*জুনায়েদ বাবুনগরী পন্থিরা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক পদে আছেন এমন নেতাদের বাদ দিয়ে খসড়া একটি কমিটিও তৈরি করা হয়েছে। গতকাল এ কমিটি ঘোষণার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে আর তা হয়নি। বাবুনগরীর তৈরি করা খসড়া কমিটি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না কোনো নেতা।*
*তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারী এক নেতা বলেন, বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়। দলীয় পদে আছেন এমন কাউকে খসড়া কমিটিতে রাখা হয়নি।*






*জানা যায়, ইসলামী দলগুলোর বলয়ে থাকা হেফাজতে ইসলামকে রাজনৈতিক রাহুমুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী চাপ ছিল। সংকটে থাকা হেফাজতে ইসলামকে ফের রাজনৈতিক মুক্ত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলে চাপে পড়ে তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিকে ভেঙে আংশিক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন বাবুনগরী অনুসারীরা। ৩০ সদস্যের খসড়া কমিটিতে জুনায়েদ বাবুনগরী আমির, মাওলানা নুর ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব এবং আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়। কমিটিতে মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, মুফতি মোবারক উল্লাহ (বি-বাড়িয়া), মাওলানা আনাসসহ (ভোলা) কয়েকজনকে নায়েবে আমির হিসেবে রাখা হয়। ওই কমিটি থেকে বাদ যাচ্ছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মানুনুল হক, নাছির উদ্দিন মুনির, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, মীর ইদ্রিস, মুফতি হারুন ইজহারসহ নানা ইস্যুতে বিতর্কে জড়িয়ে পড়া হেফাজতের নেতারা। একইভাবে বাদ যাচ্ছেন আল্লামা আহমদ শফীর হত্যা মামলার অভিযুক্ত নেতারাও।*






*নাম প্রকাশ না করার শর্তে হেফাজতে ইসলামের এক নেতা বলেন, ‘সর্বশেষ কমিটি নিয়ে বাবুনগরী বেশ বেকায়দায় ছিলেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ওই কমিটি বিলুপ্ত করে। নতুন কমিটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে নানামুখী চাপে রয়েছেন বাবুনগরী। তাই রাজনৈতিক পদধারী নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করছেন হেফাজতের বাবুনগরী অনুসারীরা।’*
*বাবুনগরীর ২৫০ কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধ্যান পাওয়া গিয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এই বাবুনগরী মাত্র ৮০০০ টাকা বেতনের শিক্ষক মাত্র। তার এত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির উৎস কি? হেফাজতের সাথে জঙ্গি সম্পৃক্ততাও রয়েছে। যার দায় বাবুনগরীর রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার মামলার প্রস্তুতি চলছে। বাবুনগরী কি ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এ যাত্রায় উদ্ধার হতে পারবেন?*














