প্রচ্ছদ স্পটলাইট বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লবের নীলনকশা প্রস্তুত!

বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লবের নীলনকশা প্রস্তুত!

57
বাংলাদেশে ইসলামী বিপ্লবের নীলনকশা প্রস্তুত!

ঘটনা ১: বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের প্রতিবাদ করছে কিছু ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠী। তারা ঘোষণা দিয়েছে তারা এ ভাস্কর্য ভেঙে ফেলবে। এর প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
ঘটনা ২: হেফাজতে ইসলামের সম্মেলন হয়েছে। এই সম্মেলনে উগ্রপন্থী হিসেবে পরিচিত বাবুনগরী এবং কাসেমী নেতৃত্ব গ্রহণ করেছে। এরা ইসলাম পছন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং জামাত পন্থী হিসেবে পরিচিত।
ঘটনা ৩: ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, এ ঘটনাগুলো পরিকল্পিত এবং ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এ তিনটি ঘটনার মধ্যেই কোন সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না, কোন যোগসূত্রও নেই। কিন্তু এই তিনটি ঘটনাকেই গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনটি ঘটনার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য এক। তাহলো বাংলাদেশে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মীয় মৌলবাদকে উস্কে দেয়া।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে বাংলাদেশের ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তারা বাংলাদেশে একটি ইসলামিক বিপ্লবের নীল নকশা তৈরি করেছে। আর সেই নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্যই এই বিক্ষিপ্ত ঘটনাগুলো ঘটছে বলে একাধিক বিশ্লেষক মনে করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে হঠাৎ করেই উগ্রবাদী ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি নড়াচড়া এবং আস্ফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই আস্ফালনের মূল লক্ষ্য যে সরকার, সেটা বুঝতে কারো অসুবিধা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে একটু নজর রাখলে দেখা যায় যে, তারা বিভিন্নভাবে উস্কানিমূলক বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মহাতারকা সাকিব আল হাসানকে নিয়ে যেটা ঘটেছে সেটাও একটি উদ্বেগজনক ঘটনাই বটে। কারণ একটি পূজা মন্ডপে যাওয়া মানেই তিনি ইসলাম ত্যাগ করলেন এটি কোন গ্রহণযোগ্য যুক্তিবাদী কথা হতে পারে না।
বাংলাদেশের দীর্ঘদিন ধরে শারদীয় দুর্গোৎসব হয়েছে এবং সেখানে ধর্মের ভেদাভেদ উপড়ে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাঙ্গালীর সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। অনেক মুসলমানই পূজা উৎসব এ যান এবং শরিক হন। অনেক হিন্দু ঈদে মুসলমানদের বাড়িতে গিয়ে আতিথ্য গ্রহণ করেন, এটাই বাংলাদেশের আবহাহমান সংস্কৃতি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে। ধর্মের উগ্রবাদীতা জোরেসোরে প্রচারণার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আর গভীর অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাংলাদেশে অন্তত পাঁচটি ইসলামপন্থী দল দেশে ইসলামিক বিপ্লব কায়েম করা এবং ইসলামকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময় ফ্রান্সে নবী মুহাম্মদের একটি কার্টুনকে নিয়ে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, তার পটভূমিতে ঢাকায় ধর্মীয় গোষ্ঠি প্রতিবাদ মিছিল করেছে। হেফাজতে ইসলাম ফরাসি দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছিল, যদিও সে কর্মসূচি শান্তিনগর মোড়ে যেয়ে থেমে যায়। কিন্তু ওই সমাবেশগুলোতে যে ধরনের বক্তব্য বিবৃতি দেয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ আবার নতুন করে এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠী সঙ্ঘবদ্ধ হচ্ছে এবং নতুন করে কিছু করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য যে, আফগানিস্থানে যখন ইসলামিক বিপ্লব সংঘটিত হয় তখন বাংলাদেশ থেকে বেশকিছু মানুষ সেখানে গিয়েছিল। তারা ইসলামিক বিপ্লব এবং ‘জেহাদ’ করার জন্য মুজাহিদ হয়েছিল। এদের একটা বিরাট অংশ বাংলাদেশে এসে চুপচাপ বসে থাকেনি, তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ইসলামিক সংগঠনের সঙ্গে রয়েছে। সেই সময় তারা স্লোগান দিয়েছিল যে বাংলাদেশকে আফগানিস্থান বানানো হবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এটিকে গ্রহণ করেনি, প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন জামাত ইসলাম খেলাফত আন্দোলনসহ বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো আবার বাংলাদেশ ইসলামী বিপ্লব করার স্বপ্ন দেখছে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মনে করেন। সরকারকে এখনই এদের ব্যাপারে কঠোর হওয়া উচিত বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন যদি কঠোর না হয়, তাহলে এই ধর্মান্ধ শক্তি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য বড় ধরনের হুমকি হতে পারেন বলেও তারা মনে করছে।