বাড়ি ইতিহাস-ঐতিহ্য *যে ১১ জন শেখ হাসিনার কারামুক্তিতে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন*

*যে ১১ জন শেখ হাসিনার কারামুক্তিতে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন*

18
*যে ১১ জন শেখ হাসিনার কারামুক্তিতে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন*

*আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ। ২০০৮ সালের এই দিনে অসত্য, মিথ্যা, বানোয়াট বিভিন্ন মামলা থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন। এই মুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নবযাত্রা সূচনা হয়েছিল। শেখ হাসিনার মুক্তির মধ্য দিয়ে স্পষ্টই প্রমাণিত হয়েছিল যে, এক-এগারোর সরকার দীর্ঘমেয়াদী থাকছে না। তারা একটি নির্বাচন দিয়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে শেষ পর্যন্ত সম্মত হয়। সে কারণেই শেখ হাসিনাকে তারা মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এই মুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অনির্বাচিত সরকারের বিদায়ের পথযাত্রা শুরু হয়। শেখ হাসিনার কারামুক্তি আপনাআপনি হয়নি এবং সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দিন সরকার বিনা কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে কারামুক্ত করেননি। এই কারামুক্তির পেছনে দীর্ঘ রাজনৈতিক, চিকিৎসাসংক্রান্ত এবং আইনি লড়াই করতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। আর এই সব লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং বিচক্ষণতার কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি মুক্তি পেয়েছেন। আর এই মুক্তিতে তাকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন:*

*১. প্রয়াত জিল্লুর রহমান: প্রয়াত জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগকে অখন্ড রেখেছিলেন, তৃণমূলকে জাগিয়েছিলেন এবং বিপথগামী নেতৃবৃন্দকে কাছে টেনে নিয়ে এসেছিলেন। এর কারণে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দাবি হিসেবে শেখ হাসিনার মুক্তির বিষয়টিকে উত্থাপন করতে পেরেছিল।*

*২. প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম: প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এই সময় সংগঠনকে ধরে রাখা, তৃণমূলকে জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।*

*৩. বেগম মতিয়া চৌধুরী: বেগম মতিয়া চৌধুরী সেই সময় সংস্কারপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। শেখ হাসিনার পক্ষে তার দৃঢ় অবস্থান অন্যান্য নেতাকর্মীদেরকে উজ্জীবিত করেছিল, সাহস যুগিয়েছিল।*

*৪. প্রয়াত এইচ টি ইমাম: প্রয়াত এইচ টি ইমাম সেই সময় শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য সেনা সমর্থিত সরকারের সঙ্গে নানা রকম যোগাযোগ করেছিলেন এবং তাদের সাথে একটি সমঝোতায় আসার জন্য চেষ্টা করেছিলেন।*

*৫. অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন: অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন আইনজীবী হিসেবে শেখ হাসিনার মুক্তির আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। প্রথম আইনজীবী হিসেবে তিনি নিম্ন আদালতে গিয়েছিলেন যেদিন শেখ হাসিনা গ্রেফতার হয়েছিলেন ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই।*

*৬. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী: সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী শেখ হাসিনার প্রধান ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন এবং তিনিই প্রথম শেখ হাসিনাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দেয়া এবং বিদেশে পাঠানোর দাবি উচ্চারণ করেছিলেন। পরবর্তীতে এই দাবি গণদাবিতে পরিণত হয়েছিল।*

*৭. ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ: ওয়ান-ইলেভেনের সময় ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহই শেখ হাসিনার অসুস্থতার সঠিক চিত্রটি জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন এবং তিনি শেখ হাসিনার বিভিন্ন সমস্যাগুলো সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেছিলেন। এর ফলে শেখ হাসিনার পক্ষে জনগণের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়।*

*৮. ব্যারিস্টার রফিক-উল হক: ব্যারিস্টার রফিক-উল হক সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে হাইকোর্টে এবং আপিল বিভাগে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।*

*৯. ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ: ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আইনজীবী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে এবং উচ্চ আদালতে শেখ হাসিনার আইনি বিষয়টি দেখভাল করেছিলেন।*

*১০. অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম: অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম রাজনীতির মাঠে এবং আদালত দুই জায়গাতেই শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।*

*১১. ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস: ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ওয়ান-ইলেভেনে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিশেষ করে আওয়ামীপন্থী সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম যখন মামলা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, আইনজীবীরা যখন শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানায় তখন এই তরুণ আইনজীবী নিজেই আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন এবং অন্যান্য সিনিয়র আইনজীবীদেরকে সম্পৃক্ত করে তাদের সাথে সমন্বয় করে শেখ হাসিনার মুক্তির লড়াইয়ে এক অভূতপূর্ব আইনি লড়াই সূচনা করেন।*

*এরাই শেখ হাসিনার মুক্তিতে ১১ সহযোগী যোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত।*

পূর্ববর্তী নিবন্ধ*মারমুখী আচরণ খালেদ মাহমুদ ও সাকিবের, পরে ড্রেসিংরুমে মিটমাট*
পরবর্তী নিবন্ধ*যে ১১ নেতা আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থী অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন*