প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় হেফাজতের হুমকিতে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নির্মাণ থেকে সরে আসছে সরকার?

হেফাজতের হুমকিতে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নির্মাণ থেকে সরে আসছে সরকার?

41
হেফাজতের হুমকিতে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নির্মাণ থেকে সরে আসছে সরকার?

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে ক্রমশ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার হেফাজতের নতুন আমীর জুনায়েদ বাবু নগরী বলেছেন ‘ভাস্কর্য বসালে টেনে হিচড়ে ফেলে দেয়া হবে’। চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে বাবুনগরী এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। গত কিছুদিন ধরেই হেফাজত, খেলাফত আন্দোলন ও খেলাফত মজলিশ, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ভাস্কর্য নিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে। কিন্তু মৌলবাদী গোষ্ঠীর এ ধরনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এই বিতর্ক থেকে দুরে থাকছেন।

এমনকি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, ওবায়দুল কাদের গতকাল পর্যন্ত এ নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি। অথচ কাদের প্রায় সব বিষয় নিয়েই প্রতিদিনই গণমাধ্যমের সামনে আসেন। আজ অবশেষে মুখ খুলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘ভাস্কর্য নিয়ে মনগড়া ব্যাখা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশের সংস্কৃতির প্রতি চ্যালেঞ্জ।’ কিন্তু বাবুনগরীদের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলেননি। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ গণমাধ্যমে এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ভাস্কর্য বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা করে প্রায় প্রতিদিনই বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরীর মতো হেভিওয়েটরা এ নিয়ে কথা বলছেন না।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগ কি পিছু হটছে? শেষপর্যন্ত মৌলবাদী গোষ্ঠীর চাপে আওয়ামী লীগ কি বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নির্মাণ থেকে সরে আসবে? আওয়ামী লীগের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা জানিয়েছেন, ভাস্কর্য নির্মাণ থেকে পিছু হটার কোন প্রশ্নই ওঠে না। আবার এ নিয়ে ধর্মান্ধ মৌলবাদীরা একটু সুযোগ পাক এটাও আওয়ামী লীগ চায় না। আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘এটা একটা ইস্যু হোক আওয়ামী লীগ চায় না। আমরা যারা এর বিরোধিতা ‘করছে তাদের সংগে একটা সমঝোতার চেষ্টার করছি। মুখোমুখি সংঘাতে না জড়িয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে, ঐক্যমতের ভিত্তিতে আমরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করতে চাই।’
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ভাস্কর্য নিয়ে আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ বা কর্মসূচি করতে চায় না। এই ইস্যুতে আওয়ামী লীগ ইসলামী দলগুলোকে প্রতিপক্ষও করতে চায় না। কিভাবে তাদের সংগে সমঝোতা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের কোন নেতাই মুখ খোলেননি। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের উগ্রবাদী তান্ডবের পরও সরকার কঠোর অবস্থানে না গিয়ে হেফাজতের সাথে সমঝোতার নীতি গ্রহণ করেছিল।