প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় হেফাজতকে দত্তক নিতে এক ধাপ এগিয়ে গেলো জামায়াত

হেফাজতকে দত্তক নিতে এক ধাপ এগিয়ে গেলো জামায়াত

39
হেফাজতকে দত্তক নিতে এক ধাপ এগিয়ে গেলো জামায়াত

শেষপর্যন্ত জামাতের দখলেই চলে গেল হেফাজত। আজ রোববার চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মাধ্যমে কার্যত: জামাতেরই জয় হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই সম্মেলনে জুনায়েদ বাবু নাগরীকে আহ্বায়ক এবং নূর হোসাইন কাসেমীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। এরা দুজনই আল্লামা শফী বিরোধি এবং জামাতপন্থী হিসেবে চিহ্নিত। আল্লামা শফী অনুসারীরা গত কয়েকদিন ধরেই বাবু নগরীর আমীর হওয়ার বিরোধিতা করে আসছিলেন। অবশ্য আল্লামা শফীর শেষ দিন গুলোতেই হেফাজতে ভাঙ্গনের শব্দ শোনা গিয়েছিল। সে সময় বাবু নগরী প্রকাশ্যেই আল্লামা শফীর বিরোধিতা করেন।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হেফাজত ইসলাম আলোচনায় আসে ২০১৩র ৫ মে। ঐ দিন কওমী মাদ্রাসার শিক্সার্থীদের ঢাকায় জড়ো করা হয়। ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচী ঘোষণা করে হেফাজত মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান গ্রহণ করে। পরে রাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের উঠিয়ে দিতে সক্ষম হন। ৫ মে ঢাকার মতিঝিল, পল্টন, গুলিস্থানে হেফাজত ভয়াবহ তান্ডব সৃষ্টি করে। এরপর সরকার হেফাজতের সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতা করে। ফলে হেফাজতের প্রয়াত নেতা আল্লামা শফী আওয়ামী লীগের মিত্রে পরিণত হন।

সরকার কওমী মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি প্রদান, পাঠ্য পুস্তক সংশোধন সহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। হেফাজতের ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচীকে ঘিরে বিএনপি জামাতের পরিকল্পনা ছিলো। এর মাধ্যমে সরকারের পতন হবে বলেও জামাত-বিএনপি আশা করেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ হেফাজতকে বশীভূত করায় বিএনপি জামাতের ঐ স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। এরপর, জুনায়েদ বাবু নগরী সহ হেফাজতের উগ্রপন্থী এবং সমঝোতা বিরোধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকে জামাত। গত এক বছর কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক নেটওয়ার্ক তৈরী করেছে জামাত। বাবু নগরীর নেতৃত্বে তাদের সংগঠিত করেছে।

জামাত মনে করে কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক এই সংগঠন বর্তমানে ইসলাম পছন্দ সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সহজেই রাস্তায় নামানো যায়। সরকার বিরোধি আন্দোলনে, এই ‘কর্মীরা’ মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। এজন্য, শুধু জামাত নয়, আওয়ামী লীগ থেকে হেফাজতকে বের করে আনতে ‘গভীর’ মনোযোগ দিয়েছিল বিএনপিও। আর তাই, আল্লামা শফী অনুসারীদের বাবু নগরী কোনঠাসা করতে সক্ষম হয়। এরফলে আজ সম্মেলনের মাধ্যমে বাবু নগরী পন্থীদের অংশ জামাতের দখলে চলে গেল। তবে নিশ্চিত ভাঙ্গনের মুখে হেফাজতের কোন অংশ শক্তিশালী থাকে তার উপর নির্ভর করছে, রাজনীতির মেরুকরণ।