প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় অপরাধী মামুনকে বাঁচাতে নারী ও গণমাধ্যমকে আক্রমণ নুরুলের

অপরাধী মামুনকে বাঁচাতে নারী ও গণমাধ্যমকে আক্রমণ নুরুলের

53
অপরাধী মামুনকে বাঁচাতে নারী ও গণমাধ্যমকে আক্রমণ নুরুলের

নারী ও গণমাধ্যমকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষ নেয়ায় নুরের ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকেও অবাঞ্ছিত করা হয়। বিগত কিছুদিন ধরে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সুশীলরা মনে করছেন, ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন নুর। বিশেষ করে নারী ও গণমাধ্যমকে আক্রমণ করে নুর রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন। ধর্ষক মামুনকে বাঁচাতেই একাত্তর টিভিকে আক্রমণ করে চলেছেন নুরের অন্ধ অনুসারীরা।
সম্প্রতি নুর সম্পর্কে বলতে গিয়ে এক টকশোতে সাংবাদিক স্বকৃত নোমান বলেন, নুরু প্রসঙ্গ থেকে শুরু করলে বলতে হয়, গত তিনদিন ধরে আমি তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি। প্রথমে তিনি ভুক্তভোগী নারীটিকে চরিত্রহীন বলেছেন কিন্তু নারীটি যে-ই ছেলেটির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তাকে তিনি একবারও চরিত্রহীন বলছেন না। এখানে নুরু একপাক্ষিক চরিত্রহীন বলে পক্ষ নিয়েছেন বলেই প্রতীয়মান হয়। আবার একইসঙ্গে ৭১ টিভির সাংবাদিকের মুঠোফোন নাম্বারটি দিয়ে তিনি যে গর্হিত কাজটি করেছেন এরকম একটি হয়রানির শিকার হয়েছিলাম আমি ২০১৫ সালে।

সাংবাদিক স্বকৃত নোমান বলেন, আমার একটি উপন্যাস প্রকাশের পরে ২০১৫ সালের দিকে একটি অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে আমার নাম্বারটি দিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছিল। সেসময় সারাদেশ থেকে আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছিল। আজকে আমাদের একাত্তরের সাংবাদিক যাকে ফেসবুকের মাধ্যমে হুমকি দেয়া হচ্ছে নাম্বার দেয়ার কারণে। আমি উপলব্ধি করতে পারছি তার কি অবস্থা হচ্ছে। এটা খুবই নিন্দনীয় একটি কাজ করেছে নুরু। এতদিন মনে করতাম নুরুর পক্ষে যারা কথা বলছেন, যেই গ্রুপ কথা বলছে তারা হয়তো উদার। এতদিন ভেবেছি বিকল্প একটি শক্তি হয়তো উঠে আসছে, বিকল্প একজন রাজনীতিক আমাদের মধ্যে উঠে আসছে এবং সে অসম্প্রদায়িক হবে ধর্মনিরপেক্ষ হবে। আমার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, আজকে সারাদিন নুরুর পক্ষে যারা কথা বলেছে, একাত্তর টিভিকে বয়কটের যারা ডাক দিয়েছে তারা সবাই সাম্প্রদায়িক একটি গোষ্ঠী। একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের মানুষ।

এই সাংবাদিক বলেন, একাত্তর টিভিকে বয়কটের যারা একজোট হয়েছে তাদেরকে আমরা চিনি। এরমধ্যে মিজানুর রহমান আজহারী নামক একজন মাওলানাও আছেন। তিনি বলেছেন যে, একাত্তর টিভি বয়কট করুন। একাত্তর টিভি বয়কট করতে হবে এমন কথা একজন মাওলানা বলেছেন যা অবিশ্বাস্য। একাত্তর টিভিকে ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে? আমার তো কখনোই মনে হয়নি একাত্তর টিভিকে ধর্মের বিরুদ্ধে বলে। বরং একাত্তর টিভি ধর্মের নামে ভণ্ডামির চিত্র তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করে।
স্বকৃত নোমান বলেন, ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানোর অধিকার তো কাউকে ধর্মও দেয়নি। কুরআনের ভাষায় বানিয়ে বানিয়ে আপনারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন আর সাধারণ মানুষ আপনাদের কথা বিশ্বাস করে ভুল পথ বেছে নিচ্ছে। তা তুলে ধরা অপরাধ না। মানুষ ধর্মপ্রাণ। এ সুযোগটা অনেক ভণ্ড হুজুর নিচ্ছেন। ধর্মপ্রচারক যারা তারা যখন ধর্মে নাই এমন কথা বানিয়ে বানিয়ে বলেন তখন সেটা অপরাধ। একাত্তর টিভি তাই তুলে ধরেছে। এটা তো অন্যায় না। একজন মাওলানাকে আমি বলতে শুনেছি নারীর কোনো আত্তা নাই। নারী অমঙ্গল, নারী অলক্ষ্মী।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক ইশতিয়াক রেজা বলেন, প্রসঙ্গ যদি নারী ও গণমাধ্যম সম্পর্কে হয়। তাহলে আমার অনেক কথা বলার আছে। নুর তো প্রতি মুহূর্তে অসহিষ্ণুতা পরিচয় দিয়েছেন। নারী সম্পর্কে, গণমাধ্যম সম্পর্কে নুর যা বলেছেন তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। উনার মতো মানুষই কিনা দেশকে নেতৃত্ব দিতে চান! এটা মেনে নেয়া যায় না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কে ইশতিয়াক রেজা বলেন, আসলে আমরা যে ইউটিউব ব্যবহার করি আর আমাদের যে ফেসবুক আছে সেখানে নানা ধরনের নারী বিদ্বেষী বক্তব্য আছে। ওয়াজ মাহফিলের নামে সেখানে যা যা কনটেন্ট হয় আমরা তা দেখেছি। এগুলোর বেশির ভাগই গ্রহণ করার পর্যায়ে নেই। একটা বড় সংখ্যক কন্টেন্ট বাহিরের দেশ থেকে করা হয় বিধায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়না। অনেকে দেশের ভেতরে থেকেও করছে। ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজকে প্রগতিকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। নারীদেরকে কাজ থেকে দূরে রাখার জন্য বাংলাদেশকে আসলে পিছিয়ে রাখার জন্য এই কাজগুলো করা হচ্ছে।

এবিষয়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকী বলেন, নুরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে তা গুরুতর। অভিযুক্ত মামুন আর নুরকে নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। এখানে ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী ঢাবি ছাত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ নেই। একটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া উচিত প্রশাসনের।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা রাশেক রহমান খান বলেন, নুরের বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা হয়েছে। আর ধর্ষণের জন্য তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তাতে করে যতক্ষণ না নুরকে গ্রেফতার করা হবে, ততক্ষণ আইনের শাসন আইনের যে প্রক্রিয়া সেটা যে কাজ করছে তা আমরা দাবি করতে পারবোনা। অন্য সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে নুরকে গ্রেফতার করতে হবে। যেহেতু সে এই ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত একজন আসামি তাকে ইমিডিয়েট আপনি যদি গ্রেফতার না করেন তাহলে আগামী দিনে ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে ধর্ষণের যে আইনটি সেটা যে প্রতিপালন করা হচ্ছে না- এই ধরনের একটা মেসেজ সমাজে চলে যাবে। একটা বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়ে যেতে পারে। সুতরাং পুলিশ নিশ্চয়ই একটি প্রাথমিক তদন্ত করে নুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।