প্রচ্ছদ বিনোদন ৭১ টিভি বয়কটের ডাক দিচ্ছে যারা, তারা কি স্বাধীনতাবিরোধী?

৭১ টিভি বয়কটের ডাক দিচ্ছে যারা, তারা কি স্বাধীনতাবিরোধী?

51
৭১ টিভি বয়কটের ডাক দিচ্ছে যারা, তারা কি স্বাধীনতাবিরোধীরা?

একাত্তর টিভির জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের মুখোশ উন্মোচনের ক্ষেত্রে অবিচল ভূমিকা রেখে, সংবাদের মাধ্যমে জনসাধারণকে সেবা প্রদান করে চলছে। তবে একটি চক্র বর্তমানে একাত্তর টিভির সুনাম ক্ষুণ্ণ করার প্রয়াসে লিপ্ত হয়ে নানা প্রকারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে একাধিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
সর্বপ্রথম প্রমাণ পাওয়া যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ও ধর্ষক নুরুল হক নুরের ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। যেখানে তিনি অকপটে একাত্তর টিভির এক সাংবাদিকের মুঠোফোন নাম্বার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার পর উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের গালাগালি করতে তার অনুসারীদের উস্কে দেন।
এরপর পাকিস্তানিপন্থী হুজুর মহল থেকে একাত্তর টিভিকে বয়কট করার আহবান জানানো হয়। মূলত স্বাধীনতা বিরোধী চক্র যাতে তাদের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যেতে পারে, সেই কারণেই তারা ৭১ টিভির বয়কট চাইছে।

এ প্রসঙ্গে বিভুরঞ্জন সরকার বলেন, একাত্তর টিভির বিরোধিতা যারা করছে, তারা একাত্তরেও দেশ বিরোধী ছিলো। স্বাধীনতার বিরোধী শক্তিরাই কেবল একাত্তর টিভিকে বয়কট করতে পারে। আমাদের উচিত হবে যারা একাত্তর টিভির বয়কট চাচ্ছে তাদের দেশ থেকে বয়কট করে দেয়া।
তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ আরাফাত বলেন, পাকিস্তানপন্থীদের ষড়যন্ত্র রুখতে হলে একাত্তর টিভির বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের শনাক্ত করতে হবে। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে যে গণমাধ্যম সমাজের বিবেক হিসেবে আজ দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে একাত্তর টিভির অবস্থান স্পষ্ট। বাংলাদেশের যে কয়টি গণমাধ্যম প্রগতির ধারাকে সমুন্নত রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে গুরু দায়িত্ব পালন করছে, একাত্তর টিভি তার মধ্যে প্রথম সারির একটি। আর তাই প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী দ্বারা বারংবার তারা আক্রান্ত হয় এবং হচ্ছে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের ফলে এবারও আক্রান্ত একাত্তর টিভি। এই মুহূর্তে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির উচিত একাত্তর টিভির পাশে এসে দাঁড়ানো।

একাত্তর টিভিকে বর্জনের ডাক দেয়ায় নুরের প্রতি বিজেসির নিন্দা
দেশের অন্যতম সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেল একাত্তর টিভিকে বর্জনের ডাক দেয়ার পাশাপাশি ঐ টেলিভিশনের একজন সাংবাদিককে লাগাতার হুমকি দেয়া ও টেলিফোনে অশ্লীল গালাগালির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার(বিজেসি)।
বিজেসি মনে করে, যে কোন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তেরও অধিকার আছে আত্মপক্ষ সমর্থনের। সাংবাদিকতার নীতি মেনেই তা প্রকাশ করা হয়। সেই নীতি মেনেই ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরল হক নুরের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণে সহযোগিতা ও নির্যাতিত নারীর প্রতি দেয়া অবমনানাকর বক্তব্যের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাত্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিলো। কিন্তু নুরুল হক নুর বক্তব্য না দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ঐ সাংবাদিকের টেলিফোন নাম্বার প্রকাশ করেন। বক্তব্য না দেয়া তার ব্যক্তি অধিকারের মধ্যে পড়ে, কিন্তু তিনি কোনোভাবেই সামাজিক মাধ্যমে সাংবাদিকের ফোন নাম্বার প্রকাশ করতে পারেন না।

বিজেসি বলেছে, আমরা এরই মধ্যে লক্ষ্য করছি নুর সাংবাদিকের নাম্বার প্রকাশ করার পর থেকেই নুরের অনুসারীরা ঐ সাংবাদিকের নাম্বারে ফোন করে লাগাতার অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করার পাশাপাশি তাকে হত্যাসহ নানান হুমকিও দিচ্ছেন। সেইসাথে তার অনুসারীরা একাত্তরকে বর্জনের আহ্বান জানিয়ে ফেসবুক পেজ খুলে সেখানে নানান উস্কানীমূলক অসত্য বক্তব্য প্রচার করেছেন। সাথে যুক্ত হয়েছে ধর্মান্ধ মৌলবাদী চক্রও। নুর ও তার অনুসারীদের এই আচরণ স্বাধীন সাংবদিকতা ও সব ধরণের নৈতিকতা বিরোধী। এই ধরণের কর্মকাণ্ড প্রচলিত আইনেরও পরিপন্থী।
বিজেসি অনতিবিলম্বে এইসব কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। সেইসাথে নুর ও তার অনুসারীদের আহ্বান জানাচ্ছে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার। নইলে নুরকে গণমাধ্যমের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব উস্কানিমূলক ও অসত্য বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে তা সরিয়ে ফেলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)।