প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য আমেরিকার ৮০ লাখ ও বাংলাদেশে দেড়কোটি মানুষ গরীব হয়েছে

আমেরিকার ৮০ লাখ ও বাংলাদেশে দেড়কোটি মানুষ গরীব হয়েছে

14
আমেরিকার ৮০ লাখ ও বাংলাদেশে দেড়কোটি মানুষ গরীব হয়েছে

করোনায় ক্ষত-বিক্ষত আমেরিকায় গত ৫ মাসে গরিব মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৮০ লাখ হয়েছে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
অপরদিকে, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো এবং নটরডেম ইউনিভার্সিটি পরিচালিত অপর এক জরিপে দেখা গেছে, গত তিন মাসে ৬০ লাখ আমেরিকান চরম দরিদ্র হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দ্ররিদতার শিকার হয়েছেন হয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ এবং শিশু।
কলম্বিয়ার গবেষকরা অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে, করোনার প্রকোপ শুরুর পরই এপ্রিলে করোনা-স্টিমুলাস চেকসহ বেকার ভাতা বিতরণ প্রক্রিয়া (দুই ট্রিলিয়ন ডলার) শুরু হলে দারিদ্রের সংখ্যায় ভাটা পড়েছিল।
ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর অর্থনীতিবিদ এবং এই গবেষণা জরিপের তত্ত্বাবধায়ক ড. ব্রুস মিয়ার বলেছেন, গরিবের এ সংখ্যা সত্যি উদ্বেগজনক। গরিব মানুষেরা বাড়ি ভাড়া, নিত্য ব্যবহার্য সার্ভিসের বিল, পুষ্টিকর খাদ্য সংগ্রহে হিমসিম খাচ্ছেন-যা কল্পনারও অতীত।

সাম্প্রতিক সময়ে কর্মসংস্থানের সংকট হ্রাস পাওয়ায় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি বলেও গবেষকরা মন্তব্য করেছেন। করোনায় এতবেশি ক্ষতি হয়েছে যা থেকে উদ্ধার সহজ ব্যাপার হবে না। তবে সরকার যদি স্টিমুলাস বিধির আওতায় সবধরনের সহায়তা প্রদান করে তাহলে ভিন্ন অবস্থা তৈরী হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু ভোটের চক্করে পড়ে রিপাবলিকান এবং ডেমক্র্যাটরা করোনা-রিলিফ বিল পাশে খুব বেশি মনোযোগী হচ্ছেন না। অধিকন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরেক ধাপ এগিয়ে অভাবী মানুষকে টোপ দিয়েছেন যে, তিনি যদি জয়ী হতে পারেন তাহলে বড় অংকের রিলিফ বিল পাশ করা হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র শ্রম দফতর জানায়, বৃহস্পতিবার আরো ৮ লাখ ৮৫ হাজার বেকার মানুষ ভাতার জন্যে আবেদন করেছেন। আগের সপ্তাহ থেকে এ সংখ্যা বেশি বলেও কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।

গত ১০ বছরে দেশে কোটি মানুষ হতদরিদ্র অবস্থা কাটিয়ে উঠলেও করোনার কারণে দেড়কোটি মানুষ গরিব হয়েছে
এ তথ্য সরকারের থিংক ট্যাংক হিসেবে পরিচিত পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগের (জিইডি)। সংস্থাটি বলছে, আসন্ন অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় করোনার প্রভাবকে অন্তর্ভুক্ত করতে একটি প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে। হিসাব অনুসারে, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২৯ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আর বেকার হয়েছে কয়েক কোটি মানুষ। তবে এ বেকারত্ব সাময়িক।
টিবিএস নিউজ জানায়, মধ্যবিত্ত শ্রেণির সম্প্রসারণ একটি দেশের উন্নয়নের লক্ষণকে প্রকাশ করে। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দারিদ্র কমেছিল উল্লেখযোগ্য হারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, গত ১০ বছরে আমাদের দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ হতদরিদ্র অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সরকারি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১০ সালে দেশে হতদরিদ্র ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫৮ লাখ। ২০১৯ সালের জুন মাস শেষে অতি গরিব বা হতদরিদ্র ব্যক্তির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখের কিছুটা বেশি।
কিন্তু করোনা পরিস্থিতি দারিদ্র বিমোচনের চিত্র পাল্টে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিশ^ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘দেশে দারিদ্র্য করোনার কারণে ৪০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। করোনার প্রভাব কত মারাত্মক ছিল, তা খোলা চোখে দেখলেই বোঝা যায়। বহু মানুষ ঢাকা ছেড়েছে, বহু মধ্যবিত্ত গরিব হয়ে গেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতিসংঘ ঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস’। জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতিবছরই সারা বিশ্বে এই দিনে দিবসটি পালিত হয়।