প্রচ্ছদ রাজনীতি রুখবে কে?: ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছেন বাবু নগরী ও কাসেমী!

রুখবে কে?: ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছেন বাবু নগরী ও কাসেমী!

68
রুখবে কে?: ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছেন বাবু নগরী ও কাসেমী!

হেফাজতে ইসলামের নতুন আমির হয়েছেন জুনায়েদ বাবু নগরী আর মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন কাসেমী। দুজন এই দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছেন। এমন আপত্তিকর বিভ্রান্তিমূলক এবং উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলছেন। যার ফলে জনমনে একধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হচ্ছে। এই জুনায়েদ বাবু নগরী এবং নূর হুসাইন কাসেমী দুজনেই হেফাজতের আমির এবং মহাসচিব হলেও এদের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। এরা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক ধারক বাহক এবং পৃষ্ঠপোষক।
হেফাজতের আমির হওয়ার আগে থেকেই এরা নিজেদেরকে রাজনৈতি কর্মকাণ্ডে বিশেষ করে মৌলবাদি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে রেখেছিল। আমরা যদি ২০১৩ সালের ৫ মার্চ এর ঘটনার দিকে ফিরে যাই তাহলে দেখবো যে সেই সময় দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং সরকার পতন ঘটানোর পরিকল্পনার প্রধান হোতা ছিলেন জুনায়েদ বাবু নগরী। এজন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অন্যদিকে কাসেমী বাংলাদেশে উগ্রবাদি ধর্মান্ধ এবং স্বাধীনতা বিরোধিদের রাজনীতিবিদদের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে আলোচিত পরিচিত।

কাসেমীকে হেফাজতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি একটা গভীর পরিকিল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এরা দুজন হেফাজতের আমির হবার পর তারা যে কাজগুলো করছে তা হলো প্রথমত তারা ভাস্কর্য নিয়ে উস্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। কিন্তু ভাস্কর্যের বিরোধীতার আড়ালে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছে তারা যেটি করতে চাচ্ছেন তা হলো সরকার বিরোধী সরকারবিরোধী আন্দোলন কে উস্কে দিতে চাচ্ছেন। সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মভীরু মানুষ কে ক্ষেপিয়ে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। আর এ কারণেই তারা প্রতিনিয়ত উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এরকম কথাবার্তা বলছে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের পর থেকেই সরকার হেফাজতের সাথে একটি সমঝোতার চেষ্টা করে। এই সমঝোতার অংশ হিসেবেই আল্লামা শফীর অনেক দাবি-দাওয়া সরকার মেনে নেয়। এই সময় আল্লামা শফীর সঙ্গে বাবুনগরীর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। হেফাজতের একাধিক আল্লামা শফী অনুসারী বলছেন যে, আসলে আল্লামা শফীর সঙ্গে বাবুনগরী এবং কাসেমী হেফাজত দখল করে নিয়েছেন। এখন আল্লামা শফী অনুসারীরাই হেফাজতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। হেফাজত বাংলাদেশে অনেক বেশি সংঘঠিত শক্তি এ কারণে যে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং আলেমরা এই হেফাজতের সঙ্গে জড়িত। তারা বাংলাদেশে ইসলাম পছন সংগঠনগুলোর মধ্যে এটিই বৃহত্তম সংগঠন।

আর এ কারণেই হেফাজতের নেতৃত্বই যদি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। তারা যদি সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন তাহলে আরেকটি ২০১৩ এর মে’র মত আরেকটি ঘটনাও তারা ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বাবুনগরী এবং কাসেমী কেবল দায়িত্ব নিয়েছেন। নতুন দায়িত্ব নেয়ার পর তারা এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছেন, হয়তো দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। তবে কওমী মাদ্রাসার জন্য সরকার যা করেছে সেটির প্রেক্ষিতে বাবু নগরী বা কাসেমী সরকার বিরোধী উস্কানি দিয়ে হেফাজতের কর্মীদের সমর্থন পাবেন বলে মনে হয় না। কিন্তু বাবুনগরী এবং কাসেমী একা নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা । তাদের পেছনে রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে বিশেষ করে বিএনপি এবং স্বাধীনতার বিরোধি জামায়াত জুনায়েদ বাবু নগরীকে এবং কাসেমীকে উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।