প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় সরকার হটাতে হেফাজতের পিছনে বিএনপি-জামায়াত

সরকার হটাতে হেফাজতের পিছনে বিএনপি-জামায়াত

33
সরকার হটাতে হেফাজতের পিছনে বিএনপি-জামায়াত

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যসহ দেশের সকল ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ ইসলামিক দলগুলোর দাবির পিছনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সরাসরি ইন্ধন আছে বলে দাবি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শরিক দলগুলোর।
প্রায় দুই মাস ধরেই ঢাকার ধোলাইপাড় চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য তৈরি করার পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে অনেকগুলো ইসলামপন্থী দল। অক্টোবর মাসে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ভাস্কর্য নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশও করে কয়েকটি ইসলামিক দল।
তবে ভাস্কর্য ইস্যুতে সারাদেশে তোড়পাড় শুরু হয় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ন মহাসচিব ও খেলাফত মজলিশের নেতা মামুনুল হকের মন্তব্যের পর। নভেম্বরের ১৩ তারিখ ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ভাস্কর্য তৈরির বিরোধিতা করে এই নেতা হুশিয়ারি দেন, ঢাকায় ভাস্কর্য নির্মাণ করা হলে তা বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করা হবে।

মামুনুলের এই বক্তব্যের সমর্থনে আরো কড়া মন্তব্য করেন হেফাজতের নবনির্বাচিত আমির জুনাইদ বাবুনগরী। তিনি সারাদেশের সকল ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার দাবি জানান।
বাবুনগরীর বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ যথাসময়ে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর শরিক রাাজনৈতিক দলগুলো।
একই সাথে আওয়ামী লীগ ও এর শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ হেফাজত ও অন্যান্য ইসলামিক দলগুলোকে ইন্ধন দেওয়ার জন্য বিএনপিকে দায়ী করছে।
আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর বিএনপি হেফাজতকে দিয়ে সরকারের উৎখাতের ষড়যন্ত্র করে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে বিএনপির ইন্ধনে হেফাজত ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর ঘেরাও করে ও ব্যাপক সহিংসতা চালায়। এই ঘটনার পর অবশ্য সরকারের সাথে হেফাজতের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়।

কিন্তু হেফাজতের প্রথম আমির শাহ আহম্মদ শফীর মৃত্যুর পর নতুন আমির হোন বিএনপিপন্থী হিসাবে পরিচিত জুনাইদ বাবুনগরী। সংগঠনটির ১৫১ সদস্যের কমিটিতে বাবুনগরী বিএনপির ২০ দলীয় জোটের অংশীদার বিভিন্ন ইসলামিক দলের নেতৃবৃন্দকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসান। তাদেরই একজন হেফাজতের যুগ্ন মহাসচিব মামুনুল হক। তার দল খেলাফতে মজলিশ বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় অন্যতম শরিক। বিএনপিপন্থী এসব নেতার ভাস্কর্য বিরোধীতা ও এই ইস্যুতে বিএনপির নির্বাক থাকার কারণে স্বভাবতই ইঙ্গিত করে এই ইস্যুর সাথে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা।
ভাস্কর্য বিতর্কে বিএনপির অবস্থান নিয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘দেশের আপামর জনতা এই ধর্মান্ধ দলগুলোর ধর্ম গেল জিকিরের বিরুদ্ধে সারা দেশের সচেতন মানুষ সোচ্চার হলেও বিএনপি ও জামায়াত একেবারেই নিশ্চুপ। বিএনপি এই নিশ্চুপতার মাধ্যমে আসলে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীদের দাবিকেই ইন্ধন দিচ্ছে। হেফাজত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই দাবির পেছনে আদতে বিএনপির ইন্ধন রয়েছে। যদি ইন্ধন না থাকতো তাহলে ভাস্কর্য বিতর্ক নিয়ে বিএনপি অবস্থান প্রতিক্রিয়া জানাতো বিবৃতি দিতো’।

আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হন আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে একটি ধর্মান্ধ গোষ্ঠী বিএনপি-জামাতের ইন্ধনে দেশে বিভেদের রাজনীতি ও অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মভীরু মানুষের অনুভূতিকে উসকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আমাদের সকলকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে’।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপিই পর্দার আড়ালে ষড়যন্ত্রে তত্ত্বে বিশ্বাসী, তারাই ক্ষমতার জন্য অপকৌশল ও দেশ বিদেশে বিভিন্ন খেলা খেলছে’।
ভাস্কর্য বিতর্কে বিএনপির অবস্থান বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘ধর্মান্ধ এসব গোষ্ঠীদের অন্য কোন অসৎ-অশুভ উদ্যেশ্যে রয়েছে। এর পেছনে অবশ্যই রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে। বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার জন্যই এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে’।
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র হেফাজত ও অন্যান্য ইসলামিক দলের মাধ্যমে বাস্তবায়নের মিশনে নেমেছে বিএনপি ও জামায়াত’।