বাড়ি বাংলাদেশ *আরো তীব্র আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাবুনগরীর হেফাজত!*

*আরো তীব্র আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাবুনগরীর হেফাজত!*

34
*আরো তীব্র আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাবুনগরীর হেফাজত!*

*নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে হেফাজত জানিয়ে দিলো তারা নিঃশেষ হয়ে যায়নি। গত দুই মাসে যে গুঞ্জন ছিল যে হেফাজত বিলুপ্ত হয়ে যাবে, হেফাজত বিলীন হয়ে যাবে সেটি থেকে নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে হেফাজতের একরকম পুনর্জন্ম হলো। যদিও বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে যে, সরকারের সাথে সমঝোতার প্রেক্ষিতেই হেফাজতের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এবং হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, কোনরকম সমঝোতা না। তবে এবার কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে এবং যাদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে তাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদেরকেউ এই কমিটিতে রাখা হয়নি। তবে জুনায়েদ বাবুনগরী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, এটি সংক্ষিপ্ত কমিটি। এটি পর্যবেক্ষণ করা হবে তারপর আস্তে আস্তে কমিটি বড় করা হবে।*

*অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে যে, সরকারের কাছে কোণঠাসা হয়ে থাকা হেফাজত এখন নতুন করে সংঘটিত হওয়ার চেষ্টা করছে। হেফাজত যে কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তির বন্ধু হতে পারেনা সে কি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। আর সে কারণেই মনে করা হচ্ছে, নতুন কমিটির মধ্য দিয়ে হেফাজত আবার নিজেদেরকে পুনর্গঠিত করবে, সঙ্ঘবদ্ধ করবে এবং তারপর সরকারকে আরেকদফা আঘাত করবে। হেফাজত দু`বার সরকারের ওপর চড়াও হয়েছিল এবং সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলার চেষ্টা করেছিল। প্রথম দফায় তারা চেষ্টা করেছিল ২০১৩ সালের ৫ মে। সেই সময় হেফাজত গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধিতা করে ঢাকা চলো কর্মসূচি দিয়েছিল এবং ঢাকায় এসে অবস্থান গ্রহণ করেছিল। তাদের ভেতরের খবর ছিল যে, সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি রাখবে। এই সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদেরকে চলে যাওয়ার শেষ সতর্কবার্তা দিয়েছিল কিন্তু তারপরও তারা সেখান থেকে সরে যায়নি। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সাহসী এবং চৌকস অভিযানের পর তাদেরকে শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছিল।*

*সেই সময়ে হেফাজতের বর্তমান আমির জুনায়েদ বাবুনগরী সরকার উৎখাতের সুস্পষ্ট ডাক দিয়েছিলেন এবং ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের ঘোষণা দিয়েছিলেন। যদিও সেই ঘোষণা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। তারপর সরকার হেফাজতের সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতা করে। এর মাধ্যমে হেফাজত পুনর্গঠিত হয়, শক্তি সঞ্চয় করে এবং পরবর্তীতে একটি দানবে পরিণত হয়। এমন একটি শক্তিতে হেফাজত পরিণত হয়েছিল যে, সরকারের চোখে চোখ রেখে কথা বলছিল এবং বিভিন্ন ইস্যুতে তারা সরকার কি করবে না করবে সে ব্যাপারে হস্তক্ষেপও করছিল। এই ধারাবাহিকতায় জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমীর হন এবং তারপর থেকেই তিনি সরকারবিরোধী একটি অবস্থান সুস্পষ্ট করে দেন। জুনায়েদ বাবুনগরী আমীর হওয়ার পর থেকেই ভাস্কর্য ইস্যু, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ইস্যুতে হেফাজত পুরোপুরিভাবে সরকারবিরোধী অবস্থানে চলে যায় এবং সরকার পতনের একটি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হন।*

*লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, ২০১৩ এবং ২০২১ এই দুই সময়ই হেফাজত আসলে সরকার পতনের চেষ্টা করেছিল এবং তাদের পেছনে ছিল বিএনপি-জামাত। এখন যখন হেফাজত আবার নতুন করে কমিটি করছে তখন আবার প্রশ্ন উঠেছে যে, হেফাজত পুনরুজ্জীবন মানেই মৌলবাদী, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিজয়। হেফাজতের পুনরুজ্জীবন মানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তির জন্য একটি চিন্তার কারণ। কারণ হেফাজত যখনই সংঘটিত হয়, যখনই শক্তিশালী হয়, তখনই তারা আক্রমণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকারকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষকে। আর তাই এখন যখন বিলুপ্ত কমিটির থেকে আবার কমিটি করল হেফাজত তখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হেফাজত আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে এবং এই সংঘটিত হওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে হয়তো শক্তি সঞ্চয় করে তারা সরকারকে নতুন করে আঘাত করবে।*