প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ বনাম সরকার, হিমসিম অবস্থা

আওয়ামী লীগ বনাম সরকার, হিমসিম অবস্থা

36
আওয়ামী লীগ বনাম সরকার, হিমসিম অবস্থা

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় মেয়াদে দল এবং সরকারকে আলাদা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। আর এ কারণেই দলের যারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, তাদেরকে সরকার থেকে আলাদা করা হয়েছে। হাতেগোনা কয়েকজন মন্ত্রী ছাড়া কেউই দলের নেতা নন । দল এবং সরকারে যারা আছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. দীপু মনি এবং যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হাছান মাহমুদ।
দল এবং সরকারকে আলাদা করার জন্য গত কমিটিতে যারা সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন, যেমন এনামুল হক শামীম, খালেদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হক চৌধুরি নওফেলসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে মন্ত্রী সভায় রাখার কারনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আর এই ধারণার মূল লক্ষ্য ছিল যে, বঙ্গবন্ধুর চিন্তা, চেতনা এবং আদর্শ বাস্তবায়ন করা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দল এবং সরকারকে আলাদা করতে চেয়েছিলেন। আর এ কারণেই তিনি দল পরিচালনার জন্য মন্ত্রীত্ব ছেড়েছিলেন। আর এই ধরনের সরকার এবং দল আলাদা করার অনেকগুলো ইতিবাচক দিক রয়েছে:-

প্রথম, দল জবাবদিহিতা করতে পারে সরকারকে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে সরকার এবং দল যে একাকার হয়ে যায়। এর ফলে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আস্তে আস্তে দলকে সরকার থেকে আলাদা করছেন। কিন্তু একটি রাজনৈতিক সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হলো তার নীতি আদর্শ এবং নির্বাচন কর্মসূচির বাস্তবায়ন করা। যদি একটি রাজনৈতিক সরকার তার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করতে না পারে, তাহলে যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়ে তারা সরকার গঠন করেছে, সেই ইশতেহার যদি বাস্তবায়ন না করতে পারে, তাহলে রাজনৈতিক সরকারের মূল লক্ষ্যই ব্যাহত হয়।
আওয়ামী লীগের তৃতীয় মেয়াদে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সরকারের সঙ্গে দলের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অনেককিছুই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। পাশাপাশি সরকারের যে কিছু সিদ্ধান্ত এবং কর্মকাণ্ড দলের স্বার্থ পরিপন্থী হয়ে উঠছে। আর এর ফলে ক্রমশ্য সরকার এবং দলের মধ্যে দৃশ্যমান দূরত্ব তৈরি হচ্ছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক নীতি নির্ধারকরা। সাম্প্রতিক সময়ে, করোনার কথাই যদি ধরা যায়। করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, সেখানে দলের ভূমিকা ক্রমশ নগন্য হয়ে উঠছে।

দলের ভূমিকা নেই বললেই চলে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্মকাণ্ড গুলোকে জবাবদিহিতার আওয়াতায় আনার ক্ষেত্রে যেমন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকের ভুমিকা রয়েছে। তেমনি ভুমিকা রয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদেরও। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, ক্রমশ্য স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ বা বিএমএ কিংবা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদকের ভূমিকা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেক্ষীণ হয়ে উঠছে। শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একা নয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলোতে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাছাড়া এই সময়ে আমলাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণেই সরকারে দলের ভূমিকা ক্ষুন্ন হয়ে উঠছে।
আবার অন্যদিকে যারা আওয়ামী লীগের নেতা অথচ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারাও তাদের মধ্যে একজন দুজন ছাড়া অধিকাংশই দলকে সময় দিতে পারছেন না। দল এবং সরকারকে আলাদা করার ফলে সরকারের যে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সেটি লোপ পাচ্ছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ এবং সরকার দাম্বিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে পড়ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।