প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় আওয়ামী লীগের মোস্ট সিনিয়র নেতারা সংকটে নীরব কেনো?

আওয়ামী লীগের মোস্ট সিনিয়র নেতারা সংকটে নীরব কেনো?

40
আওয়ামী লীগের মোস্ট সিনিয়র নেতারা সংকটে নীরব কেনো?

ভাস্কর্য বিতর্ক নিয়ে সৃষ্ট বিশেষ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা প্রতিক্রিয়া জানালেও আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা অনেকটাই আড়ালে রয়েছেন।
ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মোস্ট সিনিয়র নেতাদের ‘রাজনৈতিকভাবে’ এমন নিষ্ক্রিয়াকে আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ‘অপব্যাখ্যাজনিত নীরবতা’ হিসেবে দেখছেন।
প্রায় দুই মাস ধরেই ঢাকার ধোলাইপাড় চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য তৈরি করার পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে অনেকগুলো ইসলামপন্থী দল। অক্টোবর মাসে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ভাস্কর্য নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশও করে কয়েকটি ইসলামিক দল।
তবে ভাস্কর্য ইস্যুতে সারাদেশে তোড়পাড় শুরু হয় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ন মহাসচিব ও খেলাফত মজলিশের নেতা মামুনুল হকের মন্তব্যের পর। নভেম্বরের ১৩ তারিখ ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ভাস্কর্য তৈরির বিরোধিতা করে এই নেতা হুশিয়ারি দেন, ঢাকায় ভাস্কর্য নির্মাণ করা হলে তা বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করা হবে।

মামুনুলের এই বক্তব্যের সমর্থনে আরো কড়া মন্তব্য করেন হেফাজতের নবনির্বাচিত আমির জুনাইদ বাবুনগরী। তিনি সারাদেশের সকল ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার দাবি জানান।
বাবুনগরীর বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ যথাসময়ে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর শরিক রাাজনৈতিক দলগুলো। মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনগুলো। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাও কড়া প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
ভাস্কর্য বিতর্ক নিয়ে আওয়ামী লীগ কিছুটা অস্বস্তিতে আছে। বিএনপি ও জামায়াতের ইন্ধনে ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভাস্কর্যকে মূর্তি হিসাবে ইসলামিক দলগুলো বিতর্ক তৈরি করলেও আওয়ামী লীগ বিতর্ক সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। কারণ আওয়ামী লীগ মনে করে, এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে সরকারকে ধর্ম বিরোধী হিসাবে অ্যাখ্যা দিয়ে ভোটের মাঠে ফায়দা নেওয়া চেষ্টা করবে বিএনপি ও জামায়াত জোট।

আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ভাস্কর্য সংকটকে দলটির বড় সংকট হিসাবেই হিসাবেই দেখছে। তাদের মতে, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আরোহনের পর অতীতে এত বড় সংকটের সম্মুখীন হয়নি আওয়ামী লীগ। এই ইস্যুতে একটি ভুল পদক্ষেপ ক্ষমতাসীন দলটির পুরো রাজনৈতিক অবস্থানকে টালমাটাল করে দিতে পারে।
এই গভীর সংকটে প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক জ্ঞানে বলিষ্ঠ সিনিয়র নেতাদের যখন দলের অতি প্রয়োজন, ঠিক তখন এক অজানা কারণে মোস্ট সিনিয়র নেতাদের সবাই মৌনব্রত পালন করছেন।
রাজনীতির মাঠে অতি পরিচিত এই সকল নেতারা জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও অতীতে আওয়ামী লীগের সংকটকালে সবসময়ই সোচ্চার ছিলেন তারা। জনগণকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে জাতিকে অনেক সংকট থেকে উদ্ধার করেছেন এই সব নেতারা।

আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, ‘অতীতে সমস্যা সংকটে দলের সিনিয়র নেতারা কান্ডারীর ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু আজ যখন দল ও জাতি চরম সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। মৌলবাদীরা যখন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুন্ঠিত করার চেষ্টা করছে, তখন সিনিয়র নেতাদের নিশ্চুপতা বরং দল ও জাতিকে আরো গভীরে সংকটে পতিত করছে’।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, সিনিয়র নেতারা খুব দ্রুতই ভাস্কর্য বিতর্কতে তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে জনগণের সামনে আসবেন। এবং তারা যত দ্রুত সামনে আসবেন, ততই দ্রুত দল ও জাতি এই সংকট থেকে মুক্ত হবে।