প্রচ্ছদ রাজনীতি যে পরিকল্পনায় মাঠে নেমেছে জামায়াত-শিবির

যে পরিকল্পনায় মাঠে নেমেছে জামায়াত-শিবির

30
যে পরিকল্পনায় মাঠে নেমেছে জামায়াত-শিবির

করোনা সারা দেশে সামাজিক অস্থিরতা এবং পুলিশ বাহিনীর চাপে থাকার সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে মাঠে নেমেছে জামায়াত-শিবির। সারাদেশে সন্ত্রাস, নাশকতার মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির এক পরিকল্পনা নিয়ে তারা এগুচ্ছে। একদিকে জামায়াত-শিবির বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠন ও নেটওয়ার্কগুলোকে তৎপর করছে। অন্যদিকে সংগঠন পুনঃগঠন ও ঝটিকা কর্মসূচি পালন করছে। একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।
গত সেপ্টেম্বরে জামায়াতের মজলিশে সুরার এক ভাচুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের আমীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে তিন দফা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত গুলো হলো:
১. প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত জনসংযোগ বাড়াতে হবে। ২. সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি এসব তথ্য সংগ্রহ করে জনগণের মধ্যে প্রচার করতে হবে। ৩. প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে।

ঐ বৈঠকের কার্য-বিবরণী জেলা পর্যায় পযৃন্ত পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। এরপর থেকেই জামায়াত সারাদেশেই প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঝটিকা মিছিল, কর্মী সভা করছে। প্রকাশ্য এই তৎপরতার বাইরে জামাতের পাঁচ নেতাকে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরে আইন শৃংখলা বাহিনীর জঙ্গী বিরোধী লাগাতার সাড়াশি অভিযানের কারণে অধিকাংশ জঙ্গী সংগঠনের নেটওয়ার্ক দূর্বল হয়ে গেছে। অনেক জঙ্গী সংগঠন নিস্ক্রিয় হয়েছে। এগুলোকে চাঙ্গা করতে চায় জামায়াত-শিবির।
সে লক্ষ্যে এই সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জামায়াত নেতারা যোগাযোগ করছে। জানা গেছে, জামায়াতের লক্ষ্য দুটি: প্রথমত, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে জামায়াতকে শক্তিশালী করা। দ্বিতীয়ত, জঙ্গী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা।

সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল মজলিশে সুরার সভায় বলা হয়েছে, নানা কারণে এখন সরকার চাপে আছে। এই চাপ বাড়াতে হবে। জামায়াত মনে করছে করোনা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ইত্যাদি কারণে জনগণ এই সরকারের উপর আস্থা হারাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জামায়াত নেতারা এটাও কর্মীদের বলছে যে, সিনহা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় এখন আইন শৃংখলা বাহিনী চাপের মধ্যে আছে। কাজেই এখন জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযান স্তিমিত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে এখন, জামাত গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং তারা নানা ইস্যু সামাল দিতেই হিমশিম খাচ্ছে। এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশে সরকার বিরোধী নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তারা একটি বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে।
তবে, আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অপতৎপরতা সম্পর্কে আমরা সচেতন এবং সজাগ। এদের দুরভিসন্ধি কখনও সফল হবে না।’