প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে একশন শুরু হচ্ছে

হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে একশন শুরু হচ্ছে

65
হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে একশন শুরু হচ্ছে

হাজী সেলিমের অপকর্মের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে এখন যে সব অভিযোগ এসেছে সেগুলো সত্য হলে, তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারের একাধিক সূত্র এরকম তথ্য দিয়েছেন।
ইরফান সেলিমের ঘটনায় আক্রান্ত হচ্ছেন ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিম। বহিস্কৃত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিম, হাজী সেলিমের দ্বিতীয় পুত্র। গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় নৌ বাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধর করেন ইরফান সেলিম। ঐ নৌ কর্মকর্তার মোটর সাইকেল হাজী সেলিমের গাড়ীর সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এরপর গাড়ী থেকে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী নেমে ঐ নৌ কর্মকর্তাকে পেটান। পর দিন সকালে নৌ কর্মকর্তা নিজে বাদী হয়ে ধানমন্ডী থানায় মামলা দায়ের করেন। ঐ দিনই গ্রেপ্তার হন ইরফান সেলিম।

অবৈধ মদ এবং অস্ত্র রাখার দায়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট ইরফান সেলিমকে একবছরের কারাদণ্ডে দণ্ডি করেন। এছাড়াও ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাজী সেলিমের পুত্রকে এখন রিমাণ্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। ইরফান সেলিম গ্রেপ্তার হবার পর হাজী সেলিমের অবৈধ কর্মকান্ড জনসম্মুখে আসছে। আগে ভয়ে লোকজন তার বিরুদ্ধে কথা বলতো না। এখন এই ঘটনার পর লোকজন মুখ খুলতে শুরু করেছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ইরফান সেলিম আটক হবার পর হাজী সেলিমের দুর্নীতি, অবৈধ দখলের অনেক অভিযোগ তাদের কাছে আসছে। ইরফান সেলিম গ্রেপ্তার হবার পরপরই অগ্রণী ব্যাংক নিজ উদ্যোগে হাজী সেলিমের অবৈধ দখলে থাকা তাদের একটি জমি উদ্ধার করেছে। ইতিমধ্যে লালবাগে হাজী সেলিম যাদের দোকান এবং সম্পত্তি জোর করে দখল করে নিয়েছিলেন, তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শরণাপন্ন হচ্ছেন।

সরকারী অনেক প্রতিষ্ঠানও হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, তারা অভিযোগ গুলোর সত্যতা যাচাই করছেন। অভিযোগ গুলো যদি সত্যি হয় তাহলে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধেও তারা একজনে যাবেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন ‘আমাদের অবস্থান পরিস্কার। অপরাধ যিনি করবেন, তাকেই আমরা আইনের আওতায় আনবো। তার রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না।’
আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন ‘প্রধানমন্ত্রী আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। এই নির্দেশনা হলো, অপরাধীর বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা। তিনি যেই হোন না কেন।’ জানা গেছে এর ভিত্তিতেই যেকোন সময় হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে একশন শুরু হতে পারে।

নজরদারিতে ১১ এমপি

সরকারী অর্থ আত্মসাৎ, খাস জমি দখল, ঘুষ গ্রহণ, কমিশন বানিজ্য, চাঁদাবাজি সহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ১১ সংসদ সদস্য। এরা সরকারের নজরদারিতে আছেন। এদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশনও। শুধু বর্তমান ১১ সংসদ সদস্য নন, সাবেক ১০ জন সদস্যও নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। সরকারের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই বাছাই চলছে, দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদের অনুসন্ধান করছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন ‘প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই এব্যাপারে কঠোর অবস্থানে আছেন। অন্যায় করে কেউ পার পাবেন না।’ রাজশাহী-১ আসনে সংসদ সদস্য এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মোট ২০টি অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ৫ জন এমপির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে। এরা হলেন : সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, ভোলা-৩ আসনের নূরন্নবী চৌধুরী শাওন, চট্টগ্রাম-১২ আসনের শামসুল হক চৌধুরী, নারায়নগঞ্জ-২ আসনের নজরুল ইসলাম বাবু এবং বরিশাল-৪ আসনের পঙ্কজ দেবনাথ। দুর্নীতি দমন কমিশন এখন তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে।
বিকল্প ধারার নেতা এবং মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাহি বি চৌধুরীর বিরুদ্ধেও ‘অবৈধ সম্পদে’র অনুসন্ধান চলছে। তাকে দুদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। ভোলা-৪ আসনের এমপি এবং সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের বিরুদ্ধেও দুদক অনুসন্ধান চলছে। কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়া স্বতন্ত্র এমপি কাজী শাহিদ ইসলাম পাপুল এবং তার স্ত্রী (যিনি মহিলা কোটায় সংসদ সদস্য) সেলিনা ইসলামের বিরুদ্ধেও দুদক সহ একাধিক সংস্থা তদন্ত করছে।
বর্তমান ১১ জন সংসদ সদস্য ছাড়াও গোয়েন্দা এবং দুদকের নজরদারিতে যে সব সাবেক এমপি রয়েছেন তারা হলেন, আওয়ামী লীগের বি.এম মোজাম্মেল হক, কামরুল আশরাফ খান পোটন, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, শামসুল হক ভুইয়া। বিএনপির নেতাদের মধ্যে আছেন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আসাদুল হাবিব দুলু, মো: শাজাহান, আবদুল মোমিন তালুকদার, শহিদুজ্জামান বেল্টু। জাতীয় পার্টির নেতা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারও দুদুক অনুসন্ধানের মধ্যে আছেন।