প্রচ্ছদ প্রবাস সাবেক বিচারপতি সিনহার অবৈধ সম্পদ কন্যাদ্বয় আত্মসাত করেছে

সাবেক বিচারপতি সিনহার অবৈধ সম্পদ কন্যাদ্বয় আত্মসাত করেছে

39
সাবেক বিচারপতি সিনহার অবৈধ সম্পদ কন্যাদ্বয় আত্মসাত করেছে

বাংলাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করেন। একাকী, নিঃসঙ্গ তার জীবন। অথচ সারা জীবন বৈধ এবং অবৈধ পন্থায় বিপুল বিত্ত বৈভব গড়ে তুলেছিলেন বিদেশে।
কানাডার টরেন্টোতে বেগম পাড়ায় দুটো বাড়ী কিনেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে কিনেছিলেন একটি বাড়ী। সিঙ্গাপুরে দুটি ফ্ল্যাট, স্থাবর সম্পত্তি ছাড়াও কানাডায় বাংলাদেশী টাকায় ৫০ কোটি টাকা। অস্ট্রেলিয়ায় ১০ কোটি টাকা পাচার করেছিলেন। কিন্তু এসব সব সম্পদ হাত ছাড়া হয়েছে তার। দুই মেয়ের নামে রাখা এসব সম্পদ এখন তারা বাবাকে ফিরিয়ে দিতে রাজী নয়। এমনকি, বাবার নারী ঘটিত ব্যাপার স্যাপার ফাঁস হওয়ার সাথে সাথে বাবার সংগে যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দুই কন্যা। বড় মেয়ে সূচনা সিনহা থাকেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে। দ্বিতীয় মেয়ে আশা রানী সিনহা থাকেন কানাডার টরেন্টোতে। দুই কন্যাই বিবাহিত। তাদের স্বামীরা ঐ দেশেই চাকরী করেন।
বিচারপতি সিনহা প্রথম বাড়ী কেনেন সিডনীতে। ২০১১ সালে। তখনও তিনি প্রধান বিচারপতি হননি। মেয়ের নামে সিডনীতে ঐ বাড়ী কিনতে ব্যায় করেন ৩০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
২০০৮ সালে সিনহার ছোট মেয়ে কানাডার ইমিগ্রান্ট হন। কানাডায় বিজনেস ক্যাটাগরিতে ইমিগ্রান্ট হন আশা রানী সিনহা। এজন্য তাকে ৫ কোটি কানাডিয়ান ডলার জমা দিতে হয়। আশা রানীর কানাডায় প্রথম বাড়ী হয় ২০১৫ সালে।
বিচারপতি সিনহার প্রধান বিচারপতি হবার ঠিক দুমাস পর। ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন সিনহা। ২০১৬ সালের অক্টোবরে তার জামাতার নামে কানাডায় দ্বিতীয় বাড়ীটি কেনেন সিনহা।

উল্লেখ্য ২০১৫ এর জানুয়ারিতে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেন সিনহা। অবশেষে ১০ নভেম্বর ২০১৭ সালে তিনি সিঙ্গাপুর থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের আগে তার বিরুদ্ধে অর্থ কেলেংকারী এবং নারী কেলেংকারীর অভিযোগ উঠেছিল।
দুর্নীতির অভিযোগ অবশ্য বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে নতুন নয়। বিচারক জীবনের শুরু থেকেই সিনহা একজন ‘দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে পরিচিত পান। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল। ঐ অভিযোগে তাকে জোর করে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষরের জন্য বঙ্গভবনে ডাকা হয়। সেখান থেকে তিনি পালিয়ে আসেন। এরপরও তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিতর্কের মুখে দেশ ত্যাগ করে, বড় মেয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়ায় যান সিনহা। এসময়ই সুপ্রীম কোর্টের এক নারী কর্মকর্তার সংগে বিচারপতি সিনহার কিছু অন্তরঙ্গ ছবি যায় সূচনার ইমেইলে। এনিয়ে বাবাকে প্রশ্ন করেন সূচনা। কিন্তু বিচারপতি সিনহা এর জবাব না দিয়েই অস্ট্রেলিয়া থেকে সিঙ্গাপুর আসেন। এখানেই বড় মেয়ের সংগে তার সম্পর্কের ইতি ঘটে।
ছোট মেয়ে আশা রানীও এসব ছবি পান বড় দিদির কাছ থেকে। তিনিও বাবাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। এবারও সিনহা উত্তেজিত হন। আশার সংগেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এখন দুই মেয়ে তাদের বাবার দুর্নীতির টাকা ভোগ করছে। কিন্তু বাবাকে ক্ষমা করছে না। আর বেচারা সিনহারও ঐ বাড়ী এবং টাকা যে তার এটা প্রকাশ্যে বা আইনী প্রতিকারের জন্য বলতে পারছেন না। বরং দুই মেয়েকে তিনি ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেই তুষ্ট থাকছেন।