প্রচ্ছদ আইন-আদালত ভাস্কর্য বিরোধী দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ভাস্কর্য বিরোধী দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

68
ভাস্কর্য বিরোধী দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামানের নির্মীয়মাণ একটি ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলেছে মৌলবাদী দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় সরকার কঠোর মনোভাব দেখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনার পর কঠোর অবস্থান নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে প্রধানমন্ত্রী এ ধরণের অপতৎপরতা এবং নোংরামিকে প্রতিহত করার জন্য আইনগতভাবে আইন প্রক্রিয়া সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আজ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে টেলিফোনে আলাপ করেন বলেও জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের আজ বলেছেন যে প্রধানমন্ত্রী ভাস্কর্যের ইস্যু সম্পর্কে অবহিত আছেন এবং তিনি এ ব্যাপারে যথাযথ নির্দেশনা দিচ্ছেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে সরকার এখন ভাস্কর্য বিরোধী অপতৎপরতা রুখতে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছে দীর্ঘ দিন ধরেই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়ে থাকে কিন্তু এগুলো নিয়ে কখনও তেমন কোন আলোচনা সমালোচনা হয়নি, মৌলবাদীরা এ নিয়ে কখনই এ নিয়ে কথা-বার্তা বলে নাই। কিন্তু এখন হঠাৎ করে ভাস্কর্য ইস্যুকে তারা সামনে এনেছে কেন এটি একটি বড় প্রশ্ন।
সকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছে এর পেছনে রাজনৈতিক মতলব রয়েছে এবং রাজনৈতিক দূরভিসন্ধিক থেকেই ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে মৌলবাদীরা উস্কানিমূলক অবস্থান গ্রহণ করেছে। আর এ কারণেই সরকার ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলন মোকাবেলার জন্য কঠোর এবং পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে:

প্রথম, আইনগত ব্যবস্থা: মৌলবাদীদের এ ধরনের আন্দোলন বা অন্যায়ের দাবি কোন অবস্থাতেই মেনে নেয়া হবে না এবং এরকম দাবি বা আন্দোলনকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। আইনগতভাবে এসব মোকাবেলা করা হবে।
দ্বিতীয়, রাজনৈতিক জাগরণ: ভাস্কর্যর বিরোধীদেরকে প্রতিহত করার জন্য আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে কাজ করবে এবং সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের এ সংক্রান্ত নীতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুধু ঢাকায় নয় সারা দেশে মানববন্ধন করা এবং ভাস্কর্য বিরোধীদেরকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছেন।
তৃতীয়, চোরাগুপ্ত হামলা প্রতিহত করা: মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীর পিতার ভাস্কর্য নির্মিত হচ্ছে। এখন কুষ্টিয়ার ঘটনা স্পষ্ট করেছে যে এসমস্ত হামলাগুলোর রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে তারা এখন চোরাগুপ্ত পথে রাতের অন্ধকারে এ ভাস্কর্যগুলো আক্রমণ করতে পারে এবং ভাংচুর করতে পারে। আর একারণেই ভাস্কর্যগুলোর সুরক্ষার জন্য সেখানে টহল জোরদার করা, রাজনৈতিক পাহারা জোরদার করার উপর গুরুত্ব দিয়েছে আওয়ামীলীগ সরকার।

চতুর্থ, দুর্বৃত্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: কুষ্টিয়ায় যারা এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে অন্যান্য স্থানে যারা এনিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারী পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চম, পাড়া-মহল্লায় কমিটি গঠন: ভাস্কর্য সুরক্ষায় এবং ভাস্কর্য বিরধিতাকে প্রতিহত করার জন্য স্থানীয় পর্যায় পারায় মহল্লায় কমিটি গঠন করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। একই ভাবে প্রত্যেকটি জায়গায় ভাস্কর্য সুরক্ষার জন্য কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মী এবং আইন প্রক্রিয়া সংস্থাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে এ ধরনের অপকর্মকারীদেরকে কোন ধরণের ছাড় দেওয়া হবে না। যারা ভাস্কর্য বিরোধিতার নামে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে সরকার এ ব্যপারে শুন্য সহিষ্ণুতা নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।