প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট একজন মহানায়ক সাকিব আল হাসান: ফিরছেন আগামীকাল

একজন মহানায়ক সাকিব আল হাসান: ফিরছেন আগামীকাল

9
একজন মহানায়ক সাকিব আল হাসান: ফিরছেন আগামীকাল

বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের উপর আরোপিত আইসিসির দেওয়া নিষেধাজ্ঞার অপেক্ষার শেষ হচ্ছে আজ। অর্থাৎ আগামীকাল থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে আর কোন ধরনেরই বাধা থাকবে না, দেশের তিন ফরম্যাটেই অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা এই মহানায়কের। নিষেধাজ্ঞার এই একটি বছরে দেশের অনেক ক্রিকেট পাগল ভক্তই সাকিবের জন্য প্রতিটা দিন, ক্ষণ আর সময়ের অপেক্ষা করেছে। তাদের এই অপেক্ষার অবসানে কেমন যেন সর্বত্র উচ্ছ্বাসের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। স্বস্তি ফিরে পেতে শুরু করেছে দেশের পুরো ক্রিকেটাঙ্গনেও!
অলরাউন্ডার নৈপুণ্যে আর পরিসংখ্যান হিসাব করলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্রিকেটার হিসেবে গতবছরই `১৯ বিশ্বকাপ আসর সমাপ্ত করেছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোন ক্রিকেটারই ৪০০ রানের পাশাপাশি ১০ উইকেট নিতে পারেননি।

সেখানে সাকিব ব্যাট হাতে দুইটি সেঞ্চুরি এবং ৫টি হাফসেঞ্চুরিতে ৬০৬ রান করার পাশাপাশি নেন ১১টি উইকেট। ক্রিকেট বিশ্বের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ফরম্যাটেই অলরাউন্ডার র‍্যাংকিয়ে এক নাম্বার পজিশন অবস্থানকারী সাকিব স্বপ্নের মত একটি বিশ্বকাপ আসর কাটিয়ে দেশে ফিরে আসার কিছুদিন পরেই ক্রিকেট বোর্ডের রাজস্ব আয় নিয়ে বোর্ডের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সকল ক্রিকেটারদের নিয়ে ১১ দফা দাবির সপক্ষে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। বোর্ড এবং ক্রিকেটারদের পাল্টাপাল্টি সংবাদ আর রুদ্ধশ্বাস বৈঠকের পরে ক্রিকেটারদের নায্য দাবিদাওয়া সংশ্লিষ্ট আন্দোলনের প্রায় অনেক দাবীই বোর্ড মেনে একটা পর্যায়ে নিতে বাধ্য হয়। নিজেদের দাবীকৃত চাওয়া গুলোর অধিকাংশ যখন পেয়ে সকল ক্রিকেটাররা আনন্দে উদ্বেলিত ঠিক তার কয়েকদিন পরেই দেশের ক্রিকেটের আকাশে মেঘের ঘনঘটা বইতে শুরু করে। দেশের ক্রিকেটের নবাব তারকা খ্যাতি পাওয়া সাকিবের বিরুদ্ধে হঠাৎ করেই আইসিসি একটি অভিযোগ তুলে। চারদিকে বাজ পড়ার মতই খবর চাউর হতে থাকে যে, কোন কারণে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছেন সাকিব! পরবর্তীতে

ঘটনার বিস্তারিত হিসেবে আইসিসি জানায় ২০১৮ সালে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ এবং ২০১৮ আইপিএলে তিনি জুয়াড়িদের থেকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পান। জুয়াড়িদের সেই প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিলেও আইসিসি বা বিসিবিকে তা অবহিত না করে গোপন রাখেন৷ যার ফলে আইসিসির অ্যান্টি করাপশনের তিনটি কোড ভঙ্গ হয়। এরফলে ২৯ অক্টোবর আইসিসি তাদের পেনাল কোড ভঙ্গ করার দায়ে সাকিবকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি ঘোষণা করে। কিন্ত আইসিসিকে তদন্ত কাজে সহযোগিতার জন্য শুরুতেই তা এক বছর কমিয়ে দেওয়া হয়। সাকিব বলেছিলেন ফিক্সিংয়ের বিষয়টি তিনি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই তেমন একটা গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে কাউকে আর জানাননি।
শাস্তি ঘোষণার পরপরই শুরু হয় ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। সবাই মাত্রাতিরিক্ত শাস্তির ব্যাপারটা উল্লেখ করে আইসিসিকে বিষাদেগার করতে শুরু করেন। পুরো দেশ এবং দেশের বাহিরেও সাকিব ইস্যু নিয়ে ঢেউ শুরু হয়ে যায়। অবশেষে বিসিবি কার্যালয়ে এসে সাকিব সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাস্তির বিষয়টি মেনে নেওয়ার পাশাপাশি ভক্তদের আশ্বস্ত করে বলেন তিনি আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন। তারপরও দেশের অনেক যায়গাতে আন্দোলন, মানববন্ধনও হয়েছিল তার এই শাস্তির বিপক্ষে। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে সাকিবের এই শাস্তির বিষয়টি সাকিবকে দেশের মানুষের কাছে আরো জনপ্রিয় করে তুলেছিলো। এরপরে সাকিব ভক্তদের কাছে সাকিবের শাস্তির বিষয়টি উপশম হলে তারা এই মহানায়কের ফিরে আসার দিন গুনে অপেক্ষা করতে শুরু করেন। আর সেই অপেক্ষার শেষ হবে আজকেই! মহানায়ক যে ফিরছেন আগামীকালই!