্র্যাসিং করা এবং কন্ট্রাক্ট ট্র্যাসিং করে তাদেরকে আইসোলেশনে নেওয়া। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। এখনই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোসহ যে সমস্ত এলাকায় করোনা সংক্রমণের হার ২০ শতাংশের উপরে সেই যায়গাগুলোতে করোনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আর যদি এটি না করা হয় তাহলে বাংলাদেশের করোনার সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে এবং গতবারের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে।*

পূর্ববর্তী নিবন্ধ*বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বকে যে বার্তা দিয়েছে* 
পরবর্তী নিবন্ধ*ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পাশেই, ১০০ কিমি জুড়ে ভূমিকম্প*