প্রচ্ছদ রাজনীতি মতিয়া চৌধুরীর সাফল্যেই কি ব্যর্থ রাজ্জাক?

মতিয়া চৌধুরীর সাফল্যেই কি ব্যর্থ রাজ্জাক?

14
মতিয়া চৌধুরীর সাফল্যেই কি ব্যর্থ রাজ্জাক?

১৯৯৬ সালের ২৩ জুন। দীর্ঘ ২১ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলো আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শপথ নিলো আওয়ামী লীগ সরকার। পরদিন ২৪ জুন কৃষিমন্ত্রণালয়ে পা রাখলেন নতুন কৃষিমন্ত্রী। রাস্তায় আন্দোলন করেছেন। অগ্নিকন্যা। কিন্তু কৃষির তিনি কি বুঝবেন? অনেকেই বললো একজন কৃষি বিদকে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিলেই ভালো হতো। যাই হোক, দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠকে বসলেন। জানালেন ‘ধান উৎপাদন কৃষি মন্ত্রণালয়ের একমাত্র কাজ নয়। সব শস্য পিয়াজ, আলু, শাক, সবজী ইত্যাদি উৎপাদনেও নজর দিতে হবে।’ প্রথম পাঁচ বছরে তিনি পাল্টে ফেলেছিলেন বাংলাদেশের কৃষি। যার উপর ভর করেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ।

২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে প্রথমে কৃষি মন্ত্রী হয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী। ক’দিনের মধ্যেই তাকে সরিয়ে এম কে আনোয়ারকে করা হয়েছিল কৃষি মন্ত্রী। পাঁচ বছরে তিনি কৃষির যে সর্বনাশ করেছেন, তাও সম্ভবত এক রেকর্ড। তার পাপের ফল ভোগ করতে হয়েছিল ড: ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্বাবধায়ক সরকারকে। এরপর আবার মতিয়া চৌধুরী। টানা ১০ বছর তিনি বাংলাদেশের কৃষিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন দেশকে। বারো মাস সবজী নিশ্চিত করেছেন। কৃষির আধুনিকীকরন, ইত্যাদি। অনেক কিছু করে কৃষি মন্ত্রী হিসেবে মতিয়া চৌধুরী সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছেন। মতিয়া চৌধুরী কৃষিমন্ত্রনালয়ের ব্যবস্থাপনা যেভাবে সাজিয়ে দিয়েছিলেন, তাতে নতুন কারো সমস্যা হবার কথা নয়। আর সেই বিবেচনা থেকেই হয়তো একজন কৃষিবিদকেই বেছে নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ড. আবদুর রাজ্জাককে তুলে দেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ড. রাজ্জাক গত প্রায় দুবছরে যে ভালো করেন নি এমনটা নয়। কিন্তু ধান কাটা নিয়ে উদ্বিগ্নতা, পেঁয়াজ সংকট, এখন আলু নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে ঘুরে ফিরে মতিয়া চৌধুরীর কথা সামনে আসছে। প্রশ্ন করছে, সাধারণ মানুষ- কই মতিয়া চৌধুরীর সময় তো এভাবে পেয়াজ সংকট হয়নি। তখন তো আলুর দাম এভাবে বাড়েনি। প্রতিটা সংকটে মতিয়া চৌধুরীকে স্মরণ করার মধ্যে দিয়েই যেন ড. আবদুর রাজ্জাক ব্যর্থ হচ্ছেন। মতিয়া চৌধুরী আগাম কৃষি ভাবনা নীতি থেকে তিনি সরে এসেছেন বলেও কেউ কেউ বলেন। আগাম কৃষি ভাবনা নীতি হলো, কোন পণ্যের চাহিদা কি হবে, বিশ্ব বাজারের কি অবস্থা, আবহাওয়া ইত্যাদি হিসেব নিকেশ করে একটা প্রক্ষেপন তৈরী করা। পিয়াজ এবং আলু সংকটে দেখা যাচ্ছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঐ প্রক্ষেপন ব্যবস্থা আগের মতো কার্যকর নেই। কৃষি মন্ত্রণালয় আবার ধানমুখী হয়ে পরেছে। তাই ড. আবদুর রাজ্জাকের জন্য এই মন্ত্রণালয়ে সফল হওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জের। মতিয়া চৌধুরীর কৃষি ভাবনার ছায়ায় তাকে সাফল্য খুঁজতে হবে।