প্রচ্ছদ রাজনীতি ঢাকার এমপিদের বিরুদ্ধে নানা বিতর্ক ও নানান অভিযোগ

ঢাকার এমপিদের বিরুদ্ধে নানা বিতর্ক ও নানান অভিযোগ

149
ঢাকার এমপিদের বিরুদ্ধে নানা বিতর্ক ও নানান অভিযোগ

ঢাকা মহানগরীতে সংসদ নির্বাচনী এলাকা ১৫টি। ঢাকা ৪ আসন থেকে শুরু করে ঢাকা ১৮ আসন পর্যন্ত যে নির্বাচনী এলাকা, সেগুলো ঢাকা মহানগরের মধ্যে পড়ে। ঢাকা মহানগরীর এই ১৫টি আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টি দুটি আসনে, ওয়াকার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন একটি আসনে এবং বাদবাকি ১২ টি আসন আওয়ামী লীগের দখলে। ঢাকা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। বাদবাকি যারা ঢাকার এমপি রয়েছেন, তারা ঢাকার উন্নয়নে এবং নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে কতটুকু ভূমিকা রাখছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আগামীকাল ঢাকা ১৮ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুর কারণে ওই আসনটি শূন্য হয়েছিল। আর এ প্রেক্ষাপটেই প্রশ্ন উঠেছে ঢাকার এমপিদের আসলে কাজ কি? ঢাকা মহানগরের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো নিয়ন্ত্রিত হয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই মেয়র অত্যন্ত তৎপর হচ্ছেন ঢাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য। এই মেয়রদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে স্থানীয়ভাবে উন্নয়ন কর্মকান্ড গুলোকে এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে এমপিদের ভূমিকা কতটুকু সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাছাড়া ঢাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন রকম কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন।

স্কুল, কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এখন এমপিদের হাতে নেই। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগরীর এমপিদের কাজ কি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোন কাজ নেই তা নিয়েই মাঝে মাঝে তারা নানারকম বিতর্কের কারণে আলোচনায় আসেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ৭ আসনের এমপি হাজী সেলিম কে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার ছেলে ইরফান সেলিম একজন নৌ কর্মকর্তাকে মারধর করেছেন। এই মারধরের ঘটনার জের হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দুটি মামলায় এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে ইরফান সেলিমকে। হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে নানারকম দুর্নীতি, ভূমি দখল, নদী দখলের অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা মহানগরীর আরেক এমপি রাশেদ খান মেনন। তার বিরুদ্ধেও গতবছরে ক্যাসিনো বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। ঢাকা মহানগরীর আরেক এমপি আসলামুল হকের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেই নদীর জমি ভরাট করে দখলের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। এছাড়াও আরো অন্যান্য এমপিদের বিরুদ্ধেও নানা রকম অভিযোগ প্রতিনিয়ত উত্থাপিত হয়। ঢাকা মহানগরীর এমপিদের নিষ্ক্রিয়তাও চোঁখে পড়ার মতো।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা এবং প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা ছাড়া অন্যান্য নির্বাচনী এলাকাগুলোতে এমপিদের দৃশ্যমান কর্মকান্ড চোঁখে পড়ে না। বিশেষ করে, করোনাকালিন সময়ে অন্যান্য এলাকার এমপিরা যে ভাবে তৎপর ছিলেন, ঢাকা মহানগরের এমপিদের তৎপর সেভাবে ছিলেন না। বরং এমপিরা এই সময়ে নানা রকম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন । অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, ঢাকা মহানগরীর এমপিরা ব্যস্ত থাকেন তাদের নিয়ন্ত্রিত কমিটি রক্ষা করার জন্য। এলাকার ওয়ার্ড কমিটিগুলোতে যেন তার পছন্দের ব্যক্তিরা ঠাই পায়। অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কমিটিতে তাদের নিজের লোকদেরকে রাখা। বিভিন্ন ধরনের টেন্ডার এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডে তারা তাদের পছন্দের লোকজনকে দিতে চান।
অথচ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ঢাকা মহানগরীতে যানজটমুক্ত বাসযোগ্য এবং আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এমপিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারা যদি কাজ করতে পারতেন তাহলে ঢাকা মহানগরী অনেক সুন্দর হতো। বিগত সময় গুলোতে দেখা গেছে ঢাকা মহানগরীর উন্নয়নের ক্ষেত্রে এমপিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই ভূমিকা খর্ব হতে হতে এখন প্রায় নেই বললেই চলে। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা ১৮ আসনের নির্বাচনও জনগণের কাছে আগ্রহীন এবং গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। কারণ সাধারন জনগন জানেন না আসলে ঢাকা মহানগরের এমপিরা তাদের জন্য কি করবেন?