Featuredরাজনীতি

*ইউপি নির্বাচনে নৌকার ফলাফল বিপর্যয় একটি বড় ধরনের অশনি সংকেত*

*ইউপি নির্বাচনে নৌকার ফলাফল বিপর্যয় একটি বড় ধরনের অশনি সংকেত **ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফল বিপর্যয়, বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাপট এবং আওয়ামী লীগের কোন্দল নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিতে পারেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।*

*উল্লেখ্য যে এখন পর্যন্ত পাঁচ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ফল বিপর্যয় ঘটেছে। একাধিক স্থানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে প্রথম দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থীর শতকরা হার ছিল ৭৬ শতাংশ, দ্বিতীয় দফায় ৫৯ শতাংশ, তৃতীয় দফায় ৫৪ শতাংশ, চতুর্থ দফায় ৫১ শতাংশ এবং সর্বশেষ পঞ্চম দফায় ৪৯ শতাংশ। *

*আস্তে আস্তে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই বেশি বিজয় হচ্ছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর চেয়ে। হিসেবে করে দেখা গেছে পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত মোট ৬৯৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ জিতেছে ৩৪১ টিতে অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছে ৩৪৭ টিতে। এছাড়াও জামাতে উলাইমায়ে ইসলাম বাংলাদেশ দুটিতে, জাতীয় পার্টি দুটিতে এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটিতে বিজয়ী হয়েছেন। *

*আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে ১৬০ জন বিজয়ী হয়েছে।এছাড়া পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াতের উত্থান ঘটেছে। বিএনপি ৮৩ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে এবং পাঁচটিতে বিজয়ী হয়েছে জামায়াত। আর এর ফলে আওয়ামী লীগ মনে করছে যে আগামী বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এটি একটি অশনিসংকেত।*

*তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেন এই ঘটনা ঘটলো, বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি কেন এবং মনোনয়ন নিয়ে এত অভিযোগ কেন এসব বিষয়গুলো তদন্তের জন্য আওয়ামী লীগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে। একাধিক সূত্র গুলো বলছে যে, প্রধানমন্ত্রী এরকম তদন্ত কমিটির ব্যাপারে ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর আগে অবশ্য প্রতিটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল *

*যে তারা তাদের বিভাগে যে সমস্ত অনিয়মগুলো হয়েছে এবং নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা যে ভূমিকা গুলো পালন করেছে সে ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ৮৪ জন এমপির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এসব কারণেই মনে করা হচ্ছে যে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের এই বিষয়টি যদি এখনই খতিয়ে দেখা না হয় তাহলে*

*ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে তা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করবে।  আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম সহ কয়েকজনকে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন যে তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত রূপ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।*

*তিনি এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তবে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভূমিকাহীন ছিলেন, যারা এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন কেবল তাদেরকেই এই তদন্ত কমিটিতে রাখা হবে। তবে আওয়ামী লীগের অন্য একটি সূত্র বলছে সাংগঠনিক সম্পাদকদের রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করেই তদন্ত কমিটি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে আওয়ামী লীগ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ফলাফলকে একটি বড় ধরনের অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন এবং এটি সমাধানের জন্য কাজ করছে।*

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button