প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় প্রশাসনে বিএনপি-জায়ামাতপন্থীরা নতুন ষড়যন্ত্রে

প্রশাসনে বিএনপি-জায়ামাতপন্থীরা নতুন ষড়যন্ত্রে

189
প্রশাসনে বিএনপি-জায়ামাতপন্থীরা নতুন ষড়যন্ত্রে

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনে বিরোধ উসকে দেয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি-জামাত। প্রশাসনের ভেতর বিএনপি-জামাতপন্থীরা হঠাৎ করে সক্রিয় হয়েছে। তারা প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য কাজ করছে এরকম নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের সাথে ৪ আসনের এমপির বিরোধকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের স্তরে বিএনপি-জামাত পন্থী সরকারী কর্মকর্তা রয়েছে। কিছু বিএনপি-জামাতপন্থী সরকারী কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রূপ বদল করেছে। তারা এখন আওয়ামীপন্থী হয়েছেন। কেউ আওয়ামীপন্থীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে রুমমেট হবার সুবাদে আওয়ামীপন্থী হয়ে তারা ‘সচিব’ পর্যন্ত হয়েছেন। কিন্তু সুযোগ পেলেই তারা আসল রূপে ফিরে আসেন।

ফরিদপুরের ঘটনার পর এরকম ‘আওয়ামীপন্থী’ বনে যাওয়া এক উর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তা কয়েকজনকে টেলিফোন করেছেন, ঐ আমলা টেলিফোনে বলেছেন ‘এসব কি হচ্ছে? আমরা কি চুপচাপ বসে থাকবো? কিছু একটা করতে হবে।’ উর্ধ্বতন আমলাদের একজন বাংলা ইনসাইডারকে জানিয়েছেন, তাদের উস্মা এবং ক্ষোভ ঐ ঘটনার জন্য নয় বরং ঐ ঘটনাকে অন্যখাতে নিয়ে যাওয়ার জন্যই। এজন্য প্রশাসন ক্যাডারের নেতারা তাদের শান্ত করেছেন। কিন্তু, কিছু বিএনপি-জামাতপন্থী আছে যাদের পরিচয় প্রকাশ্য। তারা ‘রূপ বদল’ করার সুযোগ পান নি। এদের অনেকের পদোন্নতি হয়নি। উপ-সচিব কিংবা যুগ্মসচিব পর্যায়ে পরে আছে। এরা এখন নানা ভাবে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। বিএনপিপন্থী একজন আমলা, যার ব্যাচের অনেকে এখন সচিব।

কিন্তু তিনি যুগ্ম সচিব অবস্থায় অবসরের প্রহর গুনছেন, তিনি অন্তত তিনজন জেলা প্রশাসককে ফোন করেছেন। ফরিদপুরের ঘটনার পর তাদেরও কিছু করা উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছেন। অন্তত তার জেলায় পাবলিক সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভা করে ঘটনার নিন্দা জানানোর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রশাসনে বিএনপি জামাত পন্থীরা চাইছে, মাঠ প্রশাসনে একটা ‘বিদ্রোহ’ পরিস্থিতি তৈরী করা। এরফলে সরকারের উপর চাপ বাড়বে।
উল্লেখ্য বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনে নিয়মিত পদোন্নতির ব্যবস্থা করেছে। এরফলে প্রশাসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার সম্পর্কে একটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরী হয়েছে। বিএনপি-জামাতপন্থীরা এখন সেটাকে এক বৈরীতার জায়গায় নিয়ে যেতে চাইছে। যেন সরকার নতুন সংকটে পরে।

ঢাবি ছাত্রীকে ‘দুশ্চরিত্র’ বলায় দুঃখ প্রকাশ করলেন নুর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছেন ঢাবির সেই ছাত্রী। আজ বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিনি এই মামলা করেন। শুনানি শেষে ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন মামলাটি আমলে নেন এবং ওই ছাত্রীর বক্তব্য রেকর্ড করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুর আজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ধর্ষণ মামলায় ওই ছাত্রী আমাকে একেবারেই ভিত্তিহীনভাবে জড়িয়েছেন। এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা।’

ওই ঢাবি ছাত্রীকে নিয়ে সম্প্রতি করা তার মন্তব্য নিয়ে নুর বলেন, ‘সম্প্রতি আমার সংগঠনের পাঁচজনকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ, কিন্তু স্বীকার করেনি। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। তাই লাইভে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছি, কিন্তু ওই ছাত্রীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইনি।’
নুরের বিরুদ্ধে ঢাবি ছাত্রীর চরিত্রহননের লক্ষ্যে অশোভন ভাষা ব্যবহারের যে অভিযোগ আনা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চেয়েছি তিনি “দুশ্চরিত্রাহীন”, তিনি “দুশ্চরিত্র” নয়।’
নুর বলেন, ‘তিনি (ছাত্রী) প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকলে, তার বিচার চাইতে পারেন। এর বিচার আমরাও চাই। আমরা তার পাশে আছি।’
তিনি বলেন, ‘আমার কথায় তিনি যদি দুঃখ পেয়ে থাকেন, তাহলে আমিও তার কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে ধর্ষণের সহযোগী, অপহরণকারী উল্লেখ করে তিনি আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করে যাচ্ছেন, এতে আমরাও তো সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি, তিনি নিজেই তো আমাদের ‘দুশ্চরিত্র’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এগুলো কি অপরাধ নয়?’