প্রচ্ছদ জীবন-যাপন ইরফান দুই ভাইয়ের ওপরেও ছড়ি ঘোরাতেন

ইরফান দুই ভাইয়ের ওপরেও ছড়ি ঘোরাতেন

436
ইরফান দুই ভাইয়ের ওপরেও ছড়ি ঘোরাতেন

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় হাজী সেলিমের পুত্র ইরফান সেলিমের অপকর্ম সামনে আসে। শুধু বাইরেই নয় পরিবারের লোকদের সাথেও খারাপ আচরণ করতেন ইরফান। হাজী সেলিমের সম্পত্তি দখল নেয়ার জন্য দুই ভাইকে কোণঠাসার করে রাখতেন তিনি। ছোট ভাই আশিক সেলিমকে অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে বড় ভাই সোলেমান সেলিমকে চাপে রেখে পুরো সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিলেন ইরফান। এর প্রতিবাদ করায় বড় ভাই সোলেমান সেলিমের গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করেননি তিনি।
ছোট ভাই আশিক যাতে ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারে এজন্য তাকে অস্ট্রেলিয়ায় অতিরিক্ত টাকা পাঠাতেন ইরফান সেলিম। আর বড় ভাই সোলেমান সেলিম অনেকটা ইরফানের কাছে জিম্মি। এই অবস্থায় ২০১৮ সালের জুন মাসে ইরফান তার বাবার কাছে সমস্ত সম্পত্তি লিখে নেয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু অপর দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হাজী সেলিম রাজি হননি। যে কারণে হাজী সেলিমকে বেশ কিছুদিন বাড়ির বাইরে বের হতে দেননি ইরফান। এতে তিনি সন্তান ইরফানের ওপর আরো ক্ষিপ্ত হন।

মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, হাজী সেলিম অসুস্থ হওয়ার আগে পুরো ব্যবসার ভার তিনি একাই সামলাতেন। যখনই তিনি স্ট্রোক করে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন তখনই মদিনা গ্রুপের পুরো ব্যবসা নিজে কব্জা করার চেষ্টা করেন ইরফান। তার এই অপকর্মে দুই ভাই ছিলেন বড় অসহায়।
অন্যদিকে ইরফানের কর্মকাণ্ডে এলকাবাসীদের আতঙ্কে থাকতেন। বিশেষ করে ইরফান যখন বাসা বা অফিস থেকে যখন তিনি বের হতেন তখন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীরা এবং প্রাইভেট বাহিনীর সদস্যরা গাড়ির হুইসেল বাজিয়ে পুরো রাস্তা ফাঁকা করতেন। হুইসেল শোনার পর যদি কারও গাড়ি রাস্তা থেকে দ্রুত না সরতো তাহলে তাদের কপালে তাৎক্ষণিক শনির দশা নেমে আসতো। তার প্রাইভেট বাহিনী তাকে সেখানেই পিটিয়ে জখম করে দিতো। ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষ বিষয়গুলো দেখেও না দেখার ভান করতো। সেখানে তারা এক প্রকার অসহায় ছিলো বলে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে।