প্রচ্ছদ রাজনীতি তারেক জিয়ার হঠকারিতায় তোলপাড় বিএনপিতে

তারেক জিয়ার হঠকারিতায় তোলপাড় বিএনপিতে

340
তারেক জিয়ার হঠকারিতায় তোলপাড় বিএনপিতে

গত ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকার শহরের ১১টি বাসে আগুন লাগানো হয়েছিল। ৬টি স্থানে আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত ছিল যুব দলের একাধিক নেতা এবং জামাতের কিছু দুর্বৃত্ত। আর এ ঘটনার পর এখন বিএনপির অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অনেক নেতা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, তারেক জিয়ার ইন্দন এবং নির্দেশই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। তারেক জিয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের ফলে বিএনপি আবার নতুন করে বিপদে পড়েছে, এটি হয়েছে তারেক জিয়ার কারণে।
ইতিমধ্যে বাসে হামলার ঘটনায় ১৬ মামলা হয়েছে। এ সমস্ত মামলায় ১ হাজার ৪৭৮ জন নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। এই সমস্ত নেতাকর্মীরা এখন আত্মগোপনে আছে, কেউ কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ। বিএনপি নেতারা বলছে , আমরা যখন বিএনপিকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নিলাম, ঠিক সে সময় এ ধরনের আত্মঘাতী ঘটনা এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত বিএনপিকে নতুন করে সমস্যায় ফেলছে। আর এ কারণেই তারেক জিয়ার ওপর ক্ষোভ উপচে পড়ছে বিএনপিতে।

বিএনপি`র একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, তারেক লন্ডনে বসে বাংলাদেশের বাস্তবতা না বুঝে একের পর এক নির্দেশ দিচ্ছেন। জানা গেছে যে, জাহাঙ্গীর হোসেন তারেক জিয়ার মনোনীত প্রার্থী ছিল এবং তারেক জিয়াকে টাকা দিয়েই তিনি ঢাকা ১৮ আসনের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তারেক জিয়া জাহাঙ্গীর কে মনোনয়ন দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল যে, এই নির্বাচনকে ইস্যু করে ঢাকা শহরে একটি বিশৃংখল পরিস্থিতি তৈরি করা। বিএনপির একাধিক নেতা জাহাঙ্গীরকে পরামর্শ দিয়েছিল যে এখন এ ধরনের ভাঙচুর, সন্ত্রাস, সহিংসতার আর কোন বাস্তবতা নেই। কাজেই এখন যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয় তাহলে সেটি হবে বিএনপির জন্য আত্মঘাতী। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বিএনপি। কিন্তু তারেক জিয়া বিএনপি নেতাদের কথা শুনেন নি এবং বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে তার নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এ ধরনের নাশকতার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

আর এই নির্দেশ অনুযায়ী ১২ তারিখে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাড়িগুলো পোড়ানো হয় । কিন্তু তারেক জিয়া ১২ বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে, তিনি ঢাকা শহরে বাস্তব অবস্থা জানে না । এখন ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি রয়েছে। ফলে কে কি করলো তা সহজেই ধরা যায়। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে। বাসে আগুনের ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারা বাসে আগুন লাগিয়েছে, কারা বাসের কাছে ছুটে গেছে এ সমস্প দৃশ্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে। সিসি টিভি ফুটেজ দেখে দেখে সরকার আইনপ্রয়েপাগকারী সংস্থা এরকম বশে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা সবাই বিএনপির মধ্যে এবং নিন্মস্তরের নেতাকর্মী।

এরকম বাস্তবতায় সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। বিএনপির যে সমস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে পুরানো মামলা আছে সে মামলাগুলো চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, নতুন করে শুরু হয়েছে ধরপাকড়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, আমরা আস্তে আস্তে দুল গুচ্ছাছিলাম এবং এই সব নির্বাচনে কর্মীদেরকে আমরা ধীরে ধীরে হতাশা কাটিয়ে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছিলাম, এজন্য প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ ভীতিহীন পরিবেশ। কিন্তু তারেক জিয়ার এই হঠকারিতার কারণে আবার নতুন করে ভয়-ভীতি ঢুকে গেছে বিএনপির মধ্যে। নেতারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলো সংগঠন। এখন নেতারা কোনরকম কর্মসূচি দিতেও অনাগ্রহী। তারা মনে করছেন, এ ধরনের হঠকারিতার ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির আরো পিছিয়ে পড়বে। উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার জন্য বিএনপি নেতারা তারেক জিয়াকে দায়ী করেছেন। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, লন্ডন থেকে তারেক জিয়া এ ঘটনার একটি পুর্ণপরিকল্পনা দিয়েছিলেন। কিন্তু এই নাশকতার মাধ্যমে এ ঘটনার একটা আন্দোলনকে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু শেষপর্যন্ত অন্যান্য পরিকল্পনার মতো এটিও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।