*হরতাল নামে তাণ্ডব কোথায়?*
*হরতাল নামে তাণ্ডব কোথায়?**এক সময় রাজনৈতিক আন্দোলন বা দাবি আদায়ের প্রধান হাতিয়ার ছিল হরতাল। যেকোনো রাজনৈতিক বা অন্য ইস্যুতে হরতাল ডাকলে সারাদেশ অচল হয়ে যেতো। সড়ক-মহাসড়কে দেখা মিলত না কোনো যানবাহন। হরতাল সমর্থনকারী পিকেটারদের ভয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হতো না। যানবাহনের অভাবে চরম দুর্ভোগ হতো মানুষের। বন্ধ হয়ে যেত অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে গ্রাম থেকে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য আসা বন্ধ হয়ে যেতো রাজধানীতে। অর্থনীতির বাজতো বারোটা। এমনকি হরতালের কারণে সরকার পর্যন্ত পড়ে যেতো।*
*হরতালের সমর্থনে রাজনৈতিক দলগুলোর মিছিল-মিটিং, পুলিশের ধরপাকড়, মামলা, গ্রেপ্তারে রাজপথ থাকতো উত্তপ্ত। পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ এবং তাতে উভয় পক্ষের নিহত-আহতদের খবর ছিল নিত্যদিনের। পত্রিকায় বা টেলিভিশনেও এসব খবর ও দৃশ্য ফলাও করে প্রচার করা হতো। জনগণের জানমাল থাকতো চরম ঝুঁকিতে। আর এখন হরতাল ডাকলে রাস্তায় গাড়ি চলাচল করে স্বাভাবিকভাবেই। হরতালে থাকে যানজট। দুর্ভোগ নেই। বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকে স্বাভাবিক। নেই মিছিল-মিটিং, পিকেটিং, পুলিশের ধরপাকড়, মামলা, লাঠিচার্জ বা টিয়ারগ্যাস ছোড়ার চিরচেনা দৃশ্য।তবে গতকাল হরতালে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।*
*জ্বালানি তেল, ইউরিয়া সার, খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম এবং পরিবহনের ভাড়া কমানো এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে অর্ধদিবস হরতাল পালন করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। প্রেসক্লাব, কদম ফোয়ারা, পল্টন মোড়, বায়তুল মোকাররম, দৈনিক বাংলা মোড় এলাকাগুলোতে হরতাল সমর্থনকারীদের মিছিল দেখা গেলেও হরতালের কোনো উত্তাপ ছিল না। এদিকে হরতালে যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিল। তবে রাজধানীসহ সারাদেশে ছিল না হরতালের কোনো উত্তাপ। সড়কগুলোতে নির্বিঘ্নে চলছে যানবাহন।*
*ঢাকার রাস্তায় নেমেই চোখে পড়েছে চিরাচরিত যানজট। সড়কে মানুষের উপস্থিতি ছিল অন্য সাধারণ দিনের মতো। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খুলে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করেছেন। তাহলে কি হরতালের মতো কর্মসূচীর কার্যকারিতা হারিয়ে যাচ্ছে?বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, আমরা হরতালকে সফল করেছি। আমরা আমাদের হরতালের কাজ শুরু করেছি গত ৬ আগস্ট। আমাদের দাবির স্বপক্ষে জনমত গড়ে তুলেছি এবং মানুষ আমাদের দাবির স্বপক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। গণপরিবহনের অনেক ড্রাইভার আমাদের জানিয়েছে যে, মালিক সমিতি তাদের দিয়ে জোর করে গাড়ি চালিয়েছে।*
*সুতরাং এই হরতাল নৈতিকভাবে সফল হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সরকার লুটেরাবাদীদের স্বপক্ষে অবস্থান করছে। এই হরতালের পরও সরকার যদি আমাদের দাবি না মেনে নেয় তাহলে আমরা অবরোধসহ আরও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করবো। আমরা হয়তো এই হরতালে সাধারণ মানুষকে মাঠে নামাতে পারিনি সেটা আমাদের একটা সমস্যা ছিল। যেকারণে আমরা হয়তো পুরোপুরি সফল হতে পারিনি। কিন্তু আগামীতে সাধারণ মানুষকে মাঠে নামিয়ে একটি গণসংগ্রাম তুলে গড়ে তুলবো এবং আমরা আমাদের দাবি আদায় করবো।*
*হরতাল পালন হয়নি এটা সরকার মূল্যহীন কথা।এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, দেশের মানুষ এখন ভালো আছে। মানুষ চায় দেশে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকুক। আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে সাময়িকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যেকারণে দ্রব্যমূলও কিছুটা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেটা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন এবং মানুষ ধৈয্য রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।*
*এরপরও যারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে মানুষকে কষ্ট দেওয়া জন্য হরতাল ডাকে দেশের মানুষ তাদের সমর্থন দেয়নি। আমি নিজে বগুড়া শহর থেকে নাটোর গিয়েছি কোথাও কোনো ধরনের হরতাল চোখে পড়েনি। তাদের হরতালে উদ্দেশ্য গণমানুষের কল্যাণে নয় যেকারণে মানুষ বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা হরতাল মানুষ প্রত্যাখান করেছে বলে দাবি করেন তিনি।*



