প্রচ্ছদ স্পটলাইট হেফাজতের ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাওয়ে জামায়াতের নাশকতার পরিকল্পনা

হেফাজতের ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাওয়ে জামায়াতের নাশকতার পরিকল্পনা

78
হেফাজতের ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাওয়ে জামায়াতের নাশকতার পরিকল্পনা

ফ্রান্সের পণ্য বর্জন এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ফ্রান্সের দূতাবাস বন্ধের দাবিতে ২ নভেম্বর দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচিতে হেফাজতের আড়ালে সুপ্রশিক্ষিত জামায়াত-শিবির বাহিনী ভয়ঙ্কর এক নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র বলছে, জামায়াত-শিবিরের পাঁচ হাজার প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্রান্সের দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচিতে হেফাজতের মিছিলে বড় ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা ৫ মে এর মতো রক্তাক্ত এক পরিস্থিতি সৃষ্টির নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর সভাপতি নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘বাংলাদেশে ফ্রান্সের দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচিতে জামায়াত-শিবির অংশ নিবে বলে আমিও শুনেছি। আমরা এবিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা করবো। তবে জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা যেহেতু উগ্র সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাসী তাই আমরা নিজেরাও কর্মসূচিতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত। রাতেই আমরা আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বসবো। প্রয়োজনবোধে কর্মসূচি প্রত্যাহার করাও হতে পারে।’

এদিকে হেফাজতের কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকল স্তরের জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের ঢাকা মহানগরের এক নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ফ্রান্সে যা হয়েছে সেটা নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে হেফাজতের কর্মসূচিতে আমাদের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের অংশ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি সফল করতে সরকার যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে জামায়াত-শিবির কর্মীদের দাঁত ভাঙা জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।’
অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মের মতো জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এবার ফ্রান্সের দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাবে বলে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এতে বিপুল সংখ্যক প্রশিক্ষিত শিবির ক্যাডার সারাদেশ থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিলে অংশ নিতে জামায়াতের কেন্দ্র থেকে গোপন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অনুসন্ধানী তথ্য বলছে, ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে সরকার বাধা না দিলেও জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করে পুরো দেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে। তাই সাধারণ জনগণকে জামায়াত-শিবিরের এই নোংরা রাজনৈতিক ফাঁদে পা না দিতেই পরামর্শ দিচ্ছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
এবিষয়ে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে হেফাজতের আড়ালে জামায়াত-শিবির অবস্থান নিবে এটা নিয়ে অবাক হবার কিছু নেই। বরং হেফাজত নেতারা এই কর্মসূচি দিয়ে জামায়াত-শিবিরকে পুরো দেশকে অস্থিতিশীল করার একটা সুযোগ করে দিলো যা খুবই দুঃখজনক। যেখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। সেখানে এই কর্মসূচির কোনো মানেই হয় না।

জনগণকে সতর্ক থেকে সচেতনতার সাথে এই ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যাখান করতে হবে এবং এদের থেকে দূরে থাকতে হবে। অন্যথায় দেশ আরেক দফা জামায়াত-শিবিরের রক্তাক্ত তাণ্ডব দেখবে। সরকারকেও এখন-ই কঠোর হতে হবে। অন্যথায় দেশে বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ফ্রান্সে হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ‘ব্যঙ্গচিত্র’ প্রদর্শনের প্রতিবাদে ২ নভেম্বর বাংলাদেশে অবস্থিত দেশটির দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। মূলত সম্মিলিত ইসলামি দলগুলোর ব্যানারে জামায়াত-শিবির বড় ধরনের নাশকতা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে-ই বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।