প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় এমপি নিক্সন চৌধুরী তাহলে ফেঁসে যাচ্ছেন!

এমপি নিক্সন চৌধুরী তাহলে ফেঁসে যাচ্ছেন!

42
এমপি নিক্সন চৌধুরী তাহলে ফেঁসে যাচ্ছেন!

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানার ফোনে কল করে সেখানকার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী। তেমনই একটি ফোনালাপের অডিও ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’।
এছাড়াও চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) নির্বাচনে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অত্যন্ত মানহানিকর ও অশ্রাব্য ভাষায় হুমকি ও গালিগালাজ করার অভিযোগ এনে স্বতন্ত্র এ এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিষয়টিকে নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী উল্লেখ করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দিয়েছেন ফরিদপুরের ডিসি অতুল সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এদিকে, বিধি বহির্ভূত আচরণের জন্য ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামীকালের মধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।
তবে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিক্সন চৌধুরীর দাবি করেন, নেতাকর্মীকে আটক করায় নালিশ করেছেন, গালিগালাজ করেননি। বক্তব্যকে ‘সুপার এডিট’ করা হয়েছে। যদি তার বিরুদ্ধে মামলা হয়, তবে ডিসির বিরুদ্ধেও হওয়া উচিত। নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলেও দাবি করেন নিক্সন চৌধুরী।
এ প্রসঙ্গে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওর প্রতিটি দাড়ি-কমা সত্য। কোনো এডিট হয়নি। কিন্তু এটা কিভাবে সামাজিক মাধ্যমে গেল সেটা জানি না। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃকপক্ষের কাছে অডিও’র ক্লিপসহ পাঠিয়েছি। কারণ যখন এভাবে হুমকি দেয়া হয় তখন দায়িত্ব নিরাপত্তার স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো। কিন্তু এটা কিভাবে লিক হয়ে গেল, সেটা বলতে পারছি না।

এমপি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আগামীকালের মধ্যেই মামলা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের একথা বলেন।তিনি বলেন, ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করার অপরাধে এ মামলা দায়ের করা হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এ মামলা দায়ের করবেন। ডিবিসি ও যমুনা টিভি
এর আগে, জেলা প্রশাসককে (ডিসি) হুমকি ও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সনের বিরুদ্ধে।
ইসি সূত্র জানায়, ১০ অক্টোবর ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচন কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের হুমকি ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করেন নিক্সন চৌধুরী। এ ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অশোভন আচরণের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনেও চিঠি দেয়। সূত্র আরও জানায়, ওই চিঠি পর্যালোচনা করে কমিশন সচিবালয় উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশিত গালিগালাজের বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত জানিয়ে নিক্সন চৌধুরী বলেন, আমার আর ইউএনওর কথাই শুধু ভাইরাল হয়নি, পুলিশ প্রশাসন ও ইউএনওর কথাও ভাইরাল হয়েছে। এটা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য কোনো মহল কাজটা করেছে। এটা সরকারের দায়িত্ব খুঁজে বের করা। আমার বিরুদ্ধে মামলা হলে তবে ডিসির বিরুদ্ধে মামলা হবে।
আমি যদি নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করি তাহলে পরদিন সকালে ডিসি সাহেব নির্দেশ দিয়ে ইউএনওকে কেন আমার বাড়িতে পাঠালেন? ইউএনও কি নির্বাচনকালীন ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে আমার বাড়িতে আসতে পারেন? তাহলে তো তিনিও আইন ভঙ্গ করেছেন। আমার কথা হল, আমি যদি আইন ভঙ্গ করে থাকি তাহলে ডিসি সাহেব আইন ভঙ্গ করেছেন, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করেছেন। তার বিরুদ্ধেও ক্যাবিনেটে ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আমি যদি কোনো আইন ভঙ্গ করে থাকি তবে অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে মামলা হবে। আমার একার বিরুদ্ধে কেন মামলা হবে? আইন ভঙ্গ তো ডিসিও করেছেন।