প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় সরকারের বিশেষ অংশিদার হেফাজতের ভাঙ্গন আসন্ন

সরকারের বিশেষ অংশিদার হেফাজতের ভাঙ্গন আসন্ন

29
সরকারের বিশেষ অংশিদার হেফাজতের ভাঙ্গন আসন্ন

শিগগির হচ্ছে দেশের আলোচিত অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কমিটি। যাতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হচ্ছে। নতুন কমিটিতে পদ পাচ্ছেন না আলোচিত অনেক নেতা। পক্ষান্তরে দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা এমন কর্মীরাও গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন। তবে কমিটির পদ নিয়ে বিদ্যমান দুই গ্রুপের মধ্যে সমঝোতা না হলে ভাঙনের শঙ্কা রয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের একাধিক সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন করতে ১৮ সদস্যের কাউন্সিল বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে এ কমিটির সদস্যরা শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করে নানান পরামর্শ নিচ্ছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হাটহাজারী মাদ্রাসায় শুরা কমিটির বৈঠক ডেকে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা বলেন, কমিটি নিয়ে সমঝোতা না হলেও বিকল্প হেফাজতে ইসলাম গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে। এক্ষেত্রে পদবঞ্চিত নেতাদের নিয়ে আলাদা হেফাজতে ইসলাম গঠন করা হবে।
জানা যায়, দেশের শীর্ষ কওমি আলেম ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর পর কওমি মতাদর্শীদের নানান সংস্থার সর্বোচ্চ পদটি শূন্য হয়। ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ কওমি শিক্ষাবোর্ড বেফাক ও সরকারি স্বীকৃতি নেওয়ার জন্য গঠিত আল হাইয়াতুল উলায়ার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ আলেম ও আল্লামা শফী অনুসারী হিসেবে পরিচিত আল্লামা মাহমুদুল হাসান। মূলত আল্লামা মাহমুদুল হাসান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে হেফাজতে ইসলাম নিয়ে নতুন সমীকরণ শুরু হয়েছে। তোড়জোড় শুরু হয়েছে হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে।
এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম থেকে আমির ও ঢাকা থেকে মহাসচিব নির্বাচনের পক্ষে বর্তমান মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারীরা মত দিয়েছেন। তারা চাইছেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির এবং আল্লামা নূর হোসেন কাসেমী কিংবা মাওলানা মামুনুল হককে মহাসচিব করার।

এ ছাড়া অন্য পক্ষ চাইছে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব ঢাকা কেন্দ্রিক করতে। তারা চেষ্টা করছেন আল্লামা মাহমুদুল হাসান আমির এবং আল্লামা নূর হোসেন কাসেমীকে মহাসচিব করে ঢাকা কেন্দ্রিক নতুন কমিটি ঘোষণা করতে। আল্লামা আহমদ শফীর উত্তরসূরি নির্বাচনে হেফাজতে ইসলামের আমির হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আল্লামা শেখ আহমদ, নায়েবে আমির আবদুল কুদ্দুস এবং বর্তমান মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মাওলানা নূর ইসলাম জিহাদী, মাওলানা সাজেদুর রহমান, মুফতি ফয়জুল্লাহ ঢাকা কেন্দ্রিক কয়েক নেতার নাম। আসন্ন কমিটি থেকে বাদ পড়ছেন আলোচিত ও সমালোচিত নেতাদের অনেকে। আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা থাকা নেতাদের কেউ কেউ।
হেফাজতে ইসলামের একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হেফাজতে ইসলামকে ঢাকা কেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আল্লামা আহমদ শফীর সম্মতি না থাকায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতে ইসলামকে ঢাকা কেন্দ্রিক করার সেই উদ্যোগ ফের নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে হেফাজতের নেতৃত্ব চট্টগ্রাম বলয় ভেঙে সম্পূর্ণ ঢাকা কেন্দ্রিক করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় পরিকল্পনা হিসেবে রয়েছে বর্তমান মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে যে কোনো একটি পদে রেখে ঢাকা থেকে কাউকে অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা।