সম্পাদক এক্সক্লুসিভ

*দলকে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু কিছু মন্ত্রী বড় ভূমিকা রাখছেন*

*দলকে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু কিছু মন্ত্রী বড় ভূমিকা রাখছেন** নির্বাচনের আরও দেড় বছরের বেশি সময় বাকি। কিন্তু এর মধ্যেই দেশে নির্বাচনী আমেজ এসেছে। আর নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন যে, নির্বাচনের আগে কিছু কিছু মন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড সরকারের এবং দলের ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। *

*তারা মনে করছেন যে, এই সমস্ত ব্যর্থতাগুলোর দায় আওয়ামী লীগকেই বহন করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের ব্যর্থতা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা এখন সরব হচ্ছেন। এমনকি কোনো কোনো মন্ত্রীর ব্যর্থতার কথা অন্য মন্ত্রীরাও বলছেন। সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিতর্কে পড়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম। তার ৯ মাসের দাম্পত্য জীবনের দ্বিতীয় স্ত্রী এক টিটিইকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ফোন করেছিলেন এবং সেই ফোনের সূত্র ধরেই সারাদেশে এক তোলপাড় হয়ে গেছে। *

*পরবর্তীতে যদিও সেই টিটিই’র সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে, কিন্তু এতে আওয়ামী লীগের যথেষ্ট সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করেন। আর এই প্রেক্ষাপটেই তারা মনে করছেন যে, মন্ত্রীদের এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত। ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা এবং ব্যবসায়ীদের কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। *

*ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির পরও বাজারে তেল সংকট। এটিও আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। তারা বলছেন যে, একজন মন্ত্রী যদি ব্যবসায়ীদের নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ না করতে পারেন, তাহলে ব্যর্থতার দায়ভার তার উপরই। কিন্তু এই ব্যর্থতার দায় আসছে সরকারের উপর। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু মন্ত্রীদের বিদেশ ভ্রমণের বাতিক ধরেছে এবং তারা তাদের আত্মীয়-স্বজন পরিবার-পরিজন নিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন। এটিও সরকারের ইমেজ নষ্ট করছে বলে আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতারা মনে করছেন।*

*গত ৭ মে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন জেলায় কোন্দল, বিদ্রোহী প্রার্থী ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সেই আলোচনায় কিছু কিছু মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই বলছেন যে, কিছু কিছু মন্ত্রীর দায়িত্বহীন আচরণ এবং এলাকায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রবণতা কারণেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি হয়েছে এবং দলকে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু কিছু মন্ত্রী বড় ভূমিকা রেখেছেন।*

*এই সব কিছু নিয়েই আওয়ামী লীগের মধ্যে এক ধরনের মেরুকরণ ঘটছে। অনেকেই মনে করছেন, এখনই যদি ব্যর্থ, অযোগ্য মন্ত্রীদেরকে সরিয়ে না দেওয়া হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের বদনাম হবে এবং সামনে আওয়ামী লীগকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। কোনো কোনো নেতা মনে করছেন যে, মন্ত্রীরা দায়-দায়িত্বহীন এবং দলের কথা চিন্তা করছেন না। সামনের নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। *

*বিভিন্ন ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের ব্যর্থতার বিষয়টি শুধু নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন মক্তব্য আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরক্তির সৃষ্টি করছে বলে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফোরামে এখন মন্ত্রীদের এই সমস্ত ব্যর্থতা নিয়ে চর্চা হচ্ছে এবং দ্রুত ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে তাগিদ দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এ বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।*

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button