বাড়ি বাংলাদেশ *ধর্মজীবী হেফাজতের কমিটি প্রত্যাখ্যান করলো শফীপুত্র ইউসুফ মাদানী*

*ধর্মজীবী হেফাজতের কমিটি প্রত্যাখ্যান করলো শফীপুত্র ইউসুফ মাদানী*

4
*ধর্মজীবী হেফাজতের কমিটি প্রত্যাখ্যান করলো শফীপুত্র ইউসুফ মাদানী*

*হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কমিটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা আহমদ শফীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ মাদানী।*

*সোমবার নতুন এ কমিটি ঘোষণার পরই হাতে লেখা এক চিঠিতে এ ঘোষণা দেন তিনি। ঘোষিত কমিটিতে সহকারী মহাসচিবের পদ দেওয়া হয়েছিল ইউসুফ মাদানীকে।*

*চিঠিতে তিনি বলেন, আমি মাওলানা ইউসুফ মাদানী আজ ৭/৬/২১ ঘোষিত তথাকথিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমার নাম দেখে আমি মর্মাহত। যারা আমার পিতাকে কষ্ট দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় দিয়েছেন তাদের সঙ্গে আমি কখনো এক হতে পারিনা। আজকের ঘোষিত তথাকথিত হেফাজতের কমিটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।*

*এর আগে সোমবার বেলা ১১টায় খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৩৩ সদস্যের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দেন বর্তমান মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী।*

*মামুনুলদের বাদ দিয়ে হেফাজতের কমিটি ঘোষণা*

*মাওলানা মামুনুল হকসহ বিভিন্ন মামলায় আটক নেতাদের বাদ দিয়েই কমিটি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম। ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে আমির হিসেবে আছেন জুনায়েদ বাবুনগরী। এ ছাড়া মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদীকে মহাসচিব করা হয়েছে।*

*সোমবার (৭ জুন) খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী এই কমিটি ঘোষণা করেন।*

*সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভবিষ্যতে প্রত্যেক জেলা কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসাবে বিবেচিত হবে। জেলা কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারি অরাজনৈতিক ব্যক্তি হতে হবে।*

*৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি*
*মুহতারাম আমীর হযরত আল্লামা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর হযরত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, হযরত মাও. আবদুল হক, মোমেন শাহী, হযরত মাও. সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, অধ্যক্ষ মীযানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা), হযরত মাও. মুহিব্বুল হক (গাছবাড়ী, সিলেট), হযরত মাও. ইয়াহইয়া (হাটহাজারী মাদ্রাসা), হযরত মাও. আব্দুল কুদ্দুস (ফরিদাবাদ মাদ্রাসা), হযরত মাও. তাজুল ইসলাম (পীর সাহেব ফিরোজশাহ্), হযরত মাও. মুফতী জসিমুদ্দীন (হাটহাজারী মাদ্রাসা)।*

*মহাসচিব হযরত মাওলানা হাফেজ নূরুল ইসলাম (ঢাকা), যুগ্ম মহাসচিব হযরত মাওলানা সাজেদুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), হযরত মাও. আব্দুল আউয়াল (নারায়ণগঞ্জ), হযরত মাও. লোকমান হাকীম (চট্টগ্রাম), হযরত মাও. আনোয়ারুল করীম (যশোর), হযরত মাও. আইয়ুব বাবুনগরী।*

*সহকারী মহাসচিব হযরত মাও. জহুরুল ইসলাম (মাখজান), হযরত মাও. ইউসুফ মাদানী (সাহেবজাদা, আল্লামা শাহ আহমদ শফি)।*

*সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত মাও. মীর ইদ্রিস (চট্টগ্রাম), অর্থ সম্পাদক হযরত মাও. মুফতী মুহাম্মদ আলী (মেখল), সহ-অর্থ সম্পাদক হযরত মাও. মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী (নাজিরহাট), প্রচার সম্পাদক হযরত মাও. মুহিউদ্দীন রব্বানী (সাভার, ঢাকা), সহ-প্রচার সম্পাদক হযরত মাও জামাল উদ্দীন (কুড়িগ্রাম)।*

*দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক হযরত মাও. আবদুল কাইয়ুম সোবহানী (উত্তরা, ঢাকা), সহকারী দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক হযরত মাও. ওমর ফরুক (নোয়াখালী)।*

*সম্মানিত সদস্য হযরত মাও. মোবারাকুল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), হযরত মাও. ফয়জুল্লাহ (পীর সাহেব, মাদানীনগর), হযরত মাও. ফোরকানুল্লাহ খলিল (দারুল মায়ারেফ, চট্টগ্রাম), হযরত মাও. মোশতাক আহমদ (খুলনা দারুল উলূম), হযরত মাও. রশিদ আহমদ (কিশোরগঞ্জ), হযরত মাও. আনাস (ভোলা), হযরত মাও. মাহমুদল হাসান (ফতেহপুরী), হযরত মাও. মাহমুদুল আলম (পঞ্চগড়)।*

*১৬ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি*
*প্রধান উপদেষ্টা মাও. মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, উপদেষ্টা মাও. মুফতী আব্দুসসালাম (চাটগামী), মাও. সুলতান যওক নদভী, মাও. আব্দুল হালীম বোখারী (পটিয়া), মাও. নুরুল ইসলাম আদীব (ফেনী), মাও. আব্দুল মালেক হালীম, মাও. আব্দুর রহমান হাফেজ্জী (মোমেনশাহী), মাও. রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, মাও. নূরুল হক (বটগ্রাম, কুমিল্লা), মাও. আবুল কালাম (মুহাম্মদপুর), মাও. শিব্বির আহমাদ (নোয়াখালী), মাও. জালাল আহমাদ (ভূজপুর), মাও. আশেক এলাহী (উজানী), মাও. হা. হাবিবুল্লাহ বাবুনগরী, মাও. আব্দুর বাছীর (সুনামগঞ্জ), মাও. আফজালুর রহমান (ফেনী)।*

*৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় খাস কমিটি*
*মাও. মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মাও. হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী, মাও. আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাও. হাফেজ নূরুল ইসলাম (ঢাকা), অধ্যক্ষ মিযানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা), মাও. সাজেদুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মাও. মুহিব্বুল হক (গাছবাড়ী, সিলেট), মাও. আব্দুল আউয়াল (নারায়ণগঞ্জ), মাও. মুহিউদ্দীন রব্বানী (সাভার, ঢাকা)।*

*খাস কমিটি ‘মজলিসে শুরা’ হিসাবে বিবেচিত হবে। হেফাজতের মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে বিবেচিত হবে। তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।*

*প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনের বিরোধিতা করে সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত মার্চের ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ দেশজুড়ে সহিংসতার চালায় হেফাজত। সে সময়ে সরকারি অফিস, স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি হয়। এরপর ঢাকা মহানগর হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের রিসোর্টকাণ্ডের পর নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ১১ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন মামলায় হেফাজতের নেতাদের গ্রেফতার শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।*

*আলোচিত হেফাজত নেতাদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আহমদ আবদুল কাদের, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মামুনুল হক, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মনঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলামাবাদী, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হারুন ইজহার, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমেনী, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ অর্থ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরী কমিটির সহসভাপতি মুফতি ইলিয়াস, কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক মুফতি শরীফ উল্লাহ, ঢাকা মহানগর হেফাজতের সহ-সভাপতি মাওলানা কোরবান আলী, ঢাকা মহানগরীর সহ-সভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমেদ প্রমুখ।*

*এমন পরিস্থিতিতে ২৬ এপ্রিল রাতে জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। আর তার কয়েক ঘণ্টা পর জুনায়েদ বাবুনগরীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা আসে। তখন থেকেই হেফাজত নেতারা বলে আসছিলেন শিগগির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। সবশেষ আজ সোমবার নতুন কমিটি ঘোষণা করলো হেফাজত।*