Featuredসম্পাদক এক্সক্লুসিভ

*নতুন শঙ্কায় শামীম ওসমানের রাজনৈতিক জীবন, তছনছ হচ্ছে দুর্গ*

*নতুন শঙ্কায় শামীম ওসমানের রাজনৈতিক জীবন, তছনছ হচ্ছে দুর্গ**নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীও সেখানে বিজয়ী হয়েছে। নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে মিষ্টি খাওয়াও হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ এখন শান্ত। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন নিয়ে সুধীমহল বা সুশীল সমাজের মধ্যে কোনো অস্বস্তি নেই।*

*বরং গতপরশু সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গোলটেবিলে বলা হয়েছে যে, নারায়ণগঞ্জে প্রার্থী ভালো ছিল জন্যই সরকার কোন হস্তক্ষেপ করেনি। সরকার কেন হস্তক্ষেপ করেনি সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যেতে পারে যে, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সরকারকে যেমন একটি স্বস্তি দিয়েছে তেমনি ভোটারদেরকেও এক ধরনের শান্তি দিয়েছে।*

*কিন্তু এই নির্বাচনে অশান্তিতে আছেন শুধুমাত্র একজন। তিনি হলেন আওয়ামী লীগের বহুল আলোচিত-সমালোচিত নেতা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দৃশ্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে তার পছন্দের কমিটি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের বিলুপ্ত করেছে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।*

*নারায়ণগঞ্জে সামনের দিনগুলোতে বড় ধরনের ধাক্কা আসছে শামীম ওসমানের জন্য। নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের দুর্গ তছনছ হয়ে যাবে বলছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। আর এ অবস্থায় শামীম ওসমানের রাজনৈতিক জীবন নতুন শঙ্কার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মনোনয়ন দেয়া আওয়ামী লীগ।*

*এই মনোনয়নের পর থেকেই শামীম ওসমানের ভূমিকা ছিলো রহস্যময়। তিনি সারা জীবনই সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে কাজ করতেন এবং আইভীবিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছিল বিভিন্ন সময়। এবার নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পর শামীম ওসমান ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। তিনি কাউন্সিলর প্রার্থীদেরকে তার পক্ষে নিয়ে এসেছিলেন এবং তাদের সঙ্গে মিলেমিশে তৈমুর আলম খন্দকারের পক্ষে গোপন প্রচারণার একটা পরিকল্পনা নিয়েছিলেন।*

*কিন্তু জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরিচালনা টিম পঞ্চপাণ্ডব এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে এবং শামীম ওসমান তাদের হস্তক্ষেপে সংবাদ সম্মেলন করে নৌকার পক্ষে সমর্থন জানাতে বাধ্য হন। যদিও তিনি নিজে নৌকার পক্ষে কোনোরকম কাজ করেননি এবং তার লোকজন নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আইভীর বিরোধিতা করেছে। যদিও প্রকাশ্যে শামীম ওসমানের কিছু লোক সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে প্রচারণা করেছেন।*

*কিন্তু এই নির্বাচন পরিচালনা করতে গিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় টিম বুঝতে পেরেছে যে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলো আসলে পুতুল কমিটি, এগুলো সবই শামীম ওসমানের পকেটে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা যিনি নির্বাচনী পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি বলেছেন, সেখানে আওয়ামী লীগ মানেই হলো শামীম ওসমান,*

*সব কমিটিতে তার আজ্ঞাবহ এবং অনুগতদের নিয়েছেন। এভাবে একটি সংগঠন চলতে পারে না। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাউকে ইঙ্গিত না করে বলেছেন, দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। আর এই বাস্তবতায় এখন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে নতুন করে শুদ্ধি অভিযানের কথা শুরু হচ্ছে। একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় সব কমিটি কেমন করে গঠিত হয় সেই প্রশ্ন উঠেছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের মধ্যে।*

*আর সে কারণেই নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে যারা যারা দলের পক্ষে যথাযথ ভূমিকা পালন করেনি, বা দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে তাদের বিরুদ্ধে একশন অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের পর আরো কিছু কমিটি এখন বাতিল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কমিটিগুলো সবই শামীম ওসমানের পকেট কমিটি।*

*নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ মানেই হলো শামীম ওসমান। সেলিনা হায়াৎ আইভী একটি পদ নিয়ে আছেন এবং সাধারণ মানুষের সমর্থনের জন্যই তিনি এলাকায় জনপ্রিয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের মধ্যে তিনি ক্ষমতাহীন। আর সে কারণেই নারায়ণগঞ্জে এখন শামীম ওসমানের দুর্গ তছনছ করা হবে, আওয়ামী লীগে যারা যারা শামীম ওসমানের অন্ধ অনুসারী, তাদের কমিটিগুলোকে আস্তে আস্তে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।*

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button