প্রচ্ছদ রাজনীতি যেভাবে আওয়ামী লীগ বন্ধুহীন হয়ে পড়লো

যেভাবে আওয়ামী লীগ বন্ধুহীন হয়ে পড়লো

47
যেভাবে আওয়ামী লীগ বন্ধুহীন হয়ে পড়লো

আওয়ামী লীগ ২০০১ সালের পর থেকে জোট করে। ১৪ দলীয় জোটটা মূলত আদর্শিক জোট এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনার দলগুলোকে নিয়ে একটি ঐক্য। এখানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, ওয়ার্কস পার্টি, জাতীয় সাম্যবাদী দলসহ ছোট ছোট বেশ কয়েকটি দলা আছে যারা উদার নৈতিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাদেরকে নিয়ে ঐক্য গড়া হয়েছিলো। আবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনের জন্য মহাজোট করছিলো। কিন্তু মহাজোট নিয়ে জিএম কাদের বলেছেন, মন্ত্রিসভায় যেহেতু জাতীয় পার্টি নেই কাজেই মহোজোট ঐতিহাসিকভাবেই নেই। এই অবস্থায় মাহজোটের কোনো কার্যক্রমও নেই। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ যে মন্ত্রিসভা গঠন করে সেখানে কোনো শরিক দলকে রাখা হয়নি। শরিককে না রেখে আওয়ামী লীগ একা একাই মন্ত্রিসভা গঠন করেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় দু’বছর হতে চললেও আওয়ামী লীগের বাইরে কোনো মন্ত্রী নেই।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম মারা যাওয়ার পরে আমির হোসেন আমুকে ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু ১৪ দলের সমন্বয়ক হওয়ার পরে উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মকাণ্ড করেননি তিনি। যার ফলে এখন ১৪ দল আছে, না নাই সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ১৪ দল নিষ্ক্রিয়। আবার মহাজোটের কার্যক্রমও নেই।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ না থাকায় এমন অবস্থা তৈরি হয়ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতি মহলের অনেকে। কিন্তু বাংলাদেশ এমন একটা দেশ যেখানে কোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। হঠাৎ করেই মৌলবাদীরা উষ্কানিমূলক অবস্থান নিয়েছে। এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো এই জোট। এতে করে সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিগুলো একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসমস্ত উষ্কানি প্রতিহত করত পারতো একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম নিয়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন কর্মকাণ্ড না থাকায় এই জোটকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারছে না আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, এরকম অবস্থা থেকে আওয়ামী লীগকে বের হয়ে আসতে হবে। এখন যদি জোট এবং শরিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করেত না পারে তাহলে সামনের দিনগুলোতে বিভিন্ন উষ্কানি এবং আন্দোলন প্রতিহত করাটা আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

৬ ডিসেম্বর সব পৌরসভার প্রার্থিতা দেবে আ.লীগ
গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত মনোনয়ন বোর্ড ২৫টি পৌরসভার প্রাথিতা ঘোষণা করেছে। প্রথম ধাপে এই ২৫টি পৌরসভার নির্বাচনের তফশীল ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনকে আগামী ৬ ডিসেম্বর সব পৌরসভার প্রাথিতা দেবে আ.লীগ
গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত মনোনয়ন বোর্ড ২৫টি পৌরসভার প্রাথিতা ঘোষণা করেছে। প্রথম ধাপে এই ২৫টি পৌরসভার নির্বাচনের তফশীল ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনকে আগামী ফেব্রুয়ারির আগেই ১৮৫ টি পৌরসভার নির্বাচন করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ৪টি, ১০ ফেব্রুয়ারি ৪৬টি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৩৩টি পৌরসভার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে তাই ধাপে ধাপে এই নির্বাচনী তফশীল ঘোষণা করতে হবে।
তবে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই পৌরসভা নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সংগে নিয়েছে। তাই নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করা হোক আর না হোক আগামী ৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সবগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভার প্রার্থী চুড়ান্ত করবে।
ঐ দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে কৌশলগত কারণে আওয়ামী লীগ আগাম প্রার্থীতা ঘোষণা করছে। এই কৌশলগত কারণ গুলোর মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত, অভ্যন্তরীন কোন্দল ঠেকানো; আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা জানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে, পৌরসভা চেয়ারম্যান পদের জন্য প্রচুর প্রার্থী আছেন। তাই যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক, তার প্রতিপক্ষ এর বিরোধিতা করবে। আগে প্রার্থিতা ঘোষণা করলে, কোন্দল থামানো যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিবৃত্ত করা যায়। একারণে আওয়ামী লীগ আগাম প্রার্থিতা ঘোষণা করছে।
দ্বিতীয়ত, ভুল মনোনয়ন হলে সংশোধন; আওয়ামী লীগের এই মনোনয়ন প্রস্তাব আসে তৃণমূল থেকে। অনেক সময় এই মনোনয়ন পক্ষাপাত দুষ্ট হয়। অনেক সময় বিভিন্ন জরীপের তথ্য নির্ভর করতে গিয়ে মনোনয়ন বোর্ডও ভুল করে। এজন্য আগামী মনোনয়নের পর যদি দেখা যায়, মনোনয়ন ভুল তাহলে তা পরিবর্তন করা যায়।
তৃতীয়ত, প্রচারণায় এগিয়ে থাকা; পৌরসভা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রচারণা হয় ঘরে ঘরে জনসংযোগের মাধ্যমে। তাই যতো আগে প্রার্থিতা চুড়ান্ত হয় ততো বেশী প্রচারণার সুযোগ পান প্রার্থীরা। এলাকার মানুষের কাছে যেতে পারেন।