প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় রাতের আঁধারে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর

রাতের আঁধারে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর

42
রাতের আঁধারে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর

কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভাস্কর্য নির্মাণকাজের প্রায় ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছিল।কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে রাতের আঁধারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভেঙ্গে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে নির্মাণাধীন ভাস্কর্য়ের মুখ ও হাতের অংশে ভাঙচুর করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার এ ঘটনায় কুষ্টিয়া জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (৫ ডিসেম্বর) ভাস্কর্য চত্ত্বরে বিক্ষোভ করেছে জেলা শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাত জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা গেছে রাত ২টার দিকে দুজন ব্যক্তি ভাস্কর্য ভাঙচুর করছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অচিরেই তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, “এ ধরনের নোংরা কাজ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। যারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং মদদ দিয়েছে, তাদের প্রত্যেককেই খুঁজে বের করে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে। যে বা যারা ভাঙচুর করেছে তাদের কাউকে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না।”
কুষ্টিয়া পৌরসভা সূত্র জানায়, শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ২০০৩ সালে পাঁচ রাস্তার মোড়ে জাতীয় ফুল শাপলার একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে এটি “শাপলা চত্বর” হিসেবে পরিচিত মানুষের কাছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বর্তমানে শাপলার ভাস্কর্য ভেঙে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর তিনটি ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেখানে নিচের দিকে জাতীয় চার নেতার মুর‌্যাল থাকবে। দরপত্রের মাধ্যমে যশোরের একজন ভাস্কর মাহবুব জামাল শামীম এ ভাস্কর্য নির্মাণের কার্যাদেশ পান। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ১৭ নভেম্বর থেকে কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ভাস্কর্য তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিল। কিন্তু গতকাল শুক্রবার রাতে কে বা কারা ভাস্কর্যের মুখ-হাতসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলে।

কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভাস্কর্য নির্মাণকাজের প্রায় ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছিল। ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় পৌরসভার পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে যারা আওয়ামী লীগের বিরোধী, বঙ্গবন্ধুকে যারা মানতে পারে না; তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হচ্ছে। এদিকে এ ঘটনার পর জেলার সবগুলো ভাস্কর্যে অতিরিক্ত নজরদারি শুরু হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসলাম হোসেন বলেন, “এ ঘটনার পর কালেক্টরেট চত্বরসহ জেলায় যতগুলো ভাস্কর্য আছে সবগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ইউএনওদেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

ভাস্কর্য বিরোধিতাকারীরা জামায়াত-বিএনপির ভাড়াটে: ইনু
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধিতাকারীরা ধর্মীয় নেতা না বলে মন্তব্য করেছেন জাসদ একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধিতাকারীরা জামায়াত-বিএনপির ভাড়াটে খেলোয়াড় বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দেশব্যাপী ধর্মান্ধ রাজনৈতিক শক্তি ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণ করার হুমকি, নারী বিদ্বেষী প্রচারণা, মুক্তিযুদ্ধ-সংবিধান-জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-সভ্যতা বিরোধী কর্মকাণ্ড দমন করা এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাকা মহানগর জাসদ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন ইনু।
হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধীতাকারী রাজনৈতিক মোল্লারা আলেম, ওলামা, ধর্মীয় নেতা না; ফতোয়া দেওয়ার বৈধ অধিকারীও না, জামায়ত-বিএনপির ভাড়াটে খেলোয়ার। রাজনৈতিক মোল্লারা রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের মনগড়া অপব্যাখা দেয়। রাজনৈতিক মোল্লারা ১৯৭১ সালে ধর্মকে স্বাধীনতার বিপক্ষে দাঁড় করিয়েছিল, এখন বাংলাদেশ রাষ্ট্র-সংবিধান-জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-সভ্যতার বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মোল্লারা বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ-সন্ত্রাসবাদের প্রজনন ক্ষেত্র বিপদজনক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে সারা দুনিয়া থেকে একঘরে করা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশে দেশে অভিবাসী বাংলাদেশি মুসলমানদের বিপদে ফেলে দিচ্ছে।’ ধর্মব্যবসায়ী, রাজনৈতিক মোল্লাদের এক চুল ছাড় না দিয়ে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ জাসদ কার্যালয়ের সামনে মীর হোসাইন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি নুরুল আখতার, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল প্রমুখ।