প্রচ্ছদ রাজনীতি ডিসেম্বরেই সরকার পতনের টার্গেট নিয়েছে বিএনপি ও মৌলবাদী শক্তি?

ডিসেম্বরেই সরকার পতনের টার্গেট নিয়েছে বিএনপি ও মৌলবাদী শক্তি?

42
ডিসেম্বরেই সরকার পতনের টার্গেট নিয়েছে বিএনপি ও মৌলবাদী শক্তি?

রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ করে উত্তপ্ত বাতাস বইছে। বৃহস্পতিবার বাসে অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে যে শান্তির আবহাওয়া ছিল, তা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপি গত কিছুদিন ধরে রাজনীতিতে সরকার বিরোধী অবস্থান সুদৃঢ় করার তাগিদ অনুভব করছিল। তারা মনে করেছিল যে, সরকারকে আর সময় দেয়া যায় না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুদিন আগেই এক বক্তৃতায় বলেছিল যে, এই সরকারের সময় শেষ হয়ে উঠেছে। একই সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সরকার লাইফ সাপোর্টে আছে। আর এসমস্ত কথা যে স্রেফ কথার কথা ছিল না স্রেফ বৃহস্পতিবারের ঘটনা তা প্রমাণ করেছে।
যদিও বিএনপি আজ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার দায়-দায়িত্ব অস্বীকার করেছে। তারা এটি বিরোধী দল দমনের জন্য আরেকটি ষড়যন্ত্র বলেই উল্লেখ করেছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএনপি এবং জামায়াত আগামী ডিসেম্বর মাসে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলন করার নীলনকশা নিয়ে এগুচ্ছে। বিএনপি এবং জামায়াতের এই নীল নকশা তৈরি হয়েছে লন্ডন থেকে। লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া গত কিছুদিন ধরেই বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে কথা বলছেন। তারা মনে করছে যে দীর্ঘমেয়াদি সরকারবিরোধী আন্দোলন করে কোন লাভ হবে না। বরং ঝটিকা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে হবে।

আর অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি জামায়াত ইসলাম মনে করছে, দেশে যে বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে সে বাস্তব পরিস্থিতিতে একটি ঝটিকা আন্দোলন সরকার পতনের জন্য যথেষ্ট। আর এই আন্দোলনের সঙ্গে সন্ত্রাস এবং সহিংসতা কে মিশিয়ে দিলে দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা সহজ হবে বলেও জামাত বিএনপি মনে করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি এবং জামায়াত বর্তমান পরিস্থিতিকে যেভাবে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছে, তা হল যে সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। করোনার কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এসব নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সরকারের ওপর জনগণের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।
বিএনপি-জামাত মনে করছে, এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে হবে। বিএনপি জামায়াতের সাম্প্রতিক সময়ের বৈঠক এবং আলোচনা গুলো থেকে আরেকটি বিষয় ফুটে উঠেছে। তারা মনে করছে যে, এই সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। তাদের মানসিক মনোবল আগের মতো নেই। তারা সরকারের জন্য আগের মত কাজ করবে বলেও তারা মনে করে না। এই বাস্তবতায় এখন যদি আন্দোলন করা হয় তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আগের মত বাধা নাও দিতে পারে বলে বিএনপি-জামাত মনে করছে।

তৃতীয়ত, তারা মনে করছে প্রশাসনের মধ্যেও সরকারের নিরঙ্কুশ আধিপত্য, সেটিতেও ফাটল ধরেছে। প্রশাসনে এখন বিএনপি জামাতের একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে এবং যখন সরকার সংকটে পড়বে তখন তারা মুখোশ খুলে ফেলে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে। গত এক বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি-জামাতপন্থিরা সক্রিয় এবং বেশকিছু ঘটনা ঘটিয়ে তারা সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। চতুর্থত, বিএনপি-জামায়াত মনে করছে যে, এখন আওয়ামী লীগের মধ্যেও সংকট দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা আছে। আর একটি অংশ যে কোনোভাবে অর্থনৈতিক লাভবান হওয়ার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করছেন।

এই বাস্তবতায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে বড় ধরনের প্রতিরোধ সম্ভব হবে না। বিএনপি জামায়াত গোষ্ঠী এটাও মনে করছে যে, একটা ‘পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করতে পারলেই সরকার বেসামাল হয়ে পড়বে, সরকারকে পর্যুদস্ত করা যাবে। আর সেরকম একটি পরিস্থিতি তৈরি করার প্রক্রিয়া হিসেবেই দেশকে অশান্ত করতে চাইছে বিএনপি জামাত। আর এজন্য তারা বেছে নিয়েছে ডিসেম্বর মাসকে। আর এই ডিসেম্বর মাসকে ঘিরে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য তারা এখন রিয়ারর্সাল করছে বলেও অনেকে মনে করছে। বিভিন্ন সূত্র বলা হচ্ছে যে, বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি একটি টেস্ট কেস মাত্র। সামনের দিনগুলোতে বিএনপি-জামায়াতে নীলনকশা বাস্তবায়নে আরো অনেকগুলো ঘটনাই ঘটতে পারে। সরকারের জন্যও এটি একটি সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।