প্রচ্ছদ রাজনীতি উচ্চশিক্ষা শেষ করে রাজনীতিতে জাইমা রহমান

উচ্চশিক্ষা শেষ করে রাজনীতিতে জাইমা রহমান

35
উচ্চশিক্ষা শেষ করে রাজনীতিতে জাইমা রহমান

সদ্য বার-এট-ল করা তারেক জিয়ার একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান আলোচনায় উঠে এসেছেন। গত কয়েক দিন তিনি বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সঙ্গে স্কাইপিতে একাধিক বৈঠক করেছেন। তরুণ ব্যারিষ্টার এবং আইনজীবীদের সাথে তিনি বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকের জন্য বিএনপিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তাহলে কি জাইমাও রাজনীতিতে আসছেন। যদিও এ ব্যাপারে বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খালেদা জিয়ার একজন নিকট আত্মীয় বলেছেন, জাইমা রহমানের বয়স এখনও অনেক কম। কেবল তিনি লেখাপড়া শেষ করেছেন। এখনই তার রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে খালেদা জিয়া পরিবারের অন্য একজন সদস্য বলেছেন, যেহেতু তারেকের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং জাইমা রহমান উচ্চ শিক্ষিত তাই এবং তাকে নিয়ে কোন বির্তক নেই। সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জাইমাকে রাজনীতির মাঠে নিয়ে আসা হবে।

তবে জাইমা রাজনীতিতে আসবেন, কি আসবেন না- সেটি বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো, তাকে নিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মামলা সংক্রান্ত কাগজ-পত্রগুলো জাইমা রহমান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। এ নিয়ে তিনি আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলছেন।
জাইমা রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন, এ রকম দু’জন আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মুখ খুলতে রাজি হননি। বরং তারা বলেছেন, এটি গোপনীয় বিষয়। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার জাইমা রহমান বিএনপির তরুণ পাঁচজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন। সেই আলাপের মূল বিষয় ছিলো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলা। তারেক রহমান ইতোমধ্যে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন দন্ডিত হয়েছেন। এই দণ্ডের বিরুদ্ধে তাকে যদি আপিল করতে হয়, তাহলে তাকে দেশে এসে আত্মসমর্পন করে আপিল করতে হবে।
এছাড়াও মানি লন্ডারিং একটি মামলায় আদালত তারেক জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩২টি মামলা আছে বলে জানা গেছে। জাইমা রহমান একজন আইনজীবীর সঙ্গে তার এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘ সাড়ে ৩ ঘণ্টা বৈঠক করেন। মূলত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়েই জাইমা রহমান কথা বলেছিলেন বলে জানা গেছে।

এরপর দিন শনিবার জাইমা রহমান খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন। এই বৈঠকে খালেদা জিয়ার যে, দুটি মামলাতে দণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেই দুটি মামলার কাগজ-পত্র পর্যালোচনা করেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিএনপির একজন বলেন, লন্ডনে খালেদা জিয়ার যে আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়েছিল এবং লন্ডনে যারা আইন পেশায় প্রসিদ্ধ তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করার জন্যই জাইমা রহমান এই বিষয়ে কথা বলেছেন। পুরো বিষয়টা জানতে চেয়েছেন। তিনি এই মামলাগুলো নিয়ে লন্ডনে সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
বিএনপির একজন আইনজীবী বলছেন, যেহেতু তিনি বার-এট-ল করেছেন। কাজেই আইন পেশায় প্রসিদ্ধ অনেকের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। এই মামলাগুলোর ব্যাপারে আইনগত প্রতিকার কি হবে, কীভাবে বেগম খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে তারেক জিয়া আইনগত প্রতিকার পেতে পারেন সেটি নিয়ে সেখানে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে চান। তবে বিএনপির অনেক নেতাই মনে করছেন, এটা রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে তার প্রথম ধাপ। এর মাধ্যমে তিনি নেতাকর্মীদের মধ্যে নিজেকে তুলে ধরছেন। আস্তে আস্তে তিনি বিএনপির অন্যান্য বিষয়গুলোতেও মাথা ঘামাবে।
তবে বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন যে, এই রকম সম্ভাবনা খুবই কম। খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং এই মামলা গুলোর আইনি প্রতিকার নিয়ে খালেদা জিয়া বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের উপর আস্থাশীল নন, এই কারণেই জাইমা রহমান এই মামলাগুলোর করণীয় নির্ধারণ করে দিবেন। আর এই বিষয়ে তিনি লন্ডনের সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলবেন।