প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য কারা বেশি দুর্নীতিবাজ: রাজনীতিবিদ, না আমলা, না ব্যবসায়ী?

কারা বেশি দুর্নীতিবাজ: রাজনীতিবিদ, না আমলা, না ব্যবসায়ী?

51
কারা বেশি দুর্নীতিবাজ: রাজনীতিবিদ, না আমলা, না ব্যবসায়ী?

কারা বেশি দুর্নীতিবাজ, রাজনীতিবিদ না আমলা না ব্যবসায়ী? এমন প্রশ্ন জনারণ্যে ছুড়ে দিলে জবাব আসবে রাজনীতিবিদ হচ্ছেন ১ নং দুর্নীতিবাজ! রাজনীতিবিদগণ হচ্ছেন ‘নষ্ট গুড়ের খাজা’। মানে যত দোষ সব রাজনীতিবিদগণের,  বাকীরা একটু আধটু দুর্নীতি করেন মাত্র। কিন্তু পরিসংখ্যান কী বলে?
দুদকের পরিসংখ্যান বলছে, তারা দুর্নীতির মামলায় ২০১৬ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত ৭৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে ৩৯০ জনই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। বাকিদের মধ্যে ১৫৪ জন বিভিন্ন ব্যাংকের এবং ২৩ জন নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী। ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য শ্রেণি–পেশার আছেন ১৯৭ জন, আর জনপ্রতিনিধি ৩৫ জন।
স্বীকার না করলেও এটা সবার জানা যে, সরকারী বেসরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন ব্যবসায় আমলা বা সরকারী দপ্তরের লোকদের যে নিয়ন্ত্রণ থাকে সেই নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাজনীতিকদের থাকে না। তাই তো ৭৯৯ জন দুর্নীতিবাজদের মাঝে মাত্র ৩৫ জন জনপ্রতিনিধি মানে রাজনীতিবিদ।

উল্লেখ্য যে, দুর্নীতি কমানোর আশায় পাঁচ বছর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ৯১ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও তাঁদের আশা পুরা হয় নি। দুদকের পরিসংখ্যানে আরো দেখা যায় যে, বড় পদের আমলাদের চেয়ে ছোট পদের সরকারি কর্মচারীরা দুদুকের জালে বেশি ধরা পড়েছেন। কিন্তু আসলে কি তাই। মন্ত্রণালয় ও তার অধীনস্থ সকল দপ্তরের নির্বাহী প্রধান ও একাউন্টিং চীফ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজনীতিবিদগণ সেখানে কিছুই নন। তাই দুর্নীতির দায়ে সরকারী দপ্তরের সেই ধরা পড়ুক না কেন তার দায় এড়ানোর ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের বড় করতাদের নেই।
এমতাবস্থায় বিভিন্ন মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে রাজনীতিবদগণকে দুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে প্রচার প্রচারণা বন্ধ হওয়া উচিৎ। এই ঔচিত্যবোধ কবে সংশ্লিষ্টদের মাঝে জাগ্রত হবে, বা আদৌ হবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।