Featuredরাজনীতি
Trending

*কিছু তৃণমূল নেতারা স্বেচ্ছাচারী, লাগামহীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য রাখছেন*

*কিছু তৃণমূলের নেতারা স্বেচ্ছাচারী, লাগামহীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য রাখছেন ** সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। আর এই বিতর্ক অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয় বরং আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেদের অজান্তে এইসব কথাবার্তা বলছেন , যে কথাবার্তা শুধু তাদেরকেই বিপদে ফেলছে না । পুরো আওয়ামী লীগ এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলছে তাদের এই কর্মকাণ্ড। আওয়ামী লীগ নেতাদের এই লাগামহীন কথাবার্তা জনসাদারনের মনে নানা ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এবং সর্বশেষ এই কাতারে যোগ দিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী মাস্টার। *

*কয়েক দিন আগে  বিএনপির এক নেতার সঙ্গে তার অডিও আলাপ ফাঁস হয়েছে। সেই অডিও আলাপে তিনি এমন সব কথাবার্তা বলেছেন যে কথাবার্তাগুলো আওয়ামী লীগের জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রওশন আলী মাস্টারের পরিণতিও আব্বাস আলী কিংবা মেয়র জাহাঙ্গীরের মত হবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। বহুল আলোচিত এই অডিও আলাপে যে সমস্ত কথাবার্তা কুমিল্লা জেলা উত্তর আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেছেন তা আওয়ামী লীগ কিভাবে গ্রহণ করে সেটি দেখার বিষয়। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন যে, এই অডিও আলাপের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জাহাঙ্গীর বা আব্বাসের যে পরিণতি হয়েছে সেই একই পরিণতি হবে আওয়ামী লীগের কুমিল্লার এই নেতার। *

*অডিও আলাপে দেখা যায় যে, তিনি বলেছেন, কি হবে এদেশে রাজনীতি করে। টাকা দিলেই নমিনেশন পাওয়া যায়, মন্ত্রিত্ব পাওয়া যায়। যারা নৌকা করে তারা রাজাকারের বাচ্চা, বিরোধীদল মাঠে নেই বলেই দেশ একতরফা চলছে, দেশের এই অধঃপতন। এরকম বক্তব্য একজন আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা কিভাবে দেন তা নিয়ে সকলেই বিস্মিত। এটি আওয়ামী লীগের লাগামহীন কথাবার্তার প্রথম নমুনা নয়। এর আগে কাটাখালি পৌর মেয়র আব্বাস আলী বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়েও ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলেছিলেন। এই কথার জে’রে তাকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। আরও আগে আওয়ামী লীগের আরেক নেতা এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, *

*জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন এবং কিছুদিন আগে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এর অশ্লীল অডিও গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রশ্ন উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতারা কেন এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন লাগামছাড়া কথাবার্তা বলছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, দলের চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণেই আওয়ামী লীগের নেতারা এরকম লাগামহীন কথাবার্তা বলছেন। এই লাগামহীন কথাবার্তার উৎস হিসেবে তাঁরা মনে করছেন যে, যখন আওয়ামী লীগের কিছু নেতা এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বিতর্কিত মন্তব্য করে কোন শাস্তির মধ্যে পড়েন না তখন অন্যরাও উৎসাহিত হয় এ ধরনের কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রে। আওয়ামী লীগের এ রকম লাগামহীন কথাবার্তা এটিই প্রথম নয়। *

*উল্লেখ্য যে, ফরিদপুর থেকে নির্বাচিত নিক্সন চৌধুরী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাফরুল্লাহকে আক্রমণ করে অনেক বক্তব্য দিয়েছেন। এসব বক্তব্যের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বরং নিক্সন চৌধুরীকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে। পরবর্তীতে বসুরহাট পৌর মেয়র এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা একের পর এক সিনিয়র নেতাদের চরিত্র হনন করে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। শুধু সিনিয়র নেতা নন, এমনকি তার বড় ভাই সম্পর্কেও তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং এইসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।*

*অন্যদিকে এই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা স্বেচ্ছাচারী, লাগামহীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য রাখছেন এবং এটি আওয়ামী লীগের এখন নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা মনে করছেন যে, যদি চেইন অফ কমান্ড রক্ষা করা না যায় যেকোনো উদ্ধত্যপূর্ণ এবং আপত্তিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা যায় তাহলে এই লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে না। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন যে, যখন কেউ কেউ এ ধরনের বক্তব্য রেখে পার পেয়ে যাচ্ছে তখন অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছে। আর এটিই আওয়ামী লীগের বর্তমানে অন্যতম সংকট হিসেবে সামনে এসেছে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।*

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button