প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় ফরিদপুর ও সিরাজগঞ্জের আ’লীগের বিরুদ্ধে কঠোর শেখ হাসিনা

ফরিদপুর ও সিরাজগঞ্জের আ’লীগের বিরুদ্ধে কঠোর শেখ হাসিনা

72
ফরিদপুর ও সিরাজগঞ্জের আ'লীগের বিরুদ্ধে কঠোর শেখ হাসিনা

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের পরিচয়ে দুর্নীতবাজ এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান আওয়ামী লীগের আলোচিত বিষয়। এই অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেয়া হলো। ফরিদপুর যে কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় তুলেছিল ঠিক একই কারণে সিরাজগঞ্জ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এই দুই জেলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা দুজনই শেখ হাসিনার আত্মীয়। যদিও ফরিদপুরে ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন সরাসরি আক্রান্ত হননি। কিন্তু সেখানে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা প্রায় সবাই সাবেক এই মন্ত্রীর অনুসারী। প্রশ্ন ওঠে, এই দুই জেলার ব্যাপারে কেন এতো কঠোর হলেন শেখ হাসিনা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন-

১. পরিস্কার বার্তা দিতে চান শেখ হাসিনা: ফরিদপুরে শুদ্ধি অভিযান এবং সিরাজগঞ্জে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দিয়ে একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তা হলো অন্যায় করলে কেউ ক্ষমা পাবে না। তাই তিনি নিজের আত্মীয়দের দিয়েই উদাহরণ সৃষ্টি করলেন।
২. অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা নেই: আওয়ামী লীগ সভাপতি বারবার দলের অনুপ্রবেশকারী এবং সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এই দুই জেলায় কঠোর অবস্থানে গিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, যতো প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুপ্রবেশ ঘটুক না কেন, এদের তিনি আর প্রশ্রয় দেবেন না।

৩. বিভক্তি, কোন্দল সহ্য করা হবে না: ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ এবং নরসিংদীতে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রধান কারণ হলো দলীয় কোন্দল, অন্তঃকলহ ও বিভক্তি। এগুলোকে তিনি আর প্রশ্রয় দিতে রাজী নন।
৪. ত্যাগী ও পরিক্ষীতদের জন্য সুখরব: এই সব ব্যবস্থার মাধ্যমে দলে ত্যাগী ও পরিক্ষীতদের জন্য শেখ হাসিনা সুখবর দিলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন, দলে তাদের সুযোগ ও সম্ভাবনা শেষ হয়নি।
৫. সবার আগে দল: এই ঘটনার মাধ্যমে শেখ হাসিনা আরেকটি স্পষ্ট বার্তা দিলেন, তা হলো সবার আগে দল। দলের জন্য ক্ষতিকারক যে কেউ যতো ক্ষমতাবানই হোন না কেন, তার ব্যাপারে কঠোর হতে শেখ হাসিনা এতোটুক কার্পণ্য করবেন না।