প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য আবারো কি করোনা নিয়ে ভুল পথে বাংলাদেশ?

আবারো কি করোনা নিয়ে ভুল পথে বাংলাদেশ?

19
আবারো কি করোনা নিয়ে ভুল পথে বাংলাদেশ?

বিশ্বে যখন প্রথম করোনার সংক্রমণ শুরু হয় তখন বাংলাদেশর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো যে, বাংলাদেশে পরিস্থিতি খারাপ হবে না বা করোনা হবে না। কারণ হিসেবে তারা বলেছিলো, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা অন্যকরম। কাজেই বাংলাদেশে করোনা হওয়ার সম্ভাবনা নাই। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেও বলেছিলেন যে, আমাদের দেশে করোনার প্রকপ সেরকম হবে না। যেমন সার্স ভাইরাস হয়নি সেরকম করোনা হওয়ারও সুযোগ নেই এবং তৎকালীন স্বাস্থ্যের ডিজিও একই রকম মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু পরক্ষণেই দেখা গেলো বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত বাড়তে বাড়তে একটা পর্যায়ে চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছিলো।
যদিও বাংলাদেশের করোনার একটা ইতিবাচক দিক ছিলো সেটা হচ্ছে, মৃত্যুর হার কম। তবে আক্রান্ত হয়েছে ব্যাপক আকারে। বাংলাদেশে যে করোনা হবে না সেটা সঠিক প্রমাণিত হয়নি।

এখন বিশ্বজুড়ে আবার করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ শুরু হচ্ছে এবং বাংলাদেশের তা অনুভব করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে করোনায় ৬২৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৪,৩৬,৬৮৪ জন। এই অবস্থায় গতকালের আক্রান্তের সংখ্যা গত দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এই অবস্থায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। এই বাস্তবতায় সরকারের কোনো কোনো মহলের উদাসীনতা এবং উপেক্ষা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঠিক যেমনটি ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে কেউ কেউ গা ছাড়া ভাব দেখিয়েছিলো।
যে জায়গাগুলোতে অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে: 

১. করোনার দ্বিতীয় ওয়েভে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রস্তুতি নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে না তারা কি করছে বরং তাদের মনোযোগ ভ্যাকসিনের দিকে।

২. বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনার জন্য যে ধরনের ব্যবস্থাপনা করা হয়েছিলো এপ্রিল-মের দিকে সেই ব্যবস্থাপনাগুলো এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন করোনার জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। করোনার শুরুর থেকে আইসিইউ বেড বাড়ানোর কথা ছিলো, অক্সিজেন বাড়ানোর কথা ছিলো কিন্তু এখনও সেই ধরনের ব্যবস্থাপনাই করা হয়নি।
৩. মানুষ করোনাকে উপেক্ষা করছে এবং করোনাকে সেভাবে পাত্তা না দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। যে যার মতো করে মাস্ক ছাড়া ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। সবমিলিয়ে এক ধরনের গা ছাড়া-গা ছাড়া ভাব।
৪. করোনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে এক ধরনের উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। সাধারণত যে ব্যক্তি আক্রান্ত তাকে ধরে তার সংস্পর্শে যরা এসেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। যরা আক্রান্ত হবেন তাদেরকে আইসোলেশনে রাখার বিশ্বব্যাপী যে রীতি সেই রীতি মানা হচ্ছে না বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে শীতে করোনার অভিজ্ঞতা নেই। দেশে করোনা শুরু হয়েছিলো মার্চ থেকে। কাজেই ডিসেম্বর-জানুয়ারী এই দুইটা মাস শীতের মাস এবং ইতিমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে শীত শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ তাহলে কি একই ভুল করছে। প্রথমবার উপেক্ষা করেছিলো করোনা সংক্রমণ হবে না কিন্তু ব্যাপকহারে করোনা হয়েছে। বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে ১০ নম্বরে চলে গিয়েছিলো এখন সেই অবস্থান ১৫ তম। অন্যদিকে এখন সরকার বলছে যে করোনা ভয়াবহ হবে না, মৃত্যুর হার বাড়বে না। এটি নিয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থেকে বাংলাদেশে যদি করোনার আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ভয়াবহ হয় তখন সরকার কী করবে।