প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় দশ বছর পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

দশ বছর পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

47
দশ বছর পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাত্র দুই সপ্তহ আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই বৈঠকের আয়োজনে ব্যস্ত দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বৈঠকের আগে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক কি কোন তাৎপর্য বহন করে?
এ নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কূটনৈতিক মহলে এক ধরনের চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এটি নিয়ে। কেন প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করলেন? এই বৈঠকের ফলে বাংলাদেশ-ভারত প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা এই ধরনের প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে।

উল্লেখ্য যে পাকিস্তানের একজন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটি দীর্ঘ ১০ বছর পর সাক্ষাৎ। বাংলাদেশ পাকিস্তানের সম্পর্ক গত দুই যুগ ধরে নানারকম টানা পোড়েনের মধ্যে ছিল। এর আগে পাকিস্তানের একজন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে নিয়োগ দিলে বাংলাদেশ তাকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন বাংলাদেশে পাকিস্তান দূতাবাসে কোন হাইকমিশনার ছিল না।
অবশেষে পিছু হটে পাকিস্তান এবং ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর নাম প্রস্তাব করলে বাংলাদেশ প্রস্তাব গ্রহণ করে। ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ। গণভবনে অনুষ্ঠিত ওই সাক্ষাতে কী আলোচনা হয়েছে সে ব্যাপারে সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস যা জানিয়েছে তা হলো শুধু আনুষ্ঠানিকতা। দুই দেশের সম্পর্ক কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শুভেচ্ছা এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে বলে বাসস জানিয়েছে।

তবে এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, একাত্তরের ক্ষত রয়ে যাবে। একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী যে নৃশংসতা এবং গণহত্যা চালিয়েছে তা বাংলাদেশ কখনও ভুলে যাবে না। কিন্তু এই সমস্ত আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে এই বৈঠককে পরোক্ষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন চলছে এবং এটার অন্যতম কারণ হলো চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে চীন সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সবগুলো মেগা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ রয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার গত দুই বছর ধরে পাকিস্তানে সঙ্গে আগের বৈরিতা থেকে সরে আসছে। আস্তে আস্তে পাকিস্তানের সঙ্গে বিভিন্ন অর্থনৈতিক এবং রপ্তানি বাণিজ্য জোরদার করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দু`দফা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কে ফোন করেছেন। এই সব কিছু ভারতের জন্য অস্বস্তিকর বলে মনে করছেন কূটনৈতিকরা। কারণ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের যে বৈরিতা তা নতুন বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে এই বৈরিতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিশ্বের অন্যতম আলোচনার বিষয়।

যদিও বাংলাদেশ পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়`। সেই নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের স্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে তবে এখনও পাকিস্তান বাংলাদেশের একাত্তরে গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি। এখনও পাকিস্তান বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি। এইরকম একটা প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী কেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করলেন? তিনি কি ভারতকে একটু চাপে ফেলানোর জন্য এবং বাংলাদেশের কাছে ভারত একমাত্র অগ্রাধিকার নয় এই বার্তাটি দিতেই কি প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন?
গত সময় ধরে কূটনৈতিক অঙ্গনেও ধারণা আছে যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি এবং কূটনীতি ভারত নির্ভর। ভারত নির্ভরতা কাটানোর জন্য কি প্রধানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী সঙ্গে গণভবনে বৈঠক করলেন মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে? পাকিস্তানের হাই কমিশনারের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে শেখ হাসিনা একটি বার্তা দিয়েছেন সেই বার্তাটি হলো যে, ভারতকে এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন হিসাব নিকাশ করতে হবে কারণ বাংলাদেশ এখন উপমহাদেশে একটি বড় ফ্যাক্টর।