বাড়ি মুক্ত মতামত *বজ্রপাত কেন হয়, ইসলামী বিজ্ঞান কী বলে?*

*বজ্রপাত কেন হয়, ইসলামী বিজ্ঞান কী বলে?*

9
*বজ্রপাত কেন হয়, ইসলামী বিজ্ঞান কী বলে?*

সুষুপ্ত পাঠক

*বজ্রপাত কেন হয়? বিকট শব্দে যখন বাজ পড়ে সেটির শব্দই বা কেন হয়? ইসলামী বিজ্ঞান আমাদের জানাচ্ছে বজ্রপাত রা’দ নামক একজন ফেরেস্তা মেঘের উপর বসে পরিচালনা করেন। বাজ পড়ার বিকট শব্দ হচ্ছে সেই ফেরেস্তার জিজির করার শব্দ! কি বিশ্বাস হচ্ছে না? এই দেখুন হাদিস:*

*“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহুদিরা একবার নবী করিম (স) এর নিকট এসে বলল: হে আবুল কাশেম! (রাসুল (স) এর উপনাম) আমাদেরকে বজ্রপাত সম্পর্কে সংবাদ দেন উহা কী? তিনি বললেন উহা ফেরেস্তা রা’দ। যাকে মেঘের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাঁর কাছে একটি আগুনের কাপড় খন্ড রয়েছে যা দিয়ে সে মেঘমালাকে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী চালনা করেন। অতঃপর তারা আবার জিজ্ঞাসা করল,আমরা যে বিকট শব্দ শুনি সেটা কী? তিনি বললেন: ওটা হল ফেরেস্তা কর্তৃক মেঘমালাকে আদিষ্ট স্থানে স্বশব্দে হাকিয়ে নেয়া। তারা বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। রাসুল (স) আরো বলেন, রা’দ নামের একজন ফেরেস্তা রয়েছে যিনি মেঘমালাকে হাকিয়ে নেয়। আর বিকট শব্দ মূলত ঐ ফেরেস্তার যিকিরের।” (তিরমিযি- ৩১১৭, আহমদ– ২৪৮৩)।*

*আর কাফেরদের বিজ্ঞান কি বলে এ সম্পর্কে? তাগুদি বিজ্ঞান বলে:*

*“সাধারণত উত্তপ্ত ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বজ্রপাত বেশি হয়। উত্তপ্ত বায়ু যখন দ্রুতগতিতে ঠাণ্ডা হয়, তখন বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয়। এই বজ্রমেঘের ভেতরে বাতাসের দ্রুতগতির আলোড়নের সৃষ্টি হয়। এর ফলে বাতাসের জলীয়বাষ্প একই সময়ে বৃষ্টিকণা, শিশিরবিন্দু ও তুষার কণায় পরিণত হয়। বৃষ্টিকণা ও তুষার কণার পারস্পরিক সংঘর্ষের ফলে তুষারের ইলেকট্রন চার্জ ধাক্কা খায়। ফলে স্থির বৈদ্যুতিক চার্জের সৃষ্টি হয়। এই চার্জ সঞ্চিত হয়ে তীব্র শব্দের বজ্রপাত সৃষ্টি করে। যখন বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টি করে, তখনই তীব্র শব্দের সৃষ্টি হয়। বাতাসের মধ্য দিয়ে দ্রুত প্রবাহিত বজ্রবিদ্যুৎ প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা উত্পন্ন করে। ফলে বায়ুর দ্রুত প্রসারণ হয় ও তীব্র শব্দের সৃষ্টি হয়”।*

*কাফেরদের বিজ্ঞান বজ্রপাতের যে পরীক্ষিত প্রমাণ দেখালো তাতে বুঝা গেলো বজ্রপাত নেহাতই প্রাকৃতিক কর্যকলাপের বিক্রিয়া মাত্র। এতে কোন উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু মহা সত্য ইসলামিক বিজ্ঞান তো অপ্রয়োজনীয় কোন কিছুই নাকি তৈরি করেনি। তাই বজ্রপাতের কি কারণ সে প্রশ্ন তো উঠবেই। বজ্রপাত কেন হয়? ইসলাম বলছে, “হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমাদের প্রবল পরাক্রমশালী প্রভু বলেছেন, যদি আমার বান্দারা আমার বিধান মেনে চলত, তবে আমি তাদের রাতের বেলায় বৃষ্টি দিতাম, সকালবেলায় সূর্য দিতাম এবং কখনো তাদের বজ্রপাতের আওয়াজ শুনাতাম না। (মুসনাদে আহমদ : ৮৭০৮)।*

*এবার গবেষণা পরিসংখ্যান জানাই, শুধু বাংলাদেশেই বছরে ৮৪ লাখ বজ্রপাত বা ঠাটা পড়ে যার ৭২ শতাংশ পড়ে মাঠে কাজ করা গরীব কৃষকদের উপর! দেশের দুর্নীতিবাজ, চোর বাটপারদের রেখে মাঠে ফসল ফলানো গরীব কৃষকের পাপ এত বেশি হয়ে গেলো? একটু বুদ্ধি খাটালে কিন্তু আপনি “ইসলামী বিজ্ঞানের” এই ফাঁকিজুকি বুঝে ফেলবেন। বরং কাফের ইহুদীনাসারা বিজ্ঞান যে, “মূখ বধির প্রকৃতির” কথা বলে, যে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের কথা বলে সেটাই যে সঠিক তা বুঝা যায় কারণ সমতল মাঠে কাজ করতে ধনী গরীব চোর দরবেশ যেই যাক তার উপরই বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি হবে। কারণ প্রকৃতি পাপ পূণ্য বুঝে না। গরম বাতাস দ্রুত ঠান্ডা হয়ে গেলেই বজ্রমেঘে সে পরিণত হয়। বাতাসে যা বজ্রপাতের আকার নেয়। সে বজ্রপাত মানুষের উপর পড়বে না গরু ছাগলের উপর, নাকি লম্বা তালগাছের মাথায় সেটা কেউ ঠিক করে দেয় না। মানুষ এতসব আল্লাহ ভগবানের উপর আস্থা রেখেও তাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিজ্ঞানের সত্যকেই মেনে নেয়। রেডিও টেলিভিশন থেকে বলা হয়, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন। কৃষকদের বলা হয় মাঠ ছেড়ে ঘরে ফিরে আসার জন্য। বজ্রপাতকে রা’দ ফেরেস্তার অস্ত্র মনে করলে এটাকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করা হত না! বাংলাদেশ সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছে!*

পূর্ববর্তী নিবন্ধ*পাইলটের সাজা মিললো উড়ন্ত বিমানে পর্ন ভিডিও দেখায়* 
পরবর্তী নিবন্ধ*বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভারতের মিডিয়ায় প্রশংসা*