বাড়ি আইন-আদালত *অপরাধ সাম্রাজ্যের অধিপতিরা এখন জেলেখানারও অধিপতি*

*অপরাধ সাম্রাজ্যের অধিপতিরা এখন জেলেখানারও অধিপতি*

5
*অপরাধ সাম্রাজ্যের অধিপতিরা এখন জেলেখানারও অধিপতি*

*বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার কারণে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন যারা তাদের মধ্যে জেলে অনেকে বহাল তবিয়তে আছেন, সংসার পেতেছেন, রাজার হালেই আছেন। টাকা দিলে কিনা হয় সেটার প্রমাণ রাখছেন তারা। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পরও তাদের এতোটুকু গ্লানি হয়নি। বরং তারা জেলেই একটা নতুন রাজত্ব করেছেন। এদেরকে বলা হয় জেলের রাজা। যে সমস্ত ব্যক্তিরা জেলে আরাম-আয়েশে জীবন-যাপন করছেন তাদেরকে নিয়েই এই প্রতিবেদন। এদের মধ্যে রয়েছেন,*

*১. গিয়াসউদ্দিন আল মামুন: গিয়াসউদ্দিন আল মামুন তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠতম বন্ধু এবং বিএনপি`র দুর্নীতি-অনিয়মের মূল হোতা মনে করা হয় তাকে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দুর্নীতির মূল হোতা ছিলেন গিয়াসউদ্দিন আল মামুন এবং তার নেতৃত্বে হওয়া ভবণে কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালিত হতো। বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছিলেন ওই সময় তারেক জিয়ার এই বন্ধু। ওয়ান ইলেভেন এলে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে এখনো কারাগারে আছেন গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। কিন্তু কারাগারে থাকলেও আরাম-আয়েশে জীবন-যাপন করছেন তিনি। কারাগারে তিনি ফ্রিজ সহ অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জাম রেখেছেন। একরকম বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন সেখানেই।*

*২. লুৎফুজ্জামান বাবর: বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ক্যাসিনো বাবর হয়ে যান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং অন্যতম ক্ষমতাবান ব্যক্তি। মূলত তারেক জিয়ার দুর্নীতি এবং চোরাচালানের সিন্ডিকেট রক্ষার জন্যই বাবরকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর তার নেতৃত্বেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং ১০ ট্রাক অস্ত্র আমদানির ঘটনা ঘটেছিল। এই দুটি মামলার একটিতে তিনি দণ্ডিত হয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তার কনডেম সেলে থাকার কথা। কিন্তু জেলেও লুৎফুজ্জামান বাবর রয়েছেন আরাম-আয়েশে। এক ধরনের বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন বাবর। ২০০৭ সালে তিনি গ্রেফতার হন। গ্রেফতার এড়াতে তিনি মার্কিন দূতাবাস পর্যন্ত গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেননি। এখন কারাগারে থাকলেও বহাল তবিয়তে আছেন, টাকা পয়সা খরচ করে বেশ আরাম-আয়েশের জীবনযাপন করছেন বলেই জানা গেছে।*

*৩. তানভীর মাহমুদ: হলমার্ক কেলেঙ্কারি বর্তমান সরকারের সময়ে আলোচিত একটি ব্যাংকিং কেলেঙ্কারি। হলমার্কের চেয়ারম্যান তানভীর মাহমুদ আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে উধাও করে দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগে ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার জিএম তুষারসহ তিনি কারাগারেই রয়েছেন। এই টাকা উদ্ধারে যেমন দুদক এখন পর্যন্ত সফল হতে পারেনি তেমনি তার মামলাগুলোর ঢিমেতালে চলছে। আর কারাগারে থেকেই বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন তানভীর। শুধু তানভীর নয়, তার জিএম নারী নিয়ে এসে এক মহাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন কাশিমপুর কারাগারে। তানভীর মাহমুদ কারাগারেও রাজকীয় জীবনযাপন করছেন বলে খবর পাওয়া যায়।*

*৪. রফিকুল আমিন: ডেসটিনির রফিকুল আমিন ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর কারাগারে যান। একটি মামলায় তিনি তিন বছরের জন্য দণ্ডিত হয়েছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। রফিকুল আমিন বেশিরভাগ সময়ই হাসপাতালে কাটিয়েছেন। পত্রপত্রিকায় লেখালেখির পর তার হাসপাতালের আদেশ বাতিল হয়। আবার তিনি হাসপাতালে যান। কারাগারে একরকম বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন রফিকুল আমিন।*

*৫. জি কে শামীম: জি কে শামীম যুবলীগের নেতা। ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা নগদ ও আগ্নেয়াস্ত্র এবং অবৈধ মদসহ তিনি গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কিন্তু মামলা থাকলে কি হবে, কারাগারে তিনি রাজকীয় জীবনযাপন করছেন, রাজার হালে আছেন। কখনো তিনি যান হাসপাতালে, আর যে সময় কারাগারে থাকেন। সেখানেও তিনি টাকা খরচ করে আমোদ-ফুর্তিতেই জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।*