প্রচ্ছদ রাজনীতি আ’লীগে সাড়ে ৭ হাজার অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে দেড় হাজার জামায়াত!

আ’লীগে সাড়ে ৭ হাজার অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে দেড় হাজার জামায়াত!

60
আ'লীগে সাড়ে ৭ হাজার অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে দেড় হাজার জামায়াত!

৩ বছর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী দের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। এ সময় তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সারা দেশে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সুত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে আট হাজার ব্যক্তির নাম ঐ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। মূলত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমের এই অনুপ্রবেশ কারীদের তালিকা সংগ্রহ করেছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।
এই তালিকাটি তিনি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির নেতৃত্বে একটি কমিটিকে দেন। ওই কমিটির সব সদস্যই ছিলেন নারী। ডা. দীপু মনির ওই কমিটি তালিকাগুলো যাচাই-বাছাই করে সেখান থেকে কিছু বাদ দেন। সাড়ে ৭ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে আওমী লীগের সভাপতি এই তালিকায় যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেন। তাদেরকে আস্তে আস্তে দল থেকে, দলের সকল কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া ও পদ-পদবি থেকে অপসারণের নির্দেশও দিয়েছিলেন।

কিন্তু ৩ বছরেও আওয়ামী লীগ সভাপতির এই নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে অন্তঃকলহ, জেলা কমিটি নিয়ে বিরোধ ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা নতুন করে ওই সাড়ে ৭ হাজার অনুপ্রবেশকারীর তালিকা যাচাই-বাছাই করছেন। এই যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, যে সাড়ে ৭ হাজার অনুপ্রবেশ কারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে; তাদের মধ্যে দেড় হাজার সরাসরি জামাত থেকে আসা। এরা ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ এই তিন বছরে মূলত জামাত থেকে আওয়ামী লীগে ঢুকেছে। এদের কেউ কেউ জামাতের জেলা পর্যায়ের এবং স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। অনেকে জামাতের টিকেট নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরা আওয়ামী লীগে এসে যেমন বিভিন্ন কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন, তেমনি জনপ্রতিনিধি হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছে আওয়ামী লীগের টিকেটে।

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, জামাত থেকে আসা যে দেড় হাজার অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি। তাদের বেশিরভাগই ইউনিয়ন পরিষদের নেতা।
আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, মূলত আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন এমপিদের মদদ, যোগ-সাজসে এবং পৃষ্ঠপোষকতায় জামাতের এই অনুপ্রবেশ ঘটেছে। ওই নেতা বলেন যে, অনেকে আওয়ামী লীগের টিকেট পেয়েছেন। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তেমনভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না। নির্বাচনে জেতার জন্য আওয়ামী লীগকে এই আপোষ রফা করতে হয়েছিলো। সে সমস্ত ব্যক্তিরা এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে নেন। তার অনুগত বাহিনী করার উদ্যোগ নেন।

এজন্যই বিএনপি-জামাত থেকে তাদের লোক ভাড়া করে তাদেরকে আওয়ামী লীগার বানিয়েছে। আওয়ামী লীগের অন্য আরেকজন নেতা বলেছেন যে, ২০১৩ সালের পর থেকে জামাতের একটি বিপুল অংশ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করে যখন সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে। তখনই জামাত পরিকল্পনা নেয় যে, আওয়ামী লীগে ঢুকতে হবে; আওয়ামী লীগে ঢুকে আস্তে আস্তে আওয়ামী লীগের ভেতরে থেকে আওয়ামী লীগ দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিতর্কিত করতে হবে।
এই চিন্তার অংশ হিসেবে পরিকল্পিত নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্যই একটি বিপুল সংখ্যক জামাত আওয়ামী লীগে ঢুকেছে। আওয়ামী লীগের একজন সদস্য বলেছেন, শুধু আওয়ামী লীগ নয়, ছাত্রলীগের মধ্যেও এভাবে ছাত্র শিবিরের লোকদের অনু প্রবেশ ঘটেছে। তবে আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে সেই চিহ্নিত ব্যক্তিদেরকে খুব শীঘ্রই পর্যায়ক্রমে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। এই ব্যক্তিরা যেন দলের কোনো পদ পদবী না পায় তা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।