প্রচ্ছদ রাজনীতি শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগে নবজাগরণ

শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগে নবজাগরণ

41
শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগে নবজাগরণ

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এই অবস্থায় কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠি সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নেপথ্যে থেকে তৎপরতা চালাচ্ছে। আর এর সাথে যুক্ত হয়েছে হেফাজতে ইসলামের কিছু নেতা। তবে সব আলোচনা ছাপিয়ে এখন যে বিষয়টি সামনে এসেছে সেটা হচ্ছে, গত শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়ায় নির্মানাধীন বঙ্গন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা।
রাতের আধারে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার পর তাৎকণিকভাবে সারাদেশের মানুষ নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সামাজিক মাধ্যম থেকে শরু করে সবখানেই এখন একটাই আলোচনা বঙ্গবন্ধু বাঙালির অনুভূতি, সেখানে হাত দিলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ওই ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও সংগঠনগুলোর মধ্যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বোচ্ছাসেবক লীগ, মৎস্যজীবী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনগুলো এই বিষয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যেসব শরীক দল আছে তারাও যার যার অবস্থান থেকে ভাস্কর্য ভাঙার বিরুদ্দে স্বোচ্ছার হয়েছে, প্রতিবাদ কলেছে, রাজপথে অবস্থান নিয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচিসহ সারাদেশের একযোগে গণজাগরণ শুরু করেছে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বঙ্গবন্ধু যে বাঙালির চেতনা সে বিয়টি বাঙালি আবার প্রমাণ করলো। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে দল মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছে, একত্রিত হয়ে সমুস্বরে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো যেভাবে প্রতিবাদ-সমাবেশ বা বিক্ষোভ মিছিল করছে তা দেখে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগে গণজাগরণ শুরু হয়েছে। ভাস্কর্য শধু বাংলাদেশেই নয় পৃথিবীর অনেক দেশেই আছে। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে অনেক ভাস্কর্য রয়েছে কিন্তু সেগুলো নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, নেই কোনো প্রতিবাদ। কিন্তু বাংলাদেশের কিছু মৌলবাদীরা এই বিষয়কে উষ্কে দিয়ে নিজেরা ফায়দা নিতে চাইছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ভাস্কর্য ইস্যু: আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেছে
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও এটি নিয়ে আসলে বিতর্ক করার কিছু ছিলো না। শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশে ভাস্কর্য রয়েছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশর কিছু মৌলবাদীরা আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলার জন্য একটি মহলের রাজনৈতিক ইন্ধোনে এই বিতর্কের সূচনা করেছ। এই অবস্থায় হেফাজতে ইসলামের নেতারা বিষয়টাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে বিএনপি-জামায়াত। তারা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলার কোনো ইস্যু পাচ্ছে না। অন্যদিকে তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বড় ধরনের আন্দালন করার সক্ষমতাও নেই। কাজেই ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে নিয়ে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উত্তেজিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলতে চেয়েছেন তাদের অবস্থান ব্যখ্যা করার জন্য।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও তার জোটের দলগুলো দীর্ঘদিন নিষ্কিয় ছিলো। বিশেষ করে ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তার মৃত্যুর পর ধেকে ১৪ দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতী হারায়। এই অবস্থায় ভাস্কর্য ইস্যুতে আবার নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে আওয়ামী লীগে ও তার শরীক দলগুলো। ইতিমধ্যে বাম দলগুলো ভাস্কর্য ইস্যুতে তাদের অবস্থান তুলে ধরছেন। এই অবস্থায় চলমান বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগে জোয়ার এসেছে।
আওয়ামী লীগের কার্যলয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলীয় কর্মকাণ্ডে দলীয় কর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষণীয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভাস্কর্য ইস্যুতে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের মধ্যে যে সমন্বহীনতা ছিলো সেটা নতুন করে আবার সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেলো। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে আবার নবরূপে উজ্জিবিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও এর শরীক দলগুলো।