বাড়ি রাজনীতি *লোভেই পতন বাবুনগরীর, বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম?*

*লোভেই পতন বাবুনগরীর, বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম?*

8
*লোভেই পতন বাবুনগরীর, বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম?*

*জুনায়েদ বাবুনগরী। হেফাজতের নতুন কমিটির আমির। যদিও ভেঙে দেওয়া পুরোনো কমিটিতেও আমির ছিলেন এই জুনায়েদ বাবুনগরীই। এখন তার কপালে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। নতুন কমিটি করেও তেমন একটা লাভ করতে পারেননি তিনি। চেয়েছিলেন নতুন কমিটি দিয়ে একটা চমক দেবেন এবং এই কমিটির মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতার চেষ্টা করবেন। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও তিনি একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের অবয়ব দিতে পারেন নি। কারণ বাবুনগরী ঘোষিত যে কমিটি সেই কিমিটিতেও অনেক রাজনৈতিক নেতাদের স্থান হয়েছে। ফলে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার যে আকাঙ্ক্ষা সেটি এখন ডুবতে বসেছে বাবুনগরীর।*

*জুনায়েদ বাবুনগরী সব সময় নিজের মধ্যে উগ্রবাদ, মৌলবাদকে লালন করেন। তার মধ্যে রাজনীতির আকাঙ্ক্ষা প্রবল। এ করাণেই হেফাজের প্রয়াত আমির আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমির হয়ে মসনদে বসেন। তখন তিনি হেফাজতে আল্লামা শফীপন্থীদের বের করে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেন এবং সেই কমিটিতে রাজনৈতিক নেতাদের স্থান দেওয়া হয়। কারণ তার মনোবাসনা ছিল সরকারকে হটিয়ে দেখে ইসলামী প্রজাতন্ত্র কায়েমের। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছিল বাবুনগরী। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালানো হয়। এর পর যা হয় তার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না বাবুনগরী।*

*এরপর একে একে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করা হয় বিভিন্ন সন্ত্রাস এবং তাণ্ডবের মামলায়। সবাই যখন গ্রেফতার হচ্ছিল তখন জুনায়েদ বাবুনগরীর অবস্থা কাহিল হয়ে যায়। এ কারণে তরিঘড়ি করে আগের কমিটি বিলুপ্ত করে দেয় বাবুনগরী। এরপর ৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি করা হয়। সেখানেও আমিরের দায়িত্বে ছিলেন বাবুনগরী। সর্বশেষ গত পরশু হেফাজতের ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে এই মধ্যে পদ প্রত্যাখ্যানের হিড়িক লেগে গেছে। অনেকে অভিযোগ করছেন তাদের সঙ্গে কথা না বলেই এই কমিটিতে তাদের নাম দেওয়া হয়েছে। অনেকে জানেনই না তাদের নাম ওই কমিটিতে রয়েছে। যার কারণে তারাও বিব্রত বোধ করছেন।*

*বিশ্লেষকরা বলছেন, জুনায়েদ বাবুনগরী গ্রেফতার এড়ানোর জন্য এই কাজগুলো করেছে। সে দেখানোর চেষ্টা করেছে যে সে একটি ক্লিন ইমেজের কমিটি তৈরি করেছে। আসলে এর সব কিছুই করেছে বাবুনগরী তার গ্রেফতার এড়াতে। কারণ আমরা সবাই দেখেছি বাবুনগরীর একটি টিম অনেক চেষ্টা করেছে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করার। কিন্তু কিছুতে কিছু হয় নি। এখন এই পরিকল্পনাও ভেস্তে গেল বাবুনগরীর। এখন দেখার বিষয় বাবুনগরীর কপালের চিন্তার ভাঁজ কতটুকু।*