প্রচ্ছদ রাজনীতি প্রশ্ন হচ্ছে, এ সময়ে আওয়ামী লীগের নিউক্লিয়াস কারা?

প্রশ্ন হচ্ছে, এ সময়ে আওয়ামী লীগের নিউক্লিয়াস কারা?

39
প্রশ্ন হচ্ছে, এ সময়ে আওয়ামী লীগের নিউক্লিয়াস কারা?

গঠণতন্ত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের সবচেয়ে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলটি হল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের বিন্যাস এমন যে, এখানে বিএনপি বা জাতীয় পার্টির মতো দলের প্রধান সভাপতির একছত্র ক্ষমতা নাই। বরং প্রেসিডিয়াম, কার্যনির্বাহী সংসদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে সুস্পষ্টভাবে দলের ভিতরে একটা ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। যদিও বাস্তবতায় দেখা গেছে যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থেকে, তিনি নেতাকর্মীদের মধ্যে এমনভাবে আস্থা অর্জন করেছেন এবং এত বিপুল জনপ্রিয়, শেষপর্যন্ত দলের গঠনতন্ত্রে যাই থাকুক না কেন তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের সভাপতি যেহেতু শুধু দলেরনা দেশের মধ্যেও সবচেয়ে জনপ্রিয়। সে কারণে এখন তার সিদ্ধান্তই দলের শেষ কথা। তবে সারাদেশে সংগঠন পরিচালনা করা। সংগঠনের ভালোমন্দ দেখা, ভুলত্রুটি তদারকি করা এবং দলের সভাপতির কাছে বস্তুনিষ্ঠ সঠিক তথ্য সরবারাহ করা একটি সংস্কৃতি আওয়ামীলীগে চালু আছে। আমরা দেখি যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন জাতির পিতাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন চার নেতা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে। তারাই সেসময় নিউক্লিয়াস ছিলেন। শুধুমাত্র এই চার নেতাই না আবার তরুণদের একটি গ্রুপও মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নীতি এবং নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করার কাজ করেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের নিউক্লিয়াস পদ্ধতি চালু আছে। এই নিউক্লিয়াস পদ্ধতির মূল কথা হলো যে, প্রধান নেতার বিশ্বস্ত এবং অনুগত গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ। যারা দল পরিচালনা করার ক্ষেত্রে কাজ করেন এবং ভূমিকা রাখেন। এই নিউক্লিয়াস সারাদেশে আওয়ামী লীগের পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির তথ্যের একটা বড় উৎস। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষন করলে দেখা যায় যে, দলটির দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি হলো সাধারণ সম্পাদক। তবে সাধারণ সম্পাদক এককভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতির সাথে মিলে দল পরিচালনা করেছেন। এমন নজির আওয়ামী লীগে খুবই কম। বরং সাধারণ সম্পাদক দলের সভাপতির নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করেন। এটাই আওয়ামী লীগের রীতি এবং সংস্কৃতি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আওয়ামী লীগের নিউক্লিয়াস কারা? কারা শেখ হাসিনার বিস্বস্থ কারা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে মাঠের খবর এবং দলের প্রকৃত খবরগুলো যাচাই-বাছাই করে দেযন? আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে এবং অনুসন্ধান করে দেখা গেছে যে, সম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাবান হিসেবে বা আওয়ামী লীগ সভাপতির বিশ্বস্ত হিসেবে কয়েকজন নেতা আবির্ভূত হয়েছেন। যারা সারা দেশে আওয়ামী লীগের খোঁজখবর নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির বিভিন্ন নির্দেশনাগুলো প্রতিপালন করার জন্য কাজ করছেন। দলের মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি এবং কার্যক্রমগুলো কে পর্যবেক্ষণ করছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং তিনি একটি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। কোভিটের কারণে সারাদেশেই তার নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আর এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের নিউক্লিয়াস হিসেবে যে নেতাদের আবির্ভাব ঘটেছে তাদের মধ্যে রয়েছে দলের, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি গত নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠ হয়েছেন।আওয়ামী লীগ সভাপতি তাকে দলের সাংগঠনিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দায়িত্ব দিয়েছেন। অনেক তথ্য তার কাছ থেকে গ্রহণ করছেন।
আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় নিউক্লিয়াস বাহাউদ্দিন নাসিম। তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে গত কাউন্সিল যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হয়েছেন। দলের সাংগঠনিক দেখবালে ক্রমশ্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে কয়েকটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দলের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের নিউক্লিয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে আব্দুর রহমানকে। আব্দুর রহমান একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনিও গত নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি এবং মনোনয়ন না পেলেও সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী তার ওপর আস্থা রাখছেন। তাকে বেশ কিছু দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হচ্ছে।
মির্জা আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মির্জা আজম আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। তার বিশাল অনুগত কর্মী বাহিনী আছেন। দলের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়। সেজন্য দলের প্রান্তিক পর্যায়ের নেতা তার কাছে সমস্যার কথা বলে আস্থা পাচ্ছেন। সমস্যাগুলোও সমাধানের জন্য তিনি কাজ করছেন। এই চারজন ক্রমশ আওয়ামী লীগে গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতিও এদের দল পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ভর করছে। ফলে এরাই এখন আওয়ামী লীগের নিউক্লিয়াস।